সংসদে উত্থাপিত ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬ বিল নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্স। সংগঠনটির আহ্বায়ক মাওলানা আশরাফ উদ্দিন মাহদি বলেছেন, বিলটির উদ্দেশ্য ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে মুসলিম উত্তরাধিকার আইন ও প্রচলিত হেবা ব্যবস্থার সঙ্গে সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে। তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন করতে হবে।
ওলামা অ্যালায়েন্সের মতে, বিলের ভাষা সরাসরি কোরআন-সুন্নাহর বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক—এমন সিদ্ধান্ত এখনই দেওয়া সমীচীন নয়। তবে প্রস্তাবিত নতুন দানপদ্ধতি এবং মুসলিম পারিবারিক আইনের উত্তরাধিকারব্যবস্থাকে পাশ কাটিয়ে বিকল্প আইন তৈরির দীর্ঘদিনের বিতর্কের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিলে এ নিয়ে উদ্বেগের যথেষ্ট কারণ রয়েছে।
সোমবার ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক মাওলানা আশরাফ উদ্দিন মাহদি স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগের কথা জানানো হয়।
ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্স বলেছে, বিলটির ১২২এ ধারায় এমন একটি নতুন ধরনের সম্পত্তি হস্তান্তর পদ্ধতির প্রস্তাব করা হয়েছে, যেখানে সম্পত্তি দান করার পরও দাতা আজীবন ওই সম্পত্তির ভোগদখলের অধিকার সংরক্ষণ করতে পারবেন। এ ধরনের হস্তান্তরকে মুসলিম আইনের দৃষ্টিতে বৈধ হেবা হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।
মুসলিম আইনে হেবার বৈধতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো গ্রহীতার কাছে সম্পত্তির দখল বা কবজা হস্তান্তর। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় দাতা যদি নিজের জন্য আজীবন ভোগের অধিকার সংরক্ষণ করেন এবং গ্রহীতা সম্পত্তির ওপর কার্যকর দখল ও মালিকানা প্রয়োগ করতে না পারেন, তাহলে এটিকে হেবা হিসেবে গণ্য করার সুযোগ নেই।
ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের মতে, হেবা হিসেবে হস্তান্তর সম্পন্ন না হলে মৃত্যুর পর ওই সম্পত্তি উত্তরাধিকারযোগ্য সম্পত্তির অংশ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার কথা। কিন্তু প্রস্তাবিত নতুন ব্যবস্থায় দাতা মৃত্যুবরণ করার পরও উত্তরাধিকারীরা সম্পত্তির নিজ নিজ অংশ দাবি করতে পারবেন না।
১২২এ(১)-এ বলা হয়েছে, “Notwithstanding anything contained in any other law for the time being in force”। অর্থাৎ, বিদ্যমান অন্য কোনো আইনের সঙ্গে সংঘাত হলে প্রস্তাবিত বিধানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে ১২২এ(৪)-এ বলা হয়েছে, “A transfer under this section shall not be affecting the validity of Heba.”
নতুন দানপদ্ধতির সঙ্গে প্রচলিত হেবা আইন বা মুসলিম পারিবারিক আইনের কোনো বিধানের সংঘাত হলে কোনটি প্রাধান্য পাবে, এ প্রশ্ন থেকে যায়। একদিকে নতুন বিধানকে অন্য আইনের ওপর প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে বলা হচ্ছে এতে হেবার বৈধতা ক্ষুণ্ন হবে না। ফলে দুটি উপধারার পারস্পরিক সম্পর্ক এবং বাস্তব প্রয়োগের বিষয়টি স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্স বলেছে, বিলটি নিয়ে আইন বিশেষজ্ঞ, ইসলামি আইন ও ফিকহ বিশেষজ্ঞ, সংশ্লিষ্ট অংশীজন এবং সংসদ সদস্যদের সমন্বয়ে একটি বিস্তৃত পর্যালোচনা ও মতবিনিময় হওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে মুসলিম উত্তরাধিকার আইন, হেবা এবং মুসলিম পারিবারিক আইনের সঙ্গে প্রস্তাবিত বিধানগুলোর সম্পর্ক স্পষ্ট না করে বিলটি পাস করা হলে ভবিষ্যতে আইনগত জটিলতা তৈরি হতে পারে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


