পটুয়াখালীর মহিপুরে মামলার প্রকৃত আসামি না হয়েও ২০ দিন কারাগারে থাকতে হয়েছে মো. জলিল হাওলাদার নামে এক ব্যক্তিকে। মামলার আসামির সঙ্গে নাম ও বাবার নাম মিলে যাওয়ায় পরিচয় যাচাইয়ে ভুল করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। অথচ প্রকৃত আসামি ও গ্রেপ্তার হওয়া জলিলের মায়ের নাম ও পরিচয়ের অন্যান্য তথ্য ভিন্ন।
সোমবার পটুয়াখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম আমলী আদালতের বিচারক আবু বকর সিদ্দিক বিষয়টি অবহিত হয়ে জলিল হাওলাদারের জামিন মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে আগামী ধার্য তারিখে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও মামলার বাদীকে আদালতে সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার নথি ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২ লাখ ৭৩ হাজার ৫১৩ টাকা পাওনা আদায়ের দাবিতে ২০২৩ সালে মো. জলিল হাওলাদার নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পটুয়াখালী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন ব্যবসায়ী মো. আলমগীর হোসেন। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, পাওনা পরিশোধের জন্য দেওয়া একটি চেক ২০২৩ সালের ২৭ মার্চ অপর্যাপ্ত তহবিলের কারণে ব্যাংক থেকে প্রত্যাখ্যাত হয়।
ওই মামলায় আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে গত ১৯ আগস্ট মহিপুর থানা পুলিশ মো. জলিল হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করে। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
তবে কারাগারে যাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে যাচাই-বাছাই করলে বেরিয়ে আসে ভিন্ন তথ্য। গ্রেপ্তার হওয়া জলিল মামলার প্রকৃত আসামি নন। প্রকৃত আসামি ও গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম ও বাবার নাম একই হলেও তাদের মায়ের নাম ও গ্রামের পরিচয়ে অমিল রয়েছে। পরিবারের দাবি, মামলার প্রকৃত আসামি বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন।
গ্রেপ্তার হওয়া জলিলের জামাতা জাহাঙ্গীর আলম জানান, তার শ্বশুর একজন সাধারণ জেলে। নাম ও বাবার নাম মিলে যাওয়ায় তাকে ভুলভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মায়ের নাম ও অন্যান্য পরিচয় যাচাই করা হলে এমন ঘটনা ঘটত না।
পটুয়াখালী জেলা জজ কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও সাবেক এপিপি মো. হুমায়ুন কবির বাদশা বলেন, ‘মামলার প্রকৃত আসামি প্রবাসে থাকেন। নাম ও বাবার নামের সাদৃশ্য থাকায় আমার মক্কেলকে ভুলভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি মামলার সঙ্গে কোনোভাবেই সম্পৃক্ত নন।’
তিনি আরও বলেন, ‘সহজ-সরল একজন নিরপরাধ মানুষকে ভুলভাবে গ্রেপ্তার করে ২০ দিন কারাগারে রাখা হয়েছে। গ্রেপ্তারের আগে নাম ও বাবার নামের পাশাপাশি মায়ের নাম, পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা, মোবাইল নম্বরসহ অন্যান্য পরিচয় যাচাই করা পুলিশের আরও সতর্কতার সঙ্গে প্রয়োজন ছিল। তা না হলে নিরপরাধ মানুষ হয়রানি ও কারাভোগের শিকার হতে পারেন।’
এ বিষয়ে মহিপুর থানার ওসি মো. শামীম হাওলাদার বলেন, ‘আদালত থেকে পাঠানো গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় আসামির নাম ও বাবার নাম ছিল। সেই নামের সঙ্গে মিল থাকায় জলিল হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে পরোয়ানায় মায়ের নাম, ছবি বা মোবাইল নম্বর না থাকায় অনিচ্ছাকৃতভাবে এ ভুল হয়েছে।’
তিনি জানান, পরোয়ানা অনুযায়ী এসআই শহীদুল ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছিলেন। পরবর্তীতে বিষয়টি যাচাই করে প্রকৃত তথ্য জানা যায়।
পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) সাজেদুল ইসলাম সজল বলেন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় মায়ের নামসহ পূর্ণাঙ্গ পরিচয় না থাকায় অনিচ্ছাকৃতভাবে এ ভুল হয়েছে। বিষয়টি জানার পর ওই ব্যক্তির জামিনের জন্য সুপারিশ করা হয়। পরে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেছেন।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিলের ক্ষেত্রে এ ধরনের ভুল এড়াতে আসামির পূর্ণাঙ্গ পরিচয় ও প্রয়োজনীয় তথ্য পরোয়ানায় উল্লেখ করার জন্য আদালতের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এদিকে নির্দোষ হয়েও ২০ দিন কারাভোগের ঘটনায় পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পরিচয় যাচাইয়ের ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা অবলম্বন করা হলে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানো সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

