বিএনপির হাত ধরেই হবে দেশের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন : মির্জা ফখরুল

বিএনপির হাত ধরেই হবে দেশের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন : মির্জা ফখরুল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এদেশে যা কিছু মহান, তা অর্জিত হয়েছে বিএনপির আমলে। আর বিএনপির হাত ধরেই দেশের মানুষের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন অর্জিত হবে।

তিনি বলেন, বিএনপি মানেই গণতন্ত্র, বিএনপি মানেই উন্নয়ন, বিএনপি মানেই ফ্রিডম।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি অডিটোরিয়ামে জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি হচ্ছে সেই দল, যারা সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চায়। তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা দীর্ঘদিন ধরে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করে আসছি। এই সংগ্রামে আমরা সফল হয়েছি, ভবিষ্যতেও হবো।

তিনি দাবি করেন, বিএনপির প্রায় ৬০ লক্ষ নেতাকর্মীকে গুম, খুন, মামলা ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় ছয় বছর কারাগারে রাখা হয়েছে। তারেক রহমানকে বিদেশে নির্বাসিত করা হয়েছে। কিন্তু এত কষ্ট আর ত্যাগের পরও মানুষের মুখে হাসি আছে, স্বপ্ন আছে- এই স্বপ্নই আমাদের এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

স্বাধীনতার পর মৌলিক অধিকার হরণ ও ১৯৭৫ সালের বাকশালের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালে গণতন্ত্রের কবর রচনা হয়েছিল। বিএনপির প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আবার জনগণ স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। খালেদা জিয়া সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন, জনগণের ইচ্ছাকে গুরুত্ব দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি চালু করেন।

অনুষ্ঠানে বেগম খালেদা জিয়ার ৭ আগস্টের বক্তব্য স্মরণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, বেগম জিয়া বলেছিলেন- প্রতিশোধ নয়, প্রতিহিংসা নয়। ক্ষমা ও আদর্শিক লড়াইয়ের মাধ্যমেই আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। আজকের স্মরণসভা আমাদের সেই আদর্শিক পথে চলার শপথ করায়।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমানউল্লাহ আমান বলেন, "এ মঞ্চে দাঁড়িয়ে থাকা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আমাদের কারাগারে দিন কেটেছে। তারা গ্রামে থাকতে পারেনি। প্রত্যেকে নির্বাসিত জীবনযাপন করেছে। কেউ কেউ ঢাকায় এসে রিকশা চালিয়েছে, কেউ নির্মাণ শ্রমিক হয়েছে। তাদের এই ত্যাগই আজকের অভ্যুত্থান ও গণজাগরণের ভিত্তি তৈরি করেছে।"

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, যারা জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে বিষোদগার ও কালিমা লেপন করবে ইতিহাস তাদের ক্ষমা করবে না। দেশনায়ক তারেক রহমানের বিরুদ্ধে যারা মিথ্যাচার করছে, তারা ভুলে গেছে তারেক রহমানের বাবার হাতেই এই দেশ গড়ে উঠেছিল।

তিনি জামায়াতকে উদ্দেশ্য করে বলেন, একশ বছর ধরে তারা রাজনীতি করে। পাকিস্তানে তাদের ভোট ছিলো না, বাংলাদেশেও নেই। এজন্য নির্বাচনকে কীভাবে বিলম্বিত করা যায় তারা সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে।

স্মরণ সভায় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে ছাত্রদলের ভূমিকা সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ থাকবে বলে আমরা আশাবাদী।

তিনি বলেন, ছাত্রদলের সহীদদের প্রতি বিপ্লবীদের সহানুভূতি পোস্টার ব্যনারেই সীমাবদ্ধ। একটি বারের জন্যও ছাত্রদলের শহীদের কবর জেয়ারতের সময় তাদের হয়ে উঠে না। দীর্ঘ পরেরো বছর ধরে যারা ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে লড়াই সংগ্রাম করতে গিয়ে গুম হয়েছে খুন হয়েছে, তাদের নাম একটি বারের জন্যও তারা মুখে নেয় না।

রাকিব দাবি জানান, ছাত্রদলের সকল শহীদকে রাষ্ট্রীয়ভাবে গ্যাজেটভুক্ত করতে হবে। কারণ তারা এই দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

স্মরণসভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানসহ বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ। এছাড়া ছাত্রদলের কেন্দ্রীয়, ঢাকা মহানগর ও বিভিন্ন শাখার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন