পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীসহ বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক এবং মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমদ।
বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে তারা বলেন, মাহে রমজানের এক মাসব্যাপী সিয়াম সাধনা মানুষকে আত্মসংযম, ন্যায়পরায়ণতা ও তাকওয়ার শিক্ষা দেয়। পবিত্র ঈদ সেই শিক্ষাকে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনে প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, বিশ্ব আজ অশান্তি, সংঘাত ও অন্যায়ের ভারে বিপর্যস্ত।
তারা উল্লেখ করেন, মধ্যপ্রাচ্যে বিশেষত ফিলিস্তিন ও ইরানে চলমান দখলদার ইসরাইল এবং আমেরিকার আগ্রাসনে পরিস্থিতি দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। নিরীহ নারী ও শিশু সহ অসংখ্য মানুষ নিহত ও আহত হচ্ছে, এবং বসতভিটা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছে। একইভাবে গোটা মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে যুদ্ধ ও উত্তেজনা মুসলিম বিশ্বকে গভীর অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। এমন এক ভয়াবহ পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের মুসলমানদের ঈদ উদযাপন নিঃসন্দেহে বেদনাবিধুর ও উদ্বেগময়। প্রবাসে অবস্থানরত লক্ষ লক্ষ বাংলাদেশিও চরম উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে ঈদ পালন করতে বাধ্য হচ্ছেন। আল্লাহ আমাদেরকে এই পরিস্থিতি থেকে দ্রুত উত্তরণের তাওফিক দিন।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস নেতারা আরো উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিও ক্রমেই জটিল ও অস্থির হয়ে উঠছে। জুলাই সনদ ও গণভোটের রায়কে কেন্দ্র করে শাসকগোষ্ঠীর যেকোনো একতরফা বা হঠকারী সিদ্ধান্ত জনগণের অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করবে। একই সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক সংকট আরও জটিল হবে এবং সংঘাতমুখী পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
তারা বলেন, ঈদের প্রকৃত শিক্ষা হচ্ছে ত্যাগ, সাম্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ। তাই সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহবান—গরিব, অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ঈদের আনন্দকে সবার মাঝে ছড়িয়ে দিন। একইসাথে দেশের সার্বিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও কল্যাণের জন্য সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
তারা বলেন, পবিত্র রমজানের এই শেষ সময়ে এবং ঈদকে সামনে রেখে সর্বান্তকরণে মহান আল্লাহর কাছে আমাদের প্রার্থনা—তিনি যেন মুসলিম উম্মাহকে সকল সংকট থেকে মুক্তি দেন, নিপীড়িত মানুষের দুঃখ-কষ্ট লাঘব করেন এবং বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশ্বে শান্তি, ন্যায় ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠা করেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

