ক্ষমতায় গেলে বিএনপি মানুষের ভোটের অধিকার ও বাক স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সোমবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী যুবদল আয়োজিত ‘ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন ও আমার না বলা কথা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এই কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ৭৮ যুবদলের পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা ও উপহার দেওয়া হয়।
তারেক রহমান বলেন, দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। বিএনপি মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে কাজ করছে। আগামীর নীতি জনগণের উন্নয়নের রাজনীতি। ভোটের অধিকার ও বাক স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে বিএনপি। জনগণই বিএনপির একমাত্র শক্তি।
বিএনপি কর্মমুখী শিক্ষা বাস্তবায়নে কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সকল কাজ করবে বিএনপি। ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পকে বিশ্ববাজারে ছড়িয়ে দিতে কাজ করবে সরকার। বিএনপি সরকারে এলে কর্মক্ষম জনগণকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তৈরি করে কর্মসংস্থান তৈরি করবে। এমনকি বিভিন্ন ভাষায় প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের বিদেশে কাজ করার সক্ষমতা তৈরিতে কাজ করবে বিএনপি।
তারেক রহমান বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে সারা দেশে হেলথ কেয়ার চালু করা হবে। এখানে বেশির ভাগ কর্মী হবে নারী। সরকার গঠন করলে শহীদ জিয়াউর রহমানের খালখনন কর্মসূচি আবারও শুরু করবে বিএনপি।
ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে যুবদল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে জানিয়ে তিনি বলেন, তবে শুধু অতীতের সাফল্যই নয়—ভবিষ্যতের পথও নির্ধারণ করবে জনগণের আস্থা। আমি যুবদলের প্রতি আহ্বান জানাই, জনগণের প্রতি আস্থা রাখুন, তাদের আস্থার প্রতিদান দিন। কারণ যে নেতৃত্ব জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারে, সেই-ই প্রকৃত নেতা। আর জনগণের সহায়তা ছাড়া নেতৃত্ব দেওয়া সম্ভব নয়।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তারেক রহমান আমাদের যে পথ দেখাচ্ছেন, অর্থনীতি ও রাজনীতি সম্পর্কে তিনি দেশের সামনে যে স্বপ্ন তুলে ধরছেন তা শুনে আমার মার্টিন লুথার কিংয়ের সেই ঐতিহাসিক কথা ‘আই হ্যাভ অ্যা ড্রিম’ মনে হয়। সেই ড্রিম নিয়েই আমরা সামনে এগিয়ে যাবো এবং জয় করবো।
তিনি বলেন, এটাকে কাকতালীয় বলবো নাকি ভবিতব্য বলব জানি না। যখনই দেশ ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়, অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে যায় তখনই বিএনপির ওপর দায়িত্ব এসে পড়ে সেটিকে পুনর্গঠন করার। প্রতিটি সময়ে তাই ঘটেছে। আজ আবার হয়তো বা বিএনপিকেই সেই দায়িত্ব নিতে হবে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।
দেশে ষড়যন্ত্র হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজ দেশে অস্থিরতা তৈরি করার একটি ষড়যন্ত্র চলছে। যেন বাংলাদেশের গণতন্ত্র সঠিকভাবে প্রতিষ্ঠিত না হয়। বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল যতদিন টিকে থাকবে ততদিন গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার কোনো শক্তি বাংলাদেশে দাঁড়াতে পারবে না।
অনুষ্ঠানের সভাপত্বিতের বক্তব্য যুবদল সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না বলেন, বিগত ১৫ বছরে ২৪ ঘন্টায় রাজনীতির মাঠে আন্দোলনে ছিলো। তারপর ধীরে ২৪ সালে ৫ই আগষ্ট স্বৈরাচার সরকারের পতন হয়।
অনুষ্ঠানে যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নরুল ইসলাম নয়নের সঞ্চালনায় ও যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্নার সভাপত্বিতে বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহাদী আমীন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এছাড়া গণঅভ্যুথানে যুবদলের শহীদ পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

