জুলাই ক্রেডিট নিয়ে বিভাজন নয় বরং রাষ্ট্র মেরামতে জুলাই শক্তির আরো সুদৃঢ় ঐক্য প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন খেলাফত মজলিসের মহাসচিব অধ্যাপক ড. আহমদ আবদুল কাদের।
তিনি বলেন, দেশের এই ক্রান্তিকালে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে ইনসাফভিত্তিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এটাই হবে প্রকৃত অর্থে জুলাই বিপ্লবের সফল পরিণতি।
বৃহস্পতিবার বিকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিসের উদ্যোগে “জুলাই বিপ্লব: প্রত্যাশা, প্রাপ্তি ও ভবিষ্যতের পথরেখা“ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ রায়হান আলী'র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে আহমদ আবদুল কাদের আরও বলেন, আওয়ামী বিরোধী সকল শক্তি-সুধীজনই হচ্ছে ঐতিহাসিক জুলাই বিপ্লবের অংশীদার। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আজ কেউ কেউ সেই বিপ্লবের কৃতিত্ব নিয়ে বিভাজনের রাজনীতি করছে, যা জাতিকে আবারও দ্বিধা ও অনৈক্যের পথে ঠেলে দিচ্ছে। অথচ এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, রাষ্ট্র মেরামতের লক্ষ্যে 'জুলাই শক্তি’র মাঝে আরও সুদৃঢ় ঐক্য গড়ে তোলা।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণআন্দোলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটে। কিন্তু প্রায় এক বছর পার হয়ে গেলেও আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত বিজয় ও আকাঙ্ক্ষার পূর্ণতা পাইনি। ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটলেও কাঠামোগতভাবে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি এখনো বহাল রয়েছে। বাস্তবতা হলো, ফ্যাসিবাদী শক্তির সহযোগিরা আজও পুরোপুরি বিচারের আওতায় আসেনি।
ড. কাদের আরও বলেন বর্তমান সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণের পরিবর্তে বিদেশি এজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। তথাকথিত মানবাধিকার অফিস, মানবিক করিডরের মতো নানা পাঁয়তারা দেশের আভ্যন্তরীণ স্বার্থকে বিপন্ন করছে। শিক্ষা খাতে এখনও দখলদারমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত হয়নি, শিক্ষায় কাঙ্ক্ষিত সংস্কারের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।
তিনি সতর্ক করেন, মানবাধিকার সংস্থার নামে পশ্চিমা প্রভাব ও মতবাদ সৃষ্টিকারী কোনো প্রতিষ্ঠানের অপতৎপরতা যেন এ দেশে শেকড় গেড়ে বসতে না পারে, সে বিষয়ে আমাদের সজাগ থাকতে হবে।
সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আয়োজক সংগঠনের প্রাক্তন কেন্দ্রীয় সভাপতি ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সল । সেক্রেটারি জেনারেল কে এম ইমরান হুসাইনের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. আ খ ম ইউনুস, এম আই এস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আরিফুল ইসলাম অপু, খেলাফত মজলিস- ঢাকা জেলা শাখার সহ-সভাপতি ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক অধ্যাপক একেএম এনামুল হক এবং সংগঠনের প্রাক্তন কেন্দ্রীয় সভাপতি বিলাল আহমদ চৌধুরী।
ছাত্র সংগঠনের নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল নূরুল ইসলাম সাদ্দাম, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের সহ সভাপতি মুনতাসীর আহমদ, ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো: শ্যামল মালুম, গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের সদস্য সচিব জাহিদ আহসান, গণতান্ত্রিক ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি মাসুদ রানা জুয়েল, জাগপা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুর রহমান ফারুকী, জাতীয় যুবশক্তির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় সংগঠন আহম্মেদ ইসহাক, ইসলামী ছাত্র সমাজের সভাপতি বি এম আমির জিহাদী, নাগরিক ছাত্র ঐক্যের সভাপতি মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম, ছাত্র মিশনের সভাপতি সৈয়দ মুহাম্মদ মিলন, ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের সাংগঠনিক সম্পাদক ইনামুল হাসান নাঈম, ন্যাশনাল ছাত্র মিশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজাউল ইসলাম, ছাত্র ফোরামের সাধারণ সম্পাদক রিয়াদ হোসেন, বৈষম্য বিরোধী কওমী ছাত্র ফোরামের সেক্রেটারি জুনাইদ আহমেদ মাকসুদ, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় শাখার প্রতিনিধি সালেহীন, জুলাই ফোর্সের সদস্য সচিব এম আবু বকর শেখ। এছাড়া ছাত্র মজলিসের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা উপস্থিত ছিলেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

