খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের মাসিক বৈঠকে নেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, গণঅভ্যুত্থানে পরাজিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির সুযোগে আবারো সংগঠিত হতে শুরু করেছে।
বুধবার গোপালগঞ্জে তারা ব্যাপক ধ্বংসাত্মক অপতৎপরতা চালায়। এদেরকে ছাড় দেওয়ার কোন সুযোগ নেই। সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যারা পদক্ষেপ নিতে ভয় পাচ্ছে কিংবা সমীহ করছে প্রশাসনের এমন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
তারা বলেন, এই ফ্যাসিবাদী অপশক্তি যাতে দেশের মানুষের জানমালের আর ক্ষতি করতে না পারে সরকারকে সতর্ক হতে হবে। পতিত ফ্যাসিস্ট-খুনীদের বিরুদ্ধে সব দেশপ্রেমিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
বুধবার রাতে খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় নির্বাহী বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী।
মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদেরের পরিচালনায় বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমির মাওলানা সাইয়্যেদ ফেরদাউস বিন ইসহাক, যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন, মুহাম্মদ মুনতাসির আলী, ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সল, অধ্যাপক মো: আবদুল জলিল, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক কাজী মিনহাজুল আলম, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মো: জহিরুল ইসলাম, প্রচার ও তথ্য সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুল হাফিজ খসরু, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রিফাত হোসেন মালিক, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাওলানা শায়খুল ইসলাম, খন্দকার শাহাবুদ্দিন আহমদ, মুফতি আবদুল হক আমিনী, জিল্লুর রহমান, অধ্যাপক মাওলানা আজিজুল হক, মাওলানা সাইফুদ্দিন আহমদ খন্দকার, আলহাজ নুর হোসেন, হাফেজ নুরুল হক, আবুল হোসেন, মাওলানা আজিজুল হক, আলহাজ আমির আলী হাওলাদার, অ্যাডভোকেট মাওলানা রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।
বৈঠকে নেতারা আরও বলেন, সম্প্রতি জঙ্গিবাদের অভিযোগে এমন কয়েকজন ব্যাক্তিত্বকে হেয় করা হয়েছে যারা নিয়মতান্ত্রিক ইসলামী রাজনীতির সাথে জড়িত। উগ্র ও তাকফিরী গোষ্ঠীকে এদেশের আলেম সমাজ বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে। ঢালাও অভিযোগের তদন্ত করার পূর্বেই কারো ব্যাপারে এমন গুরুতর অভিযোগ নতুন বাংলাদেশে তাওহীদি জনতা মেনে নিবে না।
ঢাকায় জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কমিশনের কার্যালয় স্থাপনের যে অনুমোদন সরকার দিয়েছে তা অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানাই। মার্কিন শুল্কারোপ হ্রাসে চলমান দরকষাকষিতে বাংলাদেশের সামরিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ লঙ্ঘিত হওয়ার মত প্রকাশ্য কিংবা গোপন কোন চুক্তি বরদাশত করা হবে না।
এছাড়া সংবিধানের মূলনীতিতে ‘মহান আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ পুনস্থাপন করা, নতুন করে যাতে কোন কর্তৃত্ববাদী শাসন আসন গেড়ে বসতে না পারে সে ব্যবস্থা করা, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কারে নির্বাচনে অর্থ ও পেশী শক্তির দাপট বন্ধে স্থায়ী বন্দোবস্ত থাকা এবং ঐকমত্যের ভিত্তিতে এই মাসের মধ্যেই জুলাই সনদ চূড়ান্ত করার দাবি জানানো হয়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

