আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা বাসার এখন এমপি প্রার্থী

স্টাফ রিপোর্টার

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা বাসার এখন এমপি প্রার্থী
ফাইল ছবি

জুলাই বিপ্লবে হত্যা মামলার পলাতক আসামি এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা আবুল বাসার খান ফরিদপুর-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য পদে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এরপর থেকে তিনি এলাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। সঙ্গে থাকছে তার বিশাল গাড়িবহর।

জানা যায়, জুলাই বিপ্লবের পর অনেকটা আত্মগোপনে থাকলেও আসন্ন সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর হঠাৎ সক্রিয় হয়ে ওঠেন আওয়ামী লীগ নেতা বাসার। গত ২৮ নভেম্বর ফরিদপুরের মধুখালীতে তার মালিকানাধীন রাজ্জাক জুট মিলের হলরুমে ফরিদপুর-১ (বোয়ালমারী, মধুখালী ও আলফাডাঙ্গা) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন। এ ঘোষণা অনুষ্ঠানে দুই শতাধিক সাংবাদিকসহ সহস্রাধিক লোককে রাতে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর বর্বরোচিত হামলা ও হত্যা মামলায় আব্বাস আলী বাদী হয়ে মিরপুর মডেল (ঢাকা) থানায় সম্প্রতি মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করে মামলা করেন। এ মামলায় এজহারভুক্ত ৯৫ আসামির মধ্যে ২৭ নম্বর আসামি হচ্ছেন বাসার। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাসার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সদস্য এবং ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের বর্তমান কমিটির ৫ নম্বর সদস্য।

ওই মামলার আসামি হিসেবে আরো রয়েছেন—ওবায়দুল কাদের, শেখ রেহানা, সজীব ওয়াজেদ জয়, সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন-অর-রশিদসহ ফ্যাসিবাদের দোসরদের সম্মুখ সারির প্রায় সবাই। বাসার ফ্যাসিবাদী আমলে আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী আব্দুর রহমানের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

গত ডিসেম্বরে পাওয়া আদালতের ‘ইনফরমেশন স্লিপ’ সূত্রে জানা যায়, বাসার মিরপুর মডেল থানার মামলা নম্বর ৮(৯)২০২৪, যা বর্তমানে নথি সংযুক্ত কাফরুল থানার মামলা নম্বর ০২(০৮)২০২৪ মামলার এজহারভুক্ত ৯৫ জন আসামির মধ্যে ২৭ নম্বর আসামি। আসামি আবুল বাসার খান অত্র মামলায় গ্রেপ্তার অথবা জামিনে নেই, মামলাটি তদন্তাধীন, ওই আসামি পলাতক আছেন।

সম্প্রতি আওয়ামী লীগের নেতা বাসার স্বতন্ত্র এমপি প্রার্থী হিসেবে প্রচার শুরু করলে সাধারণ ভোটাররা তাকে ‘অতিথি পাখি’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাস্যরসের খোরাক জোগাচ্ছে।

নির্বাচনি এলাকার সাধারণ ভোটার আসাদুজ্জামান মোল্লা বলেন, ‘ইতঃপূর্বে তিনি এলাকায় খুব একটা আসতেন না। তিনি আব্দুর রহমানের সঙ্গে ঢাকায় আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতেন। এভাবেই তার ব্যবসায়িক জগতে অনেকটা ফুলেফেঁপে ওঠা। তার নির্বাচন করাকে আমরা আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন হিসেবেই মনে করছি।’

এ প্রসঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ফরিদপুর জেলা শাখার সদস্যসচিব আনিসুর রহমান সজল বলেন, এটি স্পষ্টভাবেই ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসন ছাড়া আর কিছুই নয়। আওয়ামী লীগের পদধারী এবং এজহারভুক্ত আসামি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা জুলাই বিপ্লবে অংশগ্রহণকারীদের জন্য অত্যন্ত কষ্টের।

এসআই

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন