প্রধান উপদেষ্টার উদ্দেশ্যে প্রশ্ন রেখে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক বলেছেন, 'বাংলাদেশের তরুণ সমাজ রাজনৈতিক দল মিলে যখন একটা ঐক্য সৃষ্টি করলো ড. ইউনূসের নেতৃত্বে, সেই ঐক্যটা বিনষ্ট করা হচ্ছে কেন? কার প্রলোভনে, বা কার কান কথায় এমন হয়েছে?'
তিনি বলেন, 'বাংলাদেশে সাড়ে নয় মাস অতিবাহিত হলো, এখনো সংস্কার, সংস্কার। শাহবুদ্দিন নির্বাচন কমিশন সংস্কার করে আইন-শৃঙ্খলা পুনর্গঠন করে নির্বাচন দিয়ে দিয়েছিলেন। আজকে আপনিও পারবেন। শুধু নির্বাচন কমিশনটা হওয়ার পরে সকল দলকে নিয়ে যারা রাস্তায় ছিলো, যারা গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছে, যারা গণতন্ত্রের কথা বলেছে, ফ্যাসিস্টের বিরুদ্ধে কথা বলেছে, তাদেরকে নিয়ে আপনি একটি নির্বাচন দিয়ে দিতে পারেন।'
সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে অপরাজেয় বাংলাদেশ কর্তৃক 'শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৪তম শাহাদাত বার্ষিকী ও বাংলাদেশের গণতন্ত্র' শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান উপদেষ্টাকে উদ্দেশ্যে বিএনপির চেয়ারপারসনের এই উপদেষ্টা আরো বলেন, 'আপনার মতো একজন গুণীজন, সচেতন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে এমন একটি জায়গায় বসিয়েছে, যে ব্যক্তিটির তিন মাসের মধ্যে একটি নির্বাচন করার যোগ্যতা ছিলো। কেন সাড়ে নয় মাস অতিবাহিত হলো? আমি একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে নিজের বিবেকের কাছে প্রশ্ন করে নিজেই উত্তর পাই না। কেন আমাদের দলের সব সিনিয়র নেতাদের প্রত্যেকদিন নির্বাচনের কথা বলতে হবে? আপনার কী চীফ জাস্টিস শাহবুদ্দিনের কথা মনে নাই? তিনি তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন উপহার দিয়েছিলেন। আপনাকে কেন সাড়ে নয় মাস অতিবাহিত করতে হবে?'
এনসিপির উদ্দেশ্যে বিরোধীদলের সাবেক এই চিফ হুইপ বলেন, 'রাজনীতি করবেন ওয়েলকাম, গ্রামে যান মানুষকে বুঝান। আপনার কি সেটা আইডিয়োলজি প্রচার করেন? আইডিয়োলজি প্রচার না হতেই এখনো ঢাকার শহরে বসে বসে আটলান্টিক মহাসাগরের মতো বিএনপি দলের সমালোচনা করছেন। এক লুটেরা গেলে আরেক লুটেরা আসবে। আর এই লুট সাড়ে নয় মাসে কারা করছে, হিসাব বের হবে।'
আয়োজক সংগঠনের সহ-সভাপতি আমজাদ হোসেন চয়নের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন সিরাজীসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

