বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, কিছু মানুষের জীবনের গল্প কোনোদিন কোনো উপন্যাসে লেখা হয় না। আমাদের দেশের প্রবাসীরা হলেন ঠিক সেই রকম একদল মানুষ। যাদের পাঠানো রক্ত পানি করা রেমিট্যান্সে দেশের চাকা ঘোরে, অথচ তাদের নিজেদের জীবনটা কেটে যায় অন্তহীন এক ত্যাগের চাদরে ঢাকা পড়ে। বৃহস্পতিবার বিকেলে ফেসবুক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, ‘কিছু মানুষের জীবনের গল্প কোনোদিন কোনো উপন্যাসে লেখা হয় না। আমাদের দেশের প্রবাসীরা হলেন ঠিক সেই রকম একদল মানুষ। যাদের পাঠানো রক্ত পানি করা রেমিট্যান্সে দেশের চাকা ঘোরে, অথচ তাদের নিজেদের জীবনটা কেটে যায় অন্তহীন এক ত্যাগের চাদরে ঢাকা পড়ে।
পরদেশের এক চিলতে চারকোণা ঘরে যখন তীব্র জ্বর আসে, তখন কপালে হাত বুলিয়ে দেওয়ার কেউ থাকে না। সেই কঠিন অসুখ আর বুকফাটা একাকীত্ব লুকিয়ে তারা দেশের বাড়ির প্রিয় মানুষগুলোর সাথে ফোনে হাসিমুখে কথা বলেন। সবাইকে ভালো রাখার কী এক অদ্ভুত আর অসম লড়াই!

বছরের পর বছর কত উৎসব আসে, অথচ তাদের দিন কাটে চোখের পানিতে, দূর থেকে ভিডিও কলে প্রিয়জনদের উদযাপন দেখে। নিজের আদরের সন্তান কখন যে বড় হয়ে গেল, চোখের সামনে তার বেড়ে ওঠাটাই দেখা হলো না। এমনকি শেষ সময়ে জন্মদাতা বাবা-মায়ের কপালে হাত রেখে শেষ বিদায় জানানোর সুযোগটুকুও অনেকের ভাগ্যে জোটে না। দিনরাত হাড়ভাঙা খাটুনি আর শত অবহেলা সয়ে তারা পরদেশকে আলোয় আলোকময় করে তোলেন, অথচ দিনশেষে নিজের জন্য একটুখানি সুখও তারা জমা রাখতে পারেন না।
যে দেশের মানুষের আত্মত্যাগের মহিমা এতটা অতলান্ত, সেই প্রিয় স্বদেশে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আর নবপ্রভাতের উদয় আসবেই। সুদূর পরবাসে জমা হওয়া তাঁদের সেই নীরব ত্যাগের সহযাত্রী হয়ে আমরা আজ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ—হাতে হাত রেখে, পরম মমতায় একসাথে গড়ে তুলব আমাদের সেই বহু প্রতীক্ষিত স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ।
আল্লাহ তা'য়ালা আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধভাবে একটি সুখী-সমৃদ্ধ সোনার দেশ গড়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।’
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


