আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

আসিফ মাহমুদ

আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের শর্তে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা

স্টাফ রিপোর্টার

আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের শর্তে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা
আহত নেতাকর্মীদের দেখতে রাজধানীর ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এনসিপি নেতা আসিফ মাহমুদ। ছবি: সংগৃহীত

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের শর্তে তাদের সঙ্গে আঁতাতের মাধ্যমে বিএনপি নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠেতা পেয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ এখন বিএনপির নেতৃত্বে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রতিশোধ নিচ্ছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর কল্যাণপুরে ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি। নোয়াখালীর হাতিয়ায় নির্বাচনের দিন হামলায় গুরুতর আহত এনসিপি ও ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের দেখতে সেখানে যান আসিফ মাহমুদ।

বিজ্ঞাপন

বিএনপির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, জনগণের পূর্ণ সমর্থন না পেয়ে বিএনপি আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাতে গেছে এবং পুনর্বাসনের শর্তে ক্ষমতায় এসেছে। বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের অফিস চালু ও উদ্বোধনের ঘটনাও তিনি উল্লেখ করেন। তার দাবি, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা অবস্থায় এ ধরনের কর্মকাণ্ড আইনবিরোধী।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নেওয়ার পর এনসিপি মুখপাত্র সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সারা দেশে এনসিপি ও জোটের নেতাকর্মীদের ওপর পরিকল্পিত হামলা চলছে। এনসিপি যে ৩০টি আসনে নির্বাচন করেছে এবং যেখানে দলীয় কর্মীরা জোটপ্রার্থীদের পক্ষে কাজ করেছেন—সেসব এলাকায় হামলার ঘটনা বেশি ঘটছে।

আসিফ মাহমুদ বলেন, আমাদের কাছে যে তথ্য এসেছে, তাতে সারা দেশে প্রায় হাজারের কাছাকাছি নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। অনেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।

হাতিয়ার এক নেতার ওপর নৃশংস হামলার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, হামলাকারীরা তাকে মৃত ভেবে ফেলে রেখে যায়। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে ঢাকায় পাঠান। তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের বিএনপিতে অন্তর্ভুক্ত করে বিরোধী মত দমনে ব্যবহার করা হচ্ছে।

আসিফ মাহমুদ বলেন, সাধারণ ভোটাররাও হামলার শিকার হচ্ছেন। শুধু ভোট দেওয়ার কারণে একজনকে হত্যা করা হয়েছে। বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট, স্বর্ণালংকার ও অর্থ লুটের ঘটনাও ঘটছে।

আসিফ মাহমুদ বলেন, ৪০ থেকে ৪৬ শতাংশ মানুষ যদি আপনাদের ভোট না দিয়ে থাকে, তাদের দমন করে দেশ পরিচালনা করা যাবে না। তাদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকের মতো আচরণ করলে আমরা জনগণের পাশে দাঁড়াব।

অন্তর্বর্তী সরকার ও সম্ভাব্য নতুন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, সহিংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি বিএনপির কাছ থেকে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট বক্তব্য দাবি করেন তিনি।

নতুন সরকারের শপথ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ভারত বড় বাধা। তাই নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ না জানানোই উচিত।

এ সময় দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি মনিরা শারমিনসহ এনসিপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন