ইশরাকের পক্ষে স্লোগানে উত্তাল নগর ভবন, টানা ১৮ দিন ঝুলছে তালা

ইশরাকের পক্ষে স্লোগানে উত্তাল নগর ভবন, টানা ১৮ দিন ঝুলছে তালা

বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে মেয়রের দায়িত্ব দেওয়ার দাবিতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) নগর ভবনে টানা অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছে সংস্থাটির কর্মচারীরা। এর সঙ্গে ঢাকাবাসীর ব্যানারে নগর ভবনে একত্রিত হয়েছে ইশরাকের অনুসারীরা। নগর ভবনসহ ১০ আঞ্চলিক কার্যালয়ে গত ১৫ মে ঝুলিয়ে দেওয়া তালা গত ১৮ দিন ধরে একটানা ঝুলছে। ফলে আজও বন্ধ রয়েছে সব সেবা কার্যক্রম। ভুক্তভোগী ও ডিএসসিসি সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, কোরবানি বর্জ্য অপসারণের জন্য যে ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া দরকার, তা নিতে পারছে না কর্তৃপক্ষ।

বিজ্ঞাপন

কোরবানির হাট ব্যবস্থাপনাসহ সেবা স্বাভাবিক করতে নগর ভবন খুলে দেওয়া প্রয়োজন হলেও কবে খুলবে তা কেউই বলতে পারছে না। অফিস বন্ধ থাকায় সব ধরনের সেবা ব্যাহত হচ্ছে। জন্ম-মৃত্যু ও তালাক নিবন্ধন, হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো বিল তুলতে পারছে না। সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলোর বিল জুনের মধ্যে দিতে না পারলে তা সরকারি কোষাগারে ফেরত গেলে জটিলতা বাড়বে ডিএসসিসির।

বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনকে মেয়রের শপথ পড়ানোর দাবিতে ডিএসসিসি নগর ভবন তালাবদ্ধ করে দিয়েছেন তার সমর্থকরা। গত ১৪ মে তারা আন্দোলন শুরু করে ১৫ মে নগর ভবনসহ ১০টি আঞ্চলিক কার্যালয় বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ অবস্থায় রোববার ডিএসসিসির নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের জন্য বরাদ্দ ৫ বছরের সময়সীমা শেষ হয়েছে।

এদিকে তারা ‘শপথ শপথ চাই, ইশরাক ভাইয়ের শপথ চাই’, ‘মেয়র নিয়ে টালবাহানা, সহ্য করা হবে না’, ‘চলছে লড়াই চলবে, ইশরাক ভাই লড়বে’, ‘নগরপিতা ইশরাক ভাই, আমরা তোমায় ভুলি নাই’ এমন স্লোগান দিয়ে যাচ্ছে। তাদের স্লোগানে উত্তাল পুরো নগর ভবন।

সোমবার (২ জুন) সকাল থেকে নগর ভবনের ভেতরের ফটকের সিঁড়িতে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন তার সমর্থক ও কর্পোরেশনের শ্রমিক ইউনিয়নের কর্মচারীরা। এতে করে আজও বন্ধ রয়েছে নগর ভবন কেন্দ্রিক সেবা কার্যক্রম। সেবাপ্রার্থীরা সেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

‘ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন’ ও ‘ঢাকাবাসীর ব্যানারে’ ইশরাকের সমর্থকেরা নগর ভবনের ভেতরের ফটকে অবস্থান নিয়ে কিছুক্ষণ পরপর নগর ভবন প্রাঙ্গণে মিছিল করছেন। তাদের আন্দোলনের ফলে গেল ১৫ মে থেকে নগর ভবন থেকে দেওয়া সব নাগরিক সেবা বন্ধ রয়েছে।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ইশরাক সমর্থকরা বলেন, কী কারণে মেয়র হিসেবে ইশরাক ভাইয়ের শপথ পড়ানো আটকে আছে আমাদের জানা নেই। জনগণের মেয়র ইশরাক, প্রতিটি নগরবাসী ইশরাক ভাইকে মেয়র হিসেবে চায়। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত নগর ভবনের সব সেবা কার্যক্রম বন্ধ করে আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাবো।

২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন হয়। সেসময় আওয়ামী লীগের প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপসকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। নির্বাচনে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ফল বাতিল চেয়ে ২০২০ সালের ৩ মার্চ মামলা করেন ইশরাক।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গেল ২৭ মার্চ ঢাকার নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল সেই ফল বাতিল করে অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাককে মেয়র ঘোষণা করা হয়।

এরপর ২৭ এপ্রিল ইশরাককে ডিএসসিসি মেয়র ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু তাকে যেন শপথ পড়ানো না হয় সেজন্য গত ১৪ মে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে মেয়রের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে গত ১৫ মে থেকে আন্দোলন নামেন ইশরাক সমর্থকরা। তাদের আন্দোলনের কারণে ডিএসসিসি নগর ভবন কার্যত অচল হয়ে পড়ে। কিন্তু আইনি জটিলতার কথা বলে ইশরাকের শপথের আয়োজন থেকে বিরত থাকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।

এরপর এ রিট মামলার ওপর কয়েক দফা শুনানির পর তা খারিজ করে আদেশ দেয় হাইকোর্টের বেঞ্চ। এরপর ওইদিন বিকেলে শপথ পড়ানোর জন্য ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়ে আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেন ইশরাক। সেসময়ের পর থেকে ফের টানা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে ইশরাক সমর্থকরা।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন