মহান ‘জুলাই শহীদ’ দিবসে শহীদদের গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করার জন্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সব শাখা সংগঠন ও দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি।
তিনি বলেন, আজ আমাদের শপথ নিতে হবে- শহীদদের এই রক্ত যেন কোনোভাবেই বৃথা না যায়। একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, ন্যায়বিচারভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার মাধ্যমেই কেবল আমরা তাঁদের এই ঋণ আংশিক পরিশোধ করতে পারি। মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে তিনি এই আহবান জানান।
বিবৃতিতে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১৬ জুলাই ‘জুলাই শহীদ’ দিবস আমাদের জাতীয় ইতিহাসে এক গৌরবময় ও বেদনাবিধুর দিন। এই দিনে আমরা গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সঙ্গে স্মরণ করি সেই সকল শহীদ ভাই-বোনকে, যারা বৈষম্য, জুলুম-নির্যাতন ও অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়ে শাহাদাত বরণ করেছেন। আমি সকল শহীদের রূহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং আহত ও নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।
জামায়াত আমির বলেন, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই কোটা বিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের কৃতী ছাত্র আবু সাঈদ নিজের অধিকার আদায়ের দাবিতে পুলিশের সামনে বীরদর্পে বুক পেতে দাঁড়ান। সে সময় স্বৈরাচারী সরকারের লেলিয়ে দেওয়া পুলিশ বাহিনী নির্মমভাবে গুলি করে তাঁকে হত্যা করে। শহীদ আবু সাঈদের এই আত্মত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই সারা দেশে কোটা বিরোধী আন্দোলন এক অভূতপূর্ব গণআন্দোলনে রূপ নেয়।
বিরোধীদলীয় নেতা আরো বলেন, এই গণআন্দোলন ছিল আমাদের ইতিহাসের একটি যুগান্তকারী অধ্যায়, যেখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, তরুণ-তরুণী, নাগরিক সমাজ ও সর্বস্তরের পেশাজীবী মানুষ অভিন্ন দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে নেমে আসেন। একপর্যায়ে ছাত্রদের এই স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন ফ্যাসিবাদী স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার পতনের এক দফার আন্দোলনে পরিণত হয়। ক্ষমতা হারানোর ভয়ে উন্মত্ত হয়ে শেখ হাসিনা আন্দোলন দমনের লক্ষ্যে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণের নির্দেশ দেন। পুলিশ, র্যাব, সেনাবাহিনী ও বিজিবি-র একাংশের মাধ্যমে নির্বিচারে চালানো গুলিতে প্রায় দেড় হাজার মুক্তিকামী মানুষ শহীদ হন এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষ গুরুতর আহত হন। কয়েক হাজার মানুষ তাঁদের হাত, পা বা চোখ হারিয়ে চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অবশেষে ছাত্র-জনতার এক ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দীর্ঘ সাড়ে ১৬ বছর ধরে জাতির ঘাড়ে চেপে বসা একনায়কতান্ত্রিক স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে। পতন নিশ্চিত জেনে শেখ হাসিনাসহ তাঁর দলের শীর্ষস্থানীয় নেতা ও মন্ত্রী-এমপিরা ভারতে পালিয়ে আশ্রয় নেন। এর মাধ্যমে দেশের মানুষ খুনি স্বৈরাচার ও তাদের বিদেশি পৃষ্ঠপোষকদের আধিপত্য থেকে মুক্তি লাভ করে। আজ দেশের জনগণ মুক্ত ও স্বাধীনভাবে নিজের মতামত প্রকাশ করতে পারছে, রাজনৈতিক দলগুলোও নির্বিঘ্নে তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। এ সবই জুলাই গণআন্দোলনের গৌরবময় ফসল।
তিনি আরো বলেন, জুলাই আন্দোলনের শহীদরা নিজেদের বুকের তাজা রক্ত দিয়ে এ জাতিকে এক মহৎ ঋণে আবদ্ধ করে গেছেন। আমরা তাঁদের কাছে চিরঋণী। আজ আমাদের শপথ নিতে হবে- শহীদদের এই রক্ত যেন কোনোভাবেই বৃথা না যায়। একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, ন্যায়বিচারভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার মাধ্যমেই কেবল আমরা তাঁদের এই ঋণ আংশিক পরিশোধ করতে পারি। আগামী ১৬ জুলাই আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে যথাযথ মর্যাদায় মহান ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালন করার জন্য তিনি জামায়াতের সব শাখা সংগঠন ও দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

