আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সম্প্রতি চিকিৎসক সমাজকে নিয়ে 'অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন' উল্লেখ করে এর নিন্দ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) হেলথ উইং। তারা বলেছে, একজন দায়িত্বশীল পদে থেকে জাতির অগ্রগামী স্বাস্থ্যসেনাদের বিরুদ্ধে এমন অপমানজনক বক্তব্য কেবল অগ্রহণযোগ্যই নয়, এটি চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও রাষ্ট্রবিরোধী অবস্থানের শামিল।
রোববার এনসিপির হেড অব হেলথ উইং ডা: আব্দুল আহাদের পাঠানো এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়।
এতে বলা হয়, বাংলাদেশের চিকিৎসক সমাজ জাতির দুর্যোগে সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের উত্তাল দিনগুলোতে চিকিৎসকরা তাদের নির্ভীক ও মানবিক সেবার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। ফ্যাসিবাদী সরকারের ভয়ঙ্কর দমন-নিপীড়ন, গুলি ও দমনযজ্ঞের ভেতরেও চিকিৎসকরা নির্ভয়ে মাঠে নেমে আহত জনগণের সেবা দিয়েছেন। তারা জানতেন, যে কোনো মুহূর্তে হামলা, গ্রেপ্তার কিংবা হয়রানির শিকার হতে পারেন, তবুও তারা পিছু হটেননি। জীবনের ঝুঁকি নিয়েও আন্দোলনরত শিক্ষার্থী, শ্রমিক, সাধারণ মানুষ ও আহত নাগরিকদের চিকিৎসা দিয়ে গেছেন। চিকিৎসকদের সেই নির্ভীক সেবাপরায়ণতা বাংলাদেশের গণমানুষ চিরকাল কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করবে।
এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ডা. আব্দুল আহাদ বলেন, কোভিড-১৯ মহামারিতে শত শত চিকিৎসক প্রাণ হারালেও তারা সরে যাননি সেবা দেওয়ার পথ থেকে। প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে রাজধানীর হাসপাতাল পর্যন্ত চিকিৎসকরা দিনরাত নিরলস পরিশ্রম করে চলেছেন। এমন অবস্থায় অন্তর্বর্তী সরকারের একজন উপদেষ্টার কাছ থেকে চিকিৎসক সমাজের মর্যাদা ক্ষুণ্নকারী মন্তব্য জাতির জন্য গভীর হতাশাজনক এবং উদ্বেগজনক। চিকিৎসক সমাজকে অসম্মান করা মানে দেশের প্রতিটি সাধারণ নাগরিককে অসম্মান করা। কারণ চিকিৎসকরা কেবল পেশাজীবী নন, তারা জাতির জীবনরক্ষক।
বিবৃতিতে বলা হয়, এনসিপি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, চিকিৎসকদের অবমাননা করে কারো ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা বাড়ানো যায় না; বরং এতে জনগণের আস্থা নষ্ট হয় এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়। আমরা মনে করি, আসিফ নজরুলের মতো অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা যদি এভাবে দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য দেন, তবে তা সরকারের গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।
এতে বলা হয়েছে, আমরা স্পষ্ট ভাষায় জানাতে চাই— চিকিৎসক সমাজের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখা জাতির অস্তিত্ব রক্ষার শর্ত। চিকিৎসকদের অপমান করার চেষ্টা মানে জনগণের জীবনের নিরাপত্তা বিপন্ন করা। এ ধরনের বক্তব্য চিকিৎসক সমাজের মনোবল ভেঙে দেয়, যা দেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
সরকারের প্রতি দাবি জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, চিকিৎসক সমাজের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের মতো দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে এবং ক্ষমা চাইতে হবে। ভবিষ্যতে চিকিৎসকদের নিয়ে কোনো ধরনের অবমাননাকর বক্তব্য সহ্য করা হবে না। আমরা বিশ্বাস করি—বাংলাদেশের চিকিৎসক সমাজ জাতির অহংকার, আর তাদের সম্মান রক্ষা করা প্রতিটি নাগরিক ও রাষ্ট্রের পবিত্র দায়িত্ব।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

