নিবন্ধনসহ দাঁড়িপাল্লা প্রতীক ফিরে পাওয়ায় ব্যাপক উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মাঝে। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক এক প্রেস ব্রিফিংয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুকরিয়া প্রকাশ করেছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। এই নিবন্ধন ও প্রতীক ফিরে পাওয়ার মধ্য দিয়ে দলের নির্বাচনি প্রস্তুতির পথে একধাপ অগ্রগতি হলো বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নীচ তলায় আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ২০০৮ সালের ৪ নভেম্বর নির্বাচন কমিশন থেকে বৈধভাবে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন এবং দাঁড়িপাল্লা প্রতীক পেয়েছিল জামায়াতে ইসলামী। কিন্তু ২০১৮ সালের অক্টোবরে আদালতের মাধ্যমে এই ন্যায্য অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছিল। ২০০৯ সালের রিট পিটিশনের সূত্রধরে ২০১৮ সালে নিবন্ধন বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্বাচন কমিশন। আমরা দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে ১ জুন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায়ের মধ্য দিয়ে সেই ন্যায্য অধিকার ফিরে পেয়েছি। সেই আদেশের ভিত্তিতে মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে প্রজ্ঞাপন জারি করে নিবন্ধন ও প্রতীক ফেরত দেয়া হয়েছে। এজন্য আমরা মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি।
গোলাম পরওয়ার বলেন, আমাদের এই আইনি লড়াইয়ে যেসব বিজ্ঞ আইনজীবী সহযোগিতা করেছেন, যারা দোয়া করেছেন, যেসব গণমাধ্যম কর্মী সত্য সংবাদ তুলে ধরে সহযোগিতা করেছেন-সবার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। একইসঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ এবং আহতদের প্রতিও শ্রদ্ধা এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে গোলাম পরওয়ার বলেন, গোটা জাতি ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা এই শুভক্ষণের জন্য অপেক্ষায় ছিলেন। নিবন্ধন ও প্রতীক ফিরে নি:সন্দেহে নির্বাচন প্রক্রিয়া ও প্রস্তুতির পথে একধাপ অগ্রগতি।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা বর্তমান সরকারের প্রতি আস্থা রেখেই সহযোগিতা করছি। তবে প্রধান উপদেষ্টা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার যেন আগামী নির্বাচন ঘিরে নিরপেক্ষ, শক্ত ও সোজা থাকেন-সেই আহ্বান জানাচ্ছি। এটাই জাতির আকাঙ্ক্ষা। জন আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতেই বর্তমান সরকার দায়িত্ব পালন করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এসময় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম ও এহসানুল মাহবুব জুবায়ের সহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

