জাতীয় সংসদের মহান ফ্লোরে দাঁড়িয়ে মুসলিম নারীদের ধর্মীয় ও ঐতিহ্যবাহী পোশাক বোরকা ও হিজাব নিয়ে মন্তব্য করায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা শায়েখ সাজিদুর রহমান।
সোমবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে শীর্ষ নেতারা বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত দাবিদার একজন সংসদ সদস্যের মুখ থেকে ইসলামের একটি ফরজ বিধান ও নারীদের শালীন পোশাক নিয়ে এ ধরনের চরম বিদ্রূপাত্মক, কুরুচিপূর্ণ ও অশোভন মন্তব্য কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এটি শুধু দুঃখজনকই নয়, বরং চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও ধর্মীয় বিদ্বেষের বহিঃপ্রকাশ। রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব কোন পর্যায়ে পৌঁছালে একজন সংসদ সদস্য হয়ে নারীদের ধর্মীয় পোশাককে উপহাসের বিষয়ে পরিণত করতে পারেন, তা ভাবতেও ঘৃণা হয়। এ ধরনের আচরণ সভ্য ও শালীন রাজনৈতিক সংস্কৃতির মুখে চুনকালি দেওয়ার শামিল।
তারা অত্যন্ত কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, বোরকা ও হিজাব পরা মুসলিম নারীদের সাংবিধানিক ও ধর্মীয় মৌলিক অধিকার। ইসলামের এই অকাট্য বিধান নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ ও তামাশা করা কোটি কোটি তৌহিদী জনতার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটিয়েছে এবং আমাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে চরম আঘাত হেনেছে। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এই দেশে ইসলামের চেতনা ও সংস্কৃতির ওপর আঘাত মোটেও বরদাশত করা হবে না।
তারা আরো বলেন, জাতীয় সংসদ দেশের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নকারী পবিত্র প্রতিষ্ঠান। সেখানে দাঁড়িয়ে এমন ইসলামবিদ্বেষী ও উসকানিমূলক ভাষা ব্যবহার করে জনগণের কাছে কী বার্তা দেওয়া হচ্ছে? রাজনৈতিক অঙ্গনে নীতি, আদর্শ ও জনস্বার্থের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রেখে ব্যক্তিগত পোশাক বা ধর্মীয় পরিচয়কে টার্গেট করে বিষোদগার করা বিকৃত মানসিকতারই প্রমাণ। সংসদকে কোনো নির্দিষ্ট মহলের ইসলামবিদ্বেষী এজেন্ডা বাস্তবায়নের আখড়া বানাতে দেওয়া যাবে না।
বিবৃতিতে হেফাজত নেতারা অনতিবিলম্বে ওই চরম আপত্তিকর ও ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্য প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়ার জোর দাবি জানান। অন্যথায়, দেশের তৌহিদী জনতা ঈমান ও আমলের সুরক্ষায় রাজপথে কঠোর জবাব দিতে বাধ্য হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন। একই সাথে জাতীয় সংসদসহ রাষ্ট্রের সকল স্তরে ইসলাম ও ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং শালীন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার জন্য সকলের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

