সরকারের প্রাথমিক শিক্ষায় সংগীত, নৃত্য ও নাট্যকলাকে বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক তীব্র সমালোচনা করে বলেন, কোমলমতি শিশুদের শিক্ষাব্যবস্থায় নৈতিকতা, চরিত্রগঠন ও ধর্মীয় মূল্যবোধের পরিবর্তে বিতর্কিত সাংস্কৃতিক উপাদান বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।
তিনি এ উদ্যোগ বাতিল করে প্রাথমিক পর্যায়ে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা জোরদারের দাবি জানান এবং তার প্রতিবাদে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস আগামী ১৮ জুন ঢাকায় ও ১৯ জুন দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন।
রোববার দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের নিয়মিত মাসিক বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠক পরিচালনা করেন দলের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ।
মামুনুল হক বলেন, দেশ বর্তমানে গভীর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বিদ্যুৎ-জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব, দুর্নীতি, অর্থপাচার ও ব্যাংকিং খাতের অনিয়মে জনগণ চরম দুর্ভোগে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে জাতীয় স্বার্থ, ইসলামী মূল্যবোধ ও জনগণের অধিকার রক্ষায় আদর্শভিত্তিক রাজনীতি, জাতীয় ঐক্য ও গণআন্দোলনের বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, জাতীয় সংসদে বাজেট ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো সম্পর্কে সরকারের বক্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সাধারণ মানুষের মৌলিক সমস্যার কার্যকর সমাধানের সুস্পষ্ট রূপরেখা নেই। প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতির এ বাজেট ভবিষ্যতে জনগণের ওপর নতুন ঋণ ও করের বোঝা চাপাতে পারে।
মামুনুল হক আরো বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন গণআন্দোলনে ইসলামী জনতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকা সত্ত্বেও প্রস্তাবিত বাজেটে ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের নিহত, আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন, ক্ষতিপূরণ ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির জন্য কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। একইভাবে কওমি মাদরাসা, ধর্মীয় শিক্ষা, মসজিদভিত্তিক নৈতিক শিক্ষা কার্যক্রম ও আলেম সমাজের কল্যাণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগেরও প্রতিফলন দেখা যায়নি।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি শিল্প, কৃষি, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং মূল্যস্ফীতি আরও বাড়াবে। সরকারকে জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে মদ উৎপাদন, বিপণন ও লাইসেন্স প্রদান এবং জুয়ার বিভিন্ন উপকরণকে প্রশ্রয় দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। নৈতিক অবক্ষয় রোধে সরকারকে অবিলম্বে মদ, জুয়া ও সামাজিক অবক্ষয় সৃষ্টিকারী কার্যক্রম বন্ধে উদ্যোগ নিতে হবে।
বৈঠকে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সমালোচনা করে নেতারা বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় মর্যাদার প্রশ্নে কোনো আপস চলতে পারে না। প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান, সমতা ও অনধিকার হস্তক্ষেপমুক্ত সম্পর্কই হতে হবে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তি। তারা বলেন, সীমান্তে হত্যা, পুশইন, তিস্তা ও অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা এবং জাতীয় নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সরকারকে আরও দৃঢ় ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
বৈঠকে আরো বক্তব্য রাখেন দলের সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা ইউসুফ আশরাফ, নায়েবে আমির মাওলানা কোরবান আলী কাসেমী, মাওলানা মাহবুবুল হক, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আব্দুল আজীজ, মুফতি শরাফত হোসাইন, মাওলানা তোফাজ্জল হোসাইন মিয়াজী ও মাওলানা শরীফ সাইদুর রহমান প্রমুখ।
এমই
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

