জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানকে ভন্ডুল করার উদ্দেশে ছাত্রশিবিরের পরিকল্পিত বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ছাত্রদল।
মঙ্গলবার গণমাধ্যমকে পাঠানো এক বিবৃতিতে ছাত্রদল এ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়।
বিবৃতিতে বলা হয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠান চলাকালে ছাত্রশিবিরের ৪০-৫০ জন নেতাকর্মী জোরপূর্বক প্রবেশ করে অনুষ্ঠানটি ভন্ডুল করার চেষ্টা করলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। চলমান অনুষ্ঠানকে পণ্ড হওয়া থেকে রক্ষা এবং ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতেই ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বাধা দেন। পরবর্তীতে শিবিরের উসকানিমূলক আচরণের ফলেই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে ছাত্রশিবির এখন দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর হাতে হস্তান্তরের দাবির কথা বলছে। অথচ বাস্তবতা হলো, এ দাবিতে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিল ছাত্রদল ও অন্যান্য প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠন; সেই আন্দোলনের বিরোধিতা করেছিল ছাত্রশিবিরই। নিয়মতান্ত্রিকভাবে টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর তাদের আকস্মিক সক্রিয়তা এবং ঘটনাপ্রবাহ স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে, তাদের লক্ষ্য ছিল উন্নয়ন প্রকল্পে প্রভাব বিস্তার এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মারক অনুষ্ঠানকে বিতর্কিত করা।
বিবৃতিতে ছাত্রদল আরও জানায়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রশিবিরের সশস্ত্র মহড়া, অনলাইনে জামায়াত ও শিবিরের শীর্ষনেতাদের উসকানিমূলক বক্তব্য এবং সারা দেশে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনাও একই পরিকল্পনার অংশ বলে আমরা মনে করি। অন্যদিকে, জামায়াত শিবির কর্তৃক ধর্ষণ, নারী কেলেঙ্কারি ও বিকৃত যৌনাচারের ঘটনা ক্রমাগত ফাঁস হয়ে যাওয়ার কারণে তারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে জনগণের দৃষ্টি অন্য দিকে সরিয়ে নিজেদের ভাবমূর্তি রক্ষা করার চেষ্টা করছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সবসময় শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী। তবে, শিক্ষাঙ্গণে সন্ত্রাস, উসকানি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে ছাত্রদল অতীতের মতো ভবিষতেও দৃঢ় অবস্থানে থাকবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


