কিশোরগঞ্জের হাওরবেষ্টিত অষ্টগ্রাম উপজেলার বড় হাওরের আদমপুর কাটাগাং এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বিরল প্রজাতির জলজ স্তন্যপায়ী প্রাণী গাঙ্গেয় শুশুক। তবে বিপন্ন প্রজাতির এই প্রাণীটি মৃত ও ভাসমান অবস্থায় পাওয়া যায়। পরবর্তীতে সচেতনতার অভাবে স্থানীয় জেলেরা প্রাণীটিকে কেটে তেল তোলার উদ্দেশ্যে নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করে নিয়ে গেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মধ্যঅষ্টগ্রাম রংপুর হাটি এলাকার শওকত মিয়ার ছেলে মো. তর্জু মিয়া গত রাত ৭টার দিকে বড় হাওরের আদমপুর কাটাগাং এলাকায় মাছ ধরতে যান। নদীতে মাছ ধরার একপর্যায়ে তিনি মরা ও ভাসমান অবস্থায় বিরল প্রজাতির এই শুশুকটি দেখতে পান। নদী থেকে প্রাণীটি উদ্ধার করে তীরে নিয়ে আসা হলে এটি একনজর দেখতে আশপাশের গ্রাম থেকে উৎসুক জনতার ভিড় জমে। তবে সংরক্ষণ না করে তেল তৈরির জন্য জেলেরা প্রাণীটিকে কেটে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়ে যান।
বিষয়টি নিশ্চিত করে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার পর তাঁর কার্যালয় থেকে ঘটনার খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন অনুযায়ী শুশুক নিধন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মূলত বন অধিদপ্তর এই আইন বাস্তবায়নে মূল ভূমিকা পালন করলেও, মৎস্য অধিদপ্তর বিভিন্ন অভিযান ও তদারকির সময় জনগণকে এ বিষয়ে সচেতন করে থাকে এবং ভবিষ্যতেও এই সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।
তিনি আরও জানান, শুশুক বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী একটি সুরক্ষিত ও বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী। এটি ধরা, হত্যা করা কিংবা এর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ব্যবহার করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। নদীর পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য রক্ষায় এর ভূমিকা অপরিসীম হলেও স্থানীয়দের অসচেতনতা ও তেলের বাণিজ্যিক ব্যবহারের প্রবণতায় প্রাণীটি রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

