আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

জামায়াত আমির

সরকার গঠনের সুযোগ পেলে সব দলকেই সাহায্যকারী হিসেবে চাইব

স্টাফ রিপোর্টার

সরকার গঠনের সুযোগ পেলে সব দলকেই সাহায্যকারী হিসেবে চাইব
ফাইল ছবি

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ভোটগ্রহণ শেষে গণনা শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত প্রাথমিক ফলাফলে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন। তবে এটাকে নিশ্চয়তা দেওয়ার পর্যায়ে আসেনি, আরো কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে।

যদি জাতির গুরুভার আল্লাহর ইচ্ছায় আমাদের ওপর আসে, তাহলে গণমাধ্যমসহ সবার সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, আপনারা সহযোগিতা করলে ইনশাআল্লাহ আমরা দেশ ও জাতির জন্য ভাল কিছু করতে পারব। এই সাহায্য দুইভাবে চাই। আমাদের ইতিবাচক কাজগুলোকে যেমন তুলে ধরবেন, ভুল হলেও আমাদেরকে ছাড় দেবেন না। যৌক্তিক সমালোচনাটা করলেই বড় সাহায্য হবে।

বিজ্ঞাপন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটের সার্বিক পরিরিস্থতি নিয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মিরপুরে জামায়াতের নির্বাচনি কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ভোটের ফলাফল নিয়ে রাত ১১টায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের আরেকটি সংবাদ সম্মেলন হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জামায়াত আমির বলেন, মানুষের সমাজে একসঙ্গে চলতে গেলে ভুলভ্রান্তি হতেই পারে। আমার আসনে আমার প্রতিদ্বন্দ্বীও আমার সহযোদ্ধা ছিলেন। এখানে আমার জয় বলে তা সবারই জয় হবে। যারা এই আসনে লড়েছেন, আমি বিজয়ী হলে সবাইকে সাথে নিয়েই তাদের পরামর্শ নিয়ে কাজ করবো। সারাদেশে যদি আমরা নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠনের সুযোগ পাই, তাহলে সব দলকেই আমাদের সাহায্যকারী হিসেবে পাশে চাইব। আমরা দিল খুলে তাদেরকে আহবান জানাব।

একইভাবে একটা দেশ একা চলতে পারবে না। এজন্য আমাদের প্রতিবেশি দেশসহ বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ দেশের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আছে, ইনশাআল্লাহ আমরা তাদের সঙ্গে কাজ করব। আমরা হিংসার কোনো পরিবেশ জিইয়ে রাখব না, খোলামন ও উদার মানসিকতা নিয়েই যার যার মর্যাদা অনুযায়ী ন্যায্য পাওনাটা আমরা দেওয়ার চেষ্টা করবো, আমাদের অধিকারও আদায় করে নেব। তাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক হবে পারস্পারিক শ্রদ্ধা ও সমতার।

তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী ইতিহাসের একটি দুঃখী দল। প্রতিষ্ঠার পর থেকে দলটি বারবার নিষিদ্ধ হয়েছে। তবে নিষিদ্ধ হওয়ার পর কখনো দলটি থেমে থাকেনি। গোড়াতেই দলের হাল যারা ধরেছিলেন, তারা কেউ আজ দুনিয়ায় নেই। কিছু নেতা স্বাভাবিকভাবে ইন্তেকাল করেছেন, আর কিছু নেতা জুলুমের শিকার হয়ে বিদায় নিয়েছেন। তাদের স্মরণ করে উত্তম পাওনার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করে বলেন, তাদের রক্ত ও মজলুমের চোখের পানি শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে আজকের এই জায়গায় নিয়ে এসেছে।

জামায়াত আমির সাতচল্লিশের আজাদী আনার লড়াইকারীদের স্মরণ, একাত্তরে জীবনবাজি রেখে লড়াইয়ে শাহাদবরণকারীদের উত্তম প্রতিদান কামনা এবং যারা বেঁচে আছেন, তারা যেন জাতির খেদমতে জীবনের শেষ অংশটুকু উজাড় করে দিতে পারেন-সেই প্রত্যাশা করেন।

তিনি বলেন, সারা দেশে নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফল আসতে শুরু করেছে। রাত ১১টার দিকে মনে করি একটা আকার নিতে পারে। এখনই অগ্রিক কিছু বলা সমীচীন নয়। আসন পাওয়া নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দুপুরে আমরা বলেছিলাম-আল্লাহর ওপর ভরসা আছে এবং জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে সঠিক সিদ্ধান্তই নেবেন। প্রাথমিক যে ফল আসতে শুরু করেছে, তাতে সেরকমেই আভাস পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু এটাকে নিশ্চয়তা দেওয়া যাবে না। আরো কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে।

মিডিয়া প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অতীতে দেখেছি, যারা শাসন ক্ষমতায় থাকে তাদের নেতিবাচক কোনো দিক সমালোচনা আকারে তুলে আনেন না অথবা আনতে পারেন না। আমরা এটা চাইব না। আমরা চাইব-মিডিয়া যেন পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করতে পারে, তবে সেই স্বাধীনতা হতে হবে আমার স্বাধীনতা ও দেশের স্বাধীনতা রক্ষা করে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতার ক্ষতি হয়-এমন স্বাধীনতা ব্যক্তি বা সামষ্টিক পর্যায়ে হোক, কারো জন্যই কাম্য নয়। কারণ দেশের স্বার্থটাই আমাদের কাছে বড়।

জামায়াত আমির বলেন, এবারের নির্বাচনে বেশ কিছু বৈশিষ্ট ছিল। এর মধ্যে একটি ছিল, বিগত তিনটি নির্বাচনে আমরা এবং প্রবাসীরা ভোট দিতে পারেননি। এবার প্রথমবারের মতো প্রবাসীরা ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। এতে আমরা আনন্দিত। এতে তারা উৎসাহিত হবেন। এটা চালু থাকলে, বাকি অধিকারও তার হাত ধরে চলে আসবে।

তিনি বলেন, আমাদের এবারের নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় দেশের পাশাপাশি প্রবাসীরাও যথেষ্ঠ অবদান রেখেন। তারা আমাদের ইশতেহার রচনা ও পলিসি পেপার তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন। জুলাই আন্দোলনেও রেমিটেন্স না পাঠিয়ে বিশেষ অবদান রেখেছেন। তাদের অবদানের স্থায়ী স্বীকৃতির ব্যবস্থা করা হবে। এমনকি জামায়াত প্রবাসীদের আনুপাতিকহারে সরকারে সুযোগ দেওয়ার চিন্তা করছে।

জুলাইযুদ্ধে মা ও মেয়েদের জীবন-ইজ্জতের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তায় নামার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, তাদেরকে সমাজের মর্যাদার আসনে সমাজে অভিষিক্ত করার চেষ্টা করব।

জামায়াত আমির বলেন, আমাদের দেশটি ভালো হলে আমরা ভালো থাকতে পারব। দেশ ভালো না হলে আমরা ভালো থাকতে পারব না। আর একা কোনো দল বা সরকারের পক্ষে দেশ গড়া সম্ভব নয়। সমাজের সব অংশের অংশীদারত্ব দরকার। সাংবাদিকদের অংশীদারত্ব বেশি দরকার। তারা চারদিক থেকে দেখবে। আমরা একসঙ্গে কাজ করব।

তিনি বলেন, নির্বাচন ঘিরে অনেক শঙ্কা, আতঙ্ক ছড়ানো হয়েছিল, কিন্তু সবকিছুর পর নির্বাচন হয়েছে-আলহামদুলিল্লাহ। আজকে হাতিয়ার একটা ঘটনা এসেছিল, পরে দেখলাম সঠিক নয়। কিছু কিছু সমস্যা অনেক জায়গায় হয়েছে, এগুলো উল্লেখ করাতে কল্যাণ দেখছি না।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন