সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়নে টালবাহানা করলে জনগণ নতুন করে লড়াই শুরু করবে এবং আবারও রাজপথে নেমে আসবে— এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাজধানীর তেজগাঁও কলেজ মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের শের-ই-বাংলা নগর থানা দক্ষিণ ও তেজগাঁও দক্ষিণ থানার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।
সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের পতনের পর মনে করা হয়েছিল দেশে আইনের শাসন এবং সব ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার ফিরে আসবে। জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাজনীতিতে একটি নতুন ধারার সৃষ্টি হবে। কিন্তু ক্ষমতাসীনদের ফ্যাসিবাদী হওয়ার সুপ্ত বাসনা থেকেই আমাদের সব অর্জন বিফলে যেতে বসেছে। সরকার জুলাই সনদ ও গণভোটকে অসাংবিধানিক বলছে, কিন্তু একই অধ্যাদেশের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে বৈধ বলে স্বীকার করছে। অথচ বিএনপিই প্রথম এ দেশে গণভোটের আয়োজন করেছিল। এসব করে সরকারের শেষ রক্ষা হবে না।
তিনি সরকারকে সময় থাকতে শুভবুদ্ধির পরিচয় দিয়ে গণরায়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার কমিশন গঠনপূর্বক জুলাই সনদ পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। অন্যথায় তাদের জন্য করুণ পরিণতি অপেক্ষা করছে বলে হুঁশিয়ারি দেন।
তেজগাঁও দক্ষিণ থানা আমির ইঞ্জিনিয়ার নোমান আহমেদীর সভাপতিত্বে এবং শের-ই-বাংলা নগর দক্ষিণ থানা আমির আবু সাঈদ মণ্ডলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তার বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।
এছাড়া বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য হেমায়েত হোসাইন ও মো. আতাউর রহমান সরকার। আরো বক্তব্য দেন তেজগাঁও দক্ষিণের নায়েবে আমির এস এম মনির আহমেদ, শের-ই-বাংলা দক্ষিণ থানা সেক্রেটারি তারিফুল ইসলাম, তেজগাঁও দক্ষিণের সেক্রেটারি ফরিদ আহমেদ রুবেল, বিশিষ্ট সমাজসেবক আবুল কালাম আজাদ, শের-ই-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবির সভাপতি মেহেদী হাসান প্রমুখ।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে সেলিম উদ্দিন বলেন, জুলাই সনদের পক্ষে ৪ কোটি ৮০ লাখ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে গণরায় প্রদান করলেও সরকার তা বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে রাষ্ট্রপতি গণভোট অধ্যাদেশ জারি করলেও ক্ষমতাসীনরা তা মানছে না; বরং সরকারি দলের মন্ত্রী-এমপিরা আইনের অপব্যাখ্যা করে সংসদে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে এবং গণরায়ের প্রতি অশ্রদ্ধা প্রদর্শন করছে। অথচ সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির আদেশ ও অধ্যাদেশ সবই আইন। কিন্তু ক্ষমতাসীনেরা নতুন করে ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠার হীন মানসিকতা থেকেই জুলাই সনদ মানছে না। তবে সরকার এসব করে কোনোভাবেই জুলাই সনদকে উপেক্ষা করতে পারবে না।
তিনি সরকারকে টালবাহানা বাদ দিয়ে অবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। অন্যথায় জনগণই সরকারকে গণরায় বাস্তবায়নে বাধ্য করবে।
এআরবি
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


অসহায় গৃহবধূর বাড়ি উচ্ছেদ করে দখল, বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা