জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে আল-ফালাহ মিলনায়তনে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
গোলাম পরওয়ার বলেন, গণভোটের মাধ্যমে ৫ কোটি মানুষ বিদ্যমান রাষ্ট্রব্যবস্থার সংস্কার করে নতুন রাষ্ট্রকাঠামোর মধ্য দিয়ে উন্নয়ন ও অগ্রগতির লক্ষে দলীয়করণ, দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত এবং একক ব্যক্তির কর্তৃত্ব থেকে দেশকে মুক্ত করতে চেয়েছিল। আমরা এখন বেদনার সাথে দেখতে পাচ্ছি ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত বর্তমান সরকার তা থেকে ইউটার্ন করে নানান অজুহাত তুলে ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের কণ্ঠরোধ করে গুরুত্বপূর্ণ নানা ইস্যুতে বক্তব্য দেয়া হচ্ছে। এছাড়া ১৩৩টি অধ্যাদেশের প্রতি অবিচার করা হয়েছে, অভিযোগ করেন গোলাম পরওয়ার।
জ্বালানি মন্ত্রীর সমালোচনা করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গণভোটের যে গণরায় তা বাস্তবায়নই আমাদের আন্দোলনের প্রধানতম লক্ষ্য। কিন্তু, বিদ্যমান যে জনদুর্ভোগ, জ্বালানি সংকট চললেও জ্বালানি মন্ত্রী হাস্যকরভাবে বলছেন দেশে কোনো জ্বালানি সংকট নেই। পেট্রোল পাম্পগুলোতে তেলের জন্য গাড়ির দীর্ঘ লাইন, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা তেল পাচ্ছেন না। এমনকি সংসদ সদস্যরা তেল না পেয়ে সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
তিনি আরও বলেন, সার সংকট জ্বালানি থেকেই তৈরি হচ্ছে। আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি দিয়ে ফসল কাটা, মাড়াইয়ের জন্য জ্বালানি প্রয়োজন। আসন্ন বোরো মৌসুমে জ্বালানির প্রয়োজন।
দেশের হাম পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সারা দেশে দেড় লক্ষাধিক হামের রোগী হাসপাতালে সংকটাপন্ন। স্বাস্থ্যখাত একেবারে ভেঙে পড়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য ও হাসপাতালের চেহারা বিপরীত।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। চাঁদাবাজি, খুনখারাবি ও দখলদারি আবারও চলছে। একটি দলের নেতৃত্বে বিভিন্ন দখলবাজি শুরু হয়েছে। ব্যাংক খাত ধ্বংস করা হয়েছে। এমন কোনো নজির আছে কিনা, একটি দল ক্ষমতায় এসে দেড় মাসে ৪০-৪২ হাজার কোটি টাকা শুধু ব্যাংক থেকে ঋণ করেছে, প্রশ্ন করেন তিনি।
গোলাম পরওয়ার বলেন, ব্যাংকগুলো খালি করে নিজেদের সিন্ডিকেটের লোকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকগুলোয় আমানত রাখা কোটি কোটি সাধারণ গ্রাহক এখন রাজপথে নামছেন, কথা বলছেন। প্রশাসনে সচিবালয় থেকে শুরু করে সিভিল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের অধস্তন পর্যন্ত দলীয়করণ, পদত্যাগে বাধ্য করা, ওএসডি করে ফ্যাসিবাদী কায়দায় সব সরিয়ে দিচ্ছে সরকার। দৃশ্যত, শাসন ও রাষ্ট্রব্যবস্থায় কোনো গুণগত পরিবর্তন হয়নি।
গোলাম পরওয়ার বলেন, গণভোটের গণরায়কে বাস্তবায়নের চলমান আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে ১১ দলের শীর্ষ নেতারা পরিস্থিতির আলোকে দফায় দফায় বৈঠক করছেন। জনদুর্ভোগ কমানোর দাবিতে ১১ দলের আন্দোলন চলমান থাকবে বলেও জানান গোলাম পরওয়ার।
১১ দলীয় ঐক্যের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে তিনি বলেন, আগামী ১৮ এপ্রিল রাজধানীতে গণমিছিল, ২৫ এপ্রিল রাজধানী বাদে অন্য সকল মহানগরীতে গণমিছিল এবং ২ মে সকল জেলা শহরে গণমিছিল হবে।
এছাড়া ১৮ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত সারাদেশে লিফলেট বিতরণ এবং সকল মহানগরী ও গুরুত্বপূর্ণ জেলা শহরে সেমিনার আয়োজন করা হবে।
এর পরবর্তী কর্মসূচি হিসাবে সকল বিভাগে জনসভা করা হবে। সেখানে ১১দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন। এর মধ্যে সরকার গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে ঢাকায় মহাসমাবেশ করা হবে।
এর আগে বেলা ১১টায় আল-ফালাহ মিলনায়তনে চলমান আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণের লক্ষ্যে ১১–দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান), জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব ড. মুস্তাফিজুর রহমান ফয়সাল, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইজহার, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ, খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সাল, জাগপার মহাসচিব অধ্যাপক ইকবাল হোসাইন, বিডিপির মহাসচিব নিজামুল ইসলাম নাঈম, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন প্রমুখ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

