জুলাইর ঐক্য ফিরিয়ে আনতে মাহমুদুর রহমানের প্রতি জামায়াত আমিরের আহ্বান

জুলাইর ঐক্য ফিরিয়ে আনতে মাহমুদুর রহমানের প্রতি জামায়াত আমিরের আহ্বান

জুলাই বিপ্লবীদের ঐক্যবদ্ধ করতে আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, শ্রমিক, ছাত্র, আলেম-ওলামা, ব্যবসায়ী, সাধারণ মানুষ, রাজনৈতিকর্মী, সবাই মিলেই শহীদ হয়ে এই বাংলাদেশ উপহার দিয়েছে। এত এত শহীদের ভার আমাদের ওপর আমরা ভুলে গেলাম কিভাবে? এখানে মাহমুদ ভাই আক্ষেপ করে বললেন একসময় তো আমরা একসাথে চলছিলাম কিন্তু এখন মনে হচ্ছে যে পরস্পরের শত্রু হয়ে গেল। উনি সবাইকে নিয়ে চলেছিলেন। আমি উনাকে বলব, হ্যাঁ ভাই আপনি আবার উদ্যোগ নেন আমাদের দোয়াও পাবেন সমর্থনও পাবেন। আমরা একটা অক্ষত জাতি চাই। আমরা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্য চাই।

বিজ্ঞাপন

বুধবার রাজধানীর রমনাস্থ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে দ্যা ফোরাম অব ইঞ্জিনিয়ার্স এন্ড আর্কিটেক্টস বাংলাদেশ আয়োজিত 'শহীদদের স্মরণে দ্রোহের জুলাই' শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।

তিনি আরো বলেন, তবে কথা পরিষ্কার -আমার সন্তান যে কাজ করলে যে স্বীকৃতি দিব, অন্যের সন্তান সেই কাজ করলে একই স্বীকৃতি দিতে হবে। আমার সন্তানকে অন্যের সন্তান আঘাত করলে আমি তাকে সন্ত্রাসী বলব, আমারটাও করলে তাকেও সন্ত্রাসী বলব।

মাহমুদুর রহমান বলেন, আমি আজকে একটু বিষণ্ণ বলতে পারেন। কারণ বর্তমানে একটি গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় এসেছে। সেই গণতান্ত্রিক সরকারের ক্ষমতা নেয়ার পরে আজকেই প্রথম জুলাই বিপ্লবের বর্ষপূর্তি ছিল। আর বিপ্লবের দুই বছরপূর্তি কিন্তু তারা ক্ষমতায় আসার পরে আজকেই প্রথম বর্ষ পূর্তি ছিল এই জুলাই বিপ্লবের। আমি প্রত্যাশা করেছিলাম এই দিনটিকে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে পালন করব। আমার আশা ছিল সরকার এই দিনটি পালন করার জন্যে একটি সর্বদলীয় কমিটি গঠন করবে এবং সেই সর্বদলীয় কমিটির মাধ্যমে আমরা দিনটি পালন করব। সেজন্য আজকের এই জুলাই বিপ্লবের বর্ষপূর্তির দিবসটি সর্বদলীয়ভাবে পালিত হওয়া উচিৎ ছিল। যদি এটা করা হতো তাহলে আমি নিশ্চিত যে আজকে কয়েকটি অনুষ্ঠানে যে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে আমরা হয়তো সেই অপ্রীতিকর ঘটনা থেকে রক্ষা পেতাম। এই দুঃখজনক অধ্যায়টা আমরা হয়তো এড়াতে পারতাম যদি আজকের সবগুলো অনুষ্ঠান আমরা আলাদা না করে ঐক্যবদ্ধভাবে করতে পারতাম। কারণ আমি আমার ধারণা জাতি একটি ফ্যাসিবাদ বিরোধী ঐক্য দেখতে চায়। যে ঐক্যের মাধ্যমে ২০২৪ সালে আমরা ফ্যাসিবাদকে বিদায় করতে পেরেছিলাম।

তিনি আরো বলেন, আমি দুর্ভাগ্যজনকভাবে দেখতে পাচ্ছি যে সমস্ত বয়ান সরকারের সব প্রভাবশালী ব্যক্তিরা দিচ্ছেন -সেই বয়ানের মধ্যে তারা বর্তমান বিরোধী দলকে শত্রু ভাবছেন এবং তাদের যে আসল শত্রু দিল্লিতে বসে আছে সেই সম্পর্কে তারা ভুলে যেতে শুরু করেছে। আমি আশা করি যে আমরা সেই ঐক্য আবার ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হব। কারণ হচ্ছে এই ঐক্যটা বাংলাদেশকে টিকিয়ে রাখার জন্য দরকার। বাংলাদেশের স্বাধীনতা রক্ষা করবার জন্য এই ঐক্যটা খুব জরুরি। ঐক্য বিঘ্নিত হয়েছে বলেই আপনারা দেখছেন যে পলাতক স্বৈরাচার বিদেশী প্রভুর কাছে বসে নানা রকম বক্তব্য তিনি দিতে পারছেন। আজকে যদি বাংলাদেশে জুলাইয়ের সকল বিপ্লবীরা ঐক্যবদ্ধ থাকতেন তাহলে তার এই ঔদ্ধত্য হতো না। এটা আমাদের মনে রাখা দরকার। আরেকটি বিষয় আমাদের থেকে স্মরণে রাখা দরকার জুলাই বিপ্লবে পরাজিত শক্তি কিন্তু দুটো। একটি দেশীয় শক্তি, আরেকটি বিদেশী শক্তি। তারা এত সহজে তাদের ষড়যন্ত্র বন্ধ করবে না এবং সেটা গত দুবছর ধরে আমরা অব্যহতভাবে দেখতে পেয়েছি। এখনো সময় আছে যে বিভাজন হয়েছে এই বিভাজন ভুলে গিয়ে আবার সবাই ঐক্যবদ্ধ হই। আমি একজন ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে এবং মিডিয়ার একজন মানুষ হিসেবে বাংলাদেশের একজন প্রবীণ নাগরিক হিসেবে আমি আহ্বান জানাচ্ছি আবার যেন জুলাই যোদ্ধারা আমরা ঐক্যবদ্ধ হতে পারি।

মাহমুদুর রহমান বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে যারা সরকারে থাকবে তাদের দায়িত্ব বেশি। আজকের ভুল থেকে শিক্ষা নিতে হবে। জাতীয় ঐক্য করবার জন্যে দায়িত্বটা সরকারের বেশি। আর বিরোধী দলের দায়িত্ব হচ্ছে সেই ঐক্যের সাড়া দেয়া।

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মারদিয়া মমতাজ বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে দাঁড়ালেই বদলি করে দেওয়া হচ্ছে৷ চব্বিশের জুলাইয়ের অর্জন ভুলানোর চেষ্টা চলছে চারদিকে৷ কোনভাবেই সেটা করা যাবে না।

দ্যা ফোরাম অব ইঞ্জিনিয়ার্স এন্ড আর্কিটেক্টস বাংলাদেশের সভাপতি গোলাম মোস্তফার সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন বুয়েটের এমসি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ফখরুল ইসলাম, ঢাকা ১২ আসনের এমপি সাইফুল আলম খান মিলন, কাজী আবিদ হাসান সিদ্দিকী, ড. আব্দুল মান্নান প্রমুখ।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন