অর্থকষ্টেও থামেনি ফাতেমার স্বপ্ন, ৫ লাখ টাকার সহায়তায় চিকিৎসক হওয়ার পথে

অর্থকষ্টেও থামেনি ফাতেমার স্বপ্ন, ৫ লাখ টাকার সহায়তায় চিকিৎসক হওয়ার পথে

চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন ছিল ছোটবেলা থেকেই। মেধা আর অধ্যবসায়ে সেই স্বপ্ন পূরণের পথও তৈরি হয়েছিল। চীনের একটি স্বনামধন্য মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিবিএস পড়ার সুযোগ পেয়েছিলেন মেধাবী শিক্ষার্থী মোছাঃ ফাতেমা খানম। কিন্তু ভর্তি ও প্রাথমিক খরচের বিপুল অর্থ জোগাড় করতে না পারায় একসময় অনিশ্চিত হয়ে পড়ে তার স্বপ্ন। ঠিক তখনই ফাতেমার পাশে দাঁড়ান নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল।

বিজ্ঞাপন

প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহায়তা এবং উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে পাওয়া ৫ লাখ টাকার অনুদানে নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন ফাতেমা। অর্থের অভাবে যে স্বপ্ন একসময় থমকে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল, এখন সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ অনেকটাই সহজ হয়েছে।

ফাতেমা নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার তমালতলা কাকফো গ্রামের লাভলু খাঁনের মেয়ে। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি। ২০২২ সালে জিগরী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেন। এরপর ২০২৪ সালে টাঙ্গাইলের মেজর জেনারেল মাহমুদুল হাসান আদর্শ কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৪.৬৭ পান।

মেধা ও অধ্যবসায়ের জোরে ফাতেমা চীনের একটি স্বনামধন্য মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিবিএস কোর্সে ভর্তির সুযোগ পান। কিন্তু ভর্তির ফি, যাতায়াত ও অন্যান্য প্রাথমিক খরচ জোগাড় করা তার পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েও অর্থের অভাবে শেষ পর্যন্ত সেখানে যেতে পারবেন কি না—এ নিয়ে তৈরি হয় অনিশ্চয়তা।

ফাতেমার এই পরিস্থিতির কথা জানতে পেরে তার পাশে দাঁড়ান সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল। প্রথমে তিনি ব্যক্তিগতভাবে ফাতেমাকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেন। পাশাপাশি তার উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন যেন অর্থের অভাবে থেমে না যায়, সে জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে সুপারিশ করেন।

প্রতিমন্ত্রীর উদ্যোগ ও সুপারিশের পর প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ফাতেমার জন্য আরও ৫ লাখ টাকা অনুদান মঞ্জুর করা হয়। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফাতেমা খানমের হাতে ওই অনুদানের চেক তুলে দেন।

সহায়তা পাওয়ার পর ফাতেমার চীনে গিয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞান পড়ার পথ অনেকটাই সুগম হয়েছে। যে অর্থসংকট একসময় তার চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছিল, সেই সংকট কাটিয়ে এখন নতুন উদ্যমে সামনে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তিনি।

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল বলেন, “আমাদের এলাকার কোনো মেধাবী শিক্ষার্থী যেন অর্থাভাবে ঝরে না পড়ে, সেটাই আমাদের লক্ষ্য। ফাতেমা অত্যন্ত মেধাবী একজন শিক্ষার্থী। তার পাশে দাঁড়াতে পেরে আমি গর্বিত। ভবিষ্যতেও তার পড়াশোনার প্রয়োজন হলে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।”

তিনি আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণেই এমন মানবিক সহায়তা সম্ভব হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের উন্নয়নেই দেশের উন্নয়ন নিহিত।”

ফাতেমার বাবা লাভলু খাঁন মেয়ের চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন পূরণে এই সহযোগিতাকে পরিবারের জন্য বড় আশীর্বাদ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন