ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ভোটের কোনো প্রভাব বাংলাদেশে পড়বে না বলে মন্তব্য করেছেন পটুয়াখালী-২ বাউফল আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাউফল উপজেলা জামায়াত আয়োজিত বাংলাবাজার কার্যালয়ে হিন্দু নেতৃবৃন্দের সাথে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, আমরা আগামীতে আপনাদের বুদ্ধি-পরামর্শ নিয়ে বাউফলকে এগিয়ে নিতে চাই। আপনারা জানেন, টানা সংসদ অধিবেশন চলায় আমি আপনাদের বড় দুটো ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যুক্ত হতে পারিনি। এজন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।
তিনি বলেন, আমরা যেটা বলি, সেটা করার চেষ্টা করি—এটা আমাদের ঈমানের অংশ, আমাদের ইবাদতের অংশ। আমরা সালাত আদায় করছি, এটি যেমন আমাদের স্রষ্টার পক্ষ থেকে নির্দেশ, তেমনি আমরা যা বলব, সেটাই করব।
তিনি আরও বলেন, আমরা মাদক পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি, কিন্তু একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অর্জন করেছি—রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ে মাদক কারবারিদের থানা থেকে ছেড়ে দেওয়ার যে প্রথা, সেটি আমরা ইতোমধ্যে নির্মূল করতে পেরেছি। যেহেতু আমরা এটা পারছি, বাকিগুলোও পারব ইনশাআল্লাহ।
তিনি বলেন, মাদক একটি ক্যান্সারের মতো মহামারি। ১২ তারিখের পর থেকে আপনাদের সহযোগিতায় এই মহামারির বিরুদ্ধে কার্যকর অবস্থান নিতে পেরেছি।
তিনি আরও বলেন, একসময় প্রশাসনের লোকজন বলত—স্যার, ধরব কীভাবে? ধরার আগেই তো তাদের পক্ষে তদবির করার জন্য লোক থানায় এসে বসে থাকে। এখন অন্তত এই পরিস্থিতি নেই। তারা স্বীকার করছে যে, আমরা সার্বিক সহযোগিতা পাচ্ছি এবং সময় পেলে মাদক নির্মূল সম্ভব।
চুরির বিষয়ে তিনি বলেন, জেলার দুটি আইনশৃঙ্খলা সভায় আমি স্পষ্টভাবে বলেছি—প্রথমত মাদক নির্মূলে সকল কমিউনিটির মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে, দ্বিতীয়ত চুরি দমনে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। ইতোমধ্যে আপনারা দেখছেন, কীভাবে চোরেরা ধরা পড়ছে। এখন আমরা চোরের সিন্ডিকেট ভাঙার কাজ করছি।
তিনি বলেন, মাদক ও চুরি দমনে কিছু আইনগত জটিলতা রয়েছে। এসব বিষয় জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হবে এবং ধাপে ধাপে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।
ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি বলেন, পৃথিবীর সব অপরাধ একবারে নির্মূল করা সম্ভব নয়। তা হলে আইন-আদালতের প্রয়োজনই থাকত না। তবে অপরাধকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, আমি জেলখানায় দেখেছি—একজন ব্যক্তি ১২ থেকে ১৪ বার কারাগারে এসেছে। জিজ্ঞেস করলে সে বলে, চুরির অভ্যাস ছাড়তে পারে না। অনেক ক্ষেত্রে এটি পারিবারিকভাবে গড়ে ওঠে। তবে স্থানীয় পর্যায়ে চুরি দমনে জনপ্রতিনিধিদের আরও কার্যকর ভূমিকা থাকা প্রয়োজন।
পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারতে নির্বাচন হয়েছে—এ নিয়ে কেউ কেউ আলোচনা করছেন। কিন্তু এ বিষয়ে আমাদের কোনো উদ্বেগ নেই। একটি দেশের নির্বাচন সেই দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এর ফলে আমাদের দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কোনো পরিবর্তন হবে না। আমরা সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে ছিলাম, আছি এবং থাকব।
তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে মমতা ব্যানার্জি বিজয়ী হয়েছেন কি না—এ নিয়ে সেখানে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটতে পারে। তবে এর কোনো প্রভাব বাংলাদেশে পড়বে না।
এমপি বলেন, আমরা আমাদের মতো করে ভালো থাকার পথ নির্ধারণ করব। এই রাষ্ট্র আমাদের, এই মাটিও আমাদের। আমাদের সিদ্ধান্তে অটল থাকতে পারলে কেউ হস্তক্ষেপ করতে পারবে না।
উপস্থিত হিন্দু নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছর আমি আপনাদের পরামর্শ নিয়ে চলতে চাই। শুধু পরামর্শ নয়, প্রয়োজনে আমাকে শাসনও করবেন। ভুল হলে তা ধরিয়ে দেবেন—এটাই আমি প্রত্যাশা করি।
তিনি বলেন, আমি এমন একটি নীতিতে বিশ্বাস করি—যে আমাকে তোষামোদ করে, তার বিষয়ে সতর্ক থাকি; আর যে আমাকে সমালোচনা করে ও সত্য কথা বলে, তার মাধ্যমেই উন্নতির সুযোগ তৈরি হয়।
এএস
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

