বছরের শেষ দশ রাত যেমন শ্রেষ্ঠ রজনী হিসেবে বিবেচিত, তেমনি জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিন হলো বছরের শ্রেষ্ঠ দিন। জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিন মহান আল্লাহর কাছে অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রিয়।
একজন ব্যক্তি হজে যান বা না যান, এই বরকতময় দিনগুলোতে সর্বোচ্চ সওয়াব হাসিলের জন্য যে ১০টি কাজ করতে পারেন।
আল্লাহর জিকির করা
হজে যাওয়া ব্যক্তিরা তালবিয়া পাঠ করবেন। আর যারা হজে যাননি, তারা এই দিনগুলোতে বেশি বেশি আল্লাহকে স্মরণ করবেন ও বিভিন্ন জিকির পাঠ করবেন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, আল্লাহর স্মরণেই হৃদয় প্রশান্তি লাভ করে। (সুরা রাদ, আয়াত : ২৮)
কেউ নবী (সা.)-কে একবার জিজ্ঞেস করেছিল, ইসলামের বিধি-বিধান অনেক বেশি, সব মনে রাখা কঠিন। আমাকে এমন একটি আমল সম্পর্কে বলুন, যা আমি সবসময় করতে পারি। নবী (সা.) উত্তর দিলেন, তোমার জিহ্বা যেন সবসময় আল্লাহর জিকিরে ব্যস্ত থাকে। (তিরমিজি)
দান-সদকা করা
এই সময়ে মুক্তহস্তে দান করা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। সাধ্যমতো বিভিন্ন ভালো কাজে দান করার চেষ্টা করুন। পরিমাণ ছোট হলেও তার সওয়াব অনেক বেশি। এমনকি অর্থ ছাড়াও সেবামূলক কাজের মাধ্যমে আপনি দান-সদকার সওয়াব পেতে পারেন। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘যারা নিজের সম্পদ দিনে বা রাতে প্রকাশ্যে অথবা গোপনে আল্লাহর পথে খরচ করে তাদের পুরস্কার তাদের প্রতিপালকের কাছে আছে। তাদের কোনো ভয় নেই। তাদের কোনো চিন্তাও নেই।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ২৭৪)
আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন, ‘তোমরা যদি প্রকাশ্যে দান করো ভালো। আর যদি গোপনে দান করো এবং অভাবগ্রস্তকে দাও তা তোমাদের জন্য অধিক ভালো। (সুরা আল বাকারা, আয়াত : ২৭১)
আরাফার দিন রোজা রাখা
মুসলিম শরীফের বর্ণনা অনুযায়ী, আরাফার দিনে (৯ জিলহজ) রোজা রাখা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। এই রোজা বিগত এক বছর ও আগামী এক বছরের গুনাহের কাফফারা হতে পারে।
চাশতের নামাজ আদায়
এই দশ দিন সূর্যোদয় ও যোহরের মাঝামাঝি সময়ে অন্তত দুই রাকাত নফল নামাজ আদায়ের অভ্যাস করুন। বুখারি শরীফের বর্ণনা মতে, এই সময়টি নফল ইবাদতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মাধ্যম।
প্রতিবেশীদের ঈদের উপহার দেওয়া
ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতি বাড়াতে আপনার মুসলিম প্রতিবেশীদের ঈদের উপহার দিন। মুসলিম শরীফের বর্ণনা অনুযায়ী, এমন পবিত্র দিনে উপহার আদান-প্রদান অতিরিক্ত সওয়াব বয়ে আনে।
বেশি বেশি দোয়া করা
এই পবিত্র দিনগুলোতে বিশেষ করে আরাফার দিন প্রচুর দোয়া করুন। তিরমিজি শরীফের বর্ণনা অনুসারে, সবচেয়ে উত্তম দোয়া হলো আরাফাত দিবসের দোয়া।
সক্ষম হলে হজ পালন করা
জিলহজের ৮ তারিখ থেকে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। সামর্থ্য থাকলে হজ আদায় করা এই সময়ের শ্রেষ্ঠতম ইবাদত। আর যদি এ বছর সম্ভব না হয়, তবে এই দিনগুলোতে আগামী বছর হজ করার ঐকান্তিক নিয়ত বা ইচ্ছা পোষণ করুন।
মানুষের সঙ্গে কোমল আচরণ করা
তিরমিজি শরীফের শিক্ষা অনুযায়ী, মানুষের সঙ্গে দেখা হলে বাড়তি বিনয় ও কোমলতা বজায় রাখুন। এর কারণে আপনার আমলনামায় বিশেষ সওয়াব যোগ কহবে।
কোরবানি আদায়
যথাযথ ত্যাগের মহিমায় পশু কোরবানি বা জবেহ সম্পন্ন করুন এবং অভাবী মানুষের মাঝে সেই গোশত বিলিয়ে দিয়ে তাদের খাবারের সংস্থান করুন। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আমার কাছে কোরবানির পশুর গোশত ও রক্ত কিছুই কবুল হয় না, তবে আমার কাছে পৌঁছায় একমাত্র তাকওয়া।’ (সুরা হজ, আয়াত : ৩৭)
একদা জায়েদ ইবনে আরকাম (রা.) রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল (সা.) কোরবানি কী? উত্তরে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করলেন, কোরবানি হচ্ছে তোমাদের আদি পিতা ইবরাহিম (আ.)-এর জীবনাদর্শ। সাহাবি আবার জিজ্ঞাসা করলেন, কোরবানির ফজিলত কী? রাসুল (সা.) বললেন, পশুর পশমের পরিবর্তে একেকটি করে নেকি দেওয়া হয়।’ (মিশকাত, হাদিস : ১২৯)
অন্যকে ভালো কাজে উৎসাহিত করা
এই বরকতময় দিনগুলোর ফজিলত সম্পর্কে পরিবার ও বন্ধুদের জানান। তাদের ভালো কাজ করতে উৎসাহিত করলে আপনিও সমপরিমাণ সওয়াব পাবেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

