নারীদের কি শ্বশুর-শাশুড়ির সাথে থাকতেই হবে, ইসলাম কী বলে

নারীদের কি শ্বশুর-শাশুড়ির সাথে থাকতেই হবে, ইসলাম কী বলে

ইসলামের বিধান অনুযায়ী কোনো স্বামী তার স্ত্রীকে জোর করে শ্বশুর-শাশুড়ির সাথে থাকতে বাধ্য করতে পারেন না বলে জানিয়েছেন বিশিষ্ট ইসলামিক চিন্তাবিদ ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ। এক ভিডিও বার্তায় তিনি স্পষ্ট করেন, স্বামীর সামর্থ্য থাকলে স্ত্রীর জন্য পৃথক আবাসন নিশ্চিত করা শরিয়তের নির্দেশনা, তবে সংসারে শান্তির স্বার্থে উভয় পক্ষেরই দায়িত্বশীল ও সহনশীল আচরণ করা উচিত।

ভিডিও বার্তায় শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, অনেক পরিবারেই বিভিন্ন কারণে স্ত্রীরা শ্বশুর-শাশুড়ির সাথে থাকতে চান না। এ ক্ষেত্রে শরিয়তের বিধান অত্যন্ত স্পষ্ট—সন্তান হিসেবে স্বামীর দায়িত্ব হলো মা-বাবার কাছে যাওয়া, তাদের দেখাশোনা ও সেবা-যত্ন করা। কিন্তু মা-বাবার খারাপ আচরণের মুখেও স্ত্রীকে সেখানেই পড়ে থাকতে বাধ্য করার কোনো অধিকার ইসলাম স্বামীকে দেয়নি।

বিজ্ঞাপন

আইনগত ও নৈতিক দিক ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘আইনগতভাবে কোনো স্বামী তার স্ত্রীকে বাধ্য করতে পারেন না যে আমার মা-বাবার কাছেই তোমাকে থাকতে হবে। বরং শরিয়তের সাধারণ দৃষ্টিভঙ্গি হলো স্বামী যেখানে থাকবে, স্ত্রীর অধিকার হলো স্বামীর সামর্থ্য অনুযায়ী সেখানে থাকা।’

তবে তিনি স্ত্রীর নৈতিক দায়িত্বের দিকটিও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, স্বামী যেহেতু ভরণ-পোষণসহ সবকিছু দেখভাল করেন, তাই স্বামীর খুশির কথা বিবেচনা করে মা-বাবার আচরণে কিছুটা কষ্ট হলেও সাধ্যমতো ধৈর্য ধরা স্ত্রীর জন্য উত্তম। তবে এ ক্ষেত্রে স্ত্রীর ওপর অযাচিত কোনো মানসিক চাপ সৃষ্টি করা উচিত নয়।

একই সঙ্গে মা-বাবার হক আদায়ের প্রতি পুরুষদের সচেতন করে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, মা-বাবার সেবার জন্য কাজের লোকের ব্যবস্থা করতে হবে এবং নিজে ঘন ঘন গিয়ে তাদের দেখাশোনা করতে হবে। এছাড়া নাতি-নাতনি দেখার হক মা-বাবার রয়েছে, সেটিরও নিয়মিত ব্যবস্থা করতে হবে।

পারিবারিক ভারসাম্য বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি পুরুষদের পরামর্শ দিয়ে বলেন, মা-বাবার প্রতি যেমন কোনো বেয়াদবি বা অবহেলা করা যাবে না, তেমনি স্ত্রীর প্রতিও যেন কোনো অবিচার না হয়। সংসারে শান্তি বজায় রাখতে হলে পুরুষদের অনেক ক্ষেত্রে ধৈর্য ধারণ করে বুদ্ধিমত্তার সাথে পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন