আগামী বুধবার বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টায় মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে বেনিনের মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা। এই ম্যাচটিকে ঘিরেই পুরো আর্জেন্টিনায় শুরু হয়েছে ব্যাপক উন্মাদনা। কারণ, এটিই হতে যাচ্ছে নীল-সাদা জার্সিতে মহাতারকা লিওনেল মেসির শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ। ফুটবল জাদুকরের এই বিদায়লগ্নে কোনো ত্রুটি রাখতে চায় না আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)।
এর আগে বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে ৭-০ গোলের বিশাল জয়ের পর এক সংবাদ সম্মেলনে দলের কোচ লিওনেল স্কালোনি কথা বলেন মেসির বিদায়, তার অমূল্য উত্তরাধিকার এবং দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে।
মেসির শেষ ম্যাচ ঘিরে ভক্তদের টিকিটের হাহাকার ও উন্মাদনা বোঝাতে গিয়ে আর্জেন্টিনা কোচ রূপক অর্থে বলেন, ‘যদি পাঁচটি মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামও থাকত, সেগুলোও দর্শকে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যেত। সব জায়গা থেকেই মেসেজ পেয়েছি। আমার মনে হয় যা বলার সবই বলা হয়ে গেছে; এখন শুধু সময়টা উপভোগ করার বাকি।’
মেসির অবসরের ঘোষণা প্রসঙ্গে স্কালোনি বলেন, ‘সে চলে যাওয়ার পর যে নস্টালজিয়ার কথা আমরা সব সময় বলি, এখন সত্যিই সে আর জাতীয় দলে থাকবে না। আমার ধারণা সবাই বেশ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন—এমনকি সে নিজেও। মনুমেন্তালের মাঠে সে পা রাখার মুহূর্ত থেকেই এটি সবার জন্য এক অবিস্মরণীয় দিন হয়ে উঠবে।’
গত ৩১ আগস্ট দুই পৃষ্ঠার হাতে লেখা চিঠিতে জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন মেসি। স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনালের ব্যর্থতা ও বাবাকে হারানোর শোক কাটিয়ে ওঠার পর এই কঠিন সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
মেসির পেশাদারিত্ব ও নিবেদন তুলে ধরে স্কালোনি জানান, তার রেখে যাওয়া উত্তরাধিকারের কোনো বিকল্প নেই। কোচের ভাষায়, ‘তার রেখে যাওয়া সবচেয়ে বড় লিগ্যাসি হলো সব সময় দলের সঙ্গে থাকার তার অদম্য ইচ্ছা। সে সব সময় অনুশীলনে সবার আগে আসত এবং সবার শেষে মাঠ ছাড়ত। সে যেভাবে নিজের যত্ন নেয়, প্রতিটি ম্যাচকে যেভাবে দেখে—বাইরের মানুষের চোখে হয়তো এগুলো অধরা থেকে যায়, কিন্তু তার সতীর্থরা তা ঠিকই দেখতে পায়।’
মেসির উত্তরাধিকার নিয়ে স্কালোনির সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য, ‘সে এমন কিছু রেখে যাচ্ছে, যার কোনো বিকল্প নেই। আমাদের খেলে যেতে হবে। কিন্তু মাঠে তাকে থাকার অনুভূতিটা অনন্য। ফুটবল মাঠে সে যে অনুভূতি ছড়িয়ে দেয়, এমন কিছু আমি আর কারও মধ্যে দেখিনি। সেটাই আমরা সবচেয়ে বেশি মিস করব। তবে আর্জেন্টিনা জাতীয় দল চলতে থাকবে।’
মেসিকে হারানোর শূন্যতা নিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, ‘ফুটবল মাঠে সে যা করে, তা আমি অন্য কারও মাঝে কখনো দেখিনি। আর এই জিনিসটাই আমরা সবচেয়ে বেশি মিস করব। তবে আর্জেন্টিনা জাতীয় দল তো তার নিজের গতিতেই এগিয়ে যাবে।’
বেনিন ম্যাচের আগে বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে ৭-০ গোলের জয় পাওয়া ম্যাচটি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন স্কালোনি। তরুণ খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘প্রথমার্ধটা ভালো ছিল। আমরা বেশ গুরুত্ব দিয়েই ম্যাচটি খেলেছি। দ্বিতীয়ার্ধে বদলি খেলোয়াড়দের সুযোগ দিয়েছি, বিশেষ করে যারা তরুণ এবং কয়েকজনের অভিষেকও হয়েছে।’
দীর্ঘ ভ্রমণ সত্ত্বেও ম্যাচ খেলতে আসায় বুরকিনা ফাসো দল এবং তাদের খেলোয়াড়দের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন স্কালোনি। তবে নিজের চুক্তি নবায়ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে করা প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এই মুহূর্তে এ বিষয়ে নতুন কোনো আপডেট নেই।
সবমিলিয়ে, বুধবার মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচটি কেবল একটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ নয়, বরং আর্জেন্টিনার ফুটবলের এক সোনালী অধ্যায়ের আবেগঘন সমাপ্তির মঞ্চ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

