সিরিজ জিতলেও অনেক প্রশ্নের সমাধান মিলেনি

সিরিজ জিতলেও অনেক প্রশ্নের সমাধান মিলেনি

পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ২-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। শেষ ম্যাচে সফরকারীদের হারিয়ে হোয়াইটওয়াশ করার সুযোগ থাকলেও শেষ ম্যাচে বিধ্বস্ত হয়। ফলে হোয়াইটওয়াশ করার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামলেও ৭৮ রানের বড় ব্যবধানে হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়। পাকিস্তানের বিপক্ষে এই সিরিজ শেষে লম্বা বিরতিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ দল। আপাতত এশিয়া কাপের আগে প্রতিদ্বন্দ্বীতামূলক আর কোন ম্যাচ খেলার সুযোগ পাচ্ছে না লিটন দাসের দল। ফলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার শেষ সুযোগ ছিল এই সিরিজই। উঠেছে নানান ধরনের প্রশ্ন। দৈনিক আমার দেশের পাঠকদের জন্য সেই প্রশ্নগুলোই তুলে ধরা হলো।

বিজ্ঞাপন

ওপেনিংয়ে সংকট-

আরব আমিরাত সফর থেকে ওপেনিংয়ে খেলেছেন পারভেজ হোসেন ইমন ও তানজিদ হোসেন তামিম। কিন্তু পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে ওপেনিংয়ে নাঈম শেখকে খেলায় বাংলাদেশ। লম্বা সময় পর জাতীয় দলে ফেরা এই ওপেনার নিজেকে প্রমাণ করতে পারেননি। ফলে তৃতীয় ওপেনার হিসেবে নাঈমই থাকবেন, নাকি অন্য কেউ জায়গা করে নিবেন সেই প্রশ্ন জেগেছে এবার। তবে টি-টোয়েন্টি দলে ওপেনার হিসেবে দুই হার্ডহিটার ব্যাটার ইমন-তামিমের জায়গা যে নিশ্চিত সেটা নিশ্চিত করেই বলা যায়।

জাকের আলীর ব্যাটিং পজিশন-

২০২৪ সালে অভিষেকের সময় ৭ নম্বরে ব্যাটিং করেন জাকের আলী অনিক। সে সময় ভাবা হয়েছিল ‘ফিনিশার’ হিসেবেই হয়তো খেলবেন তিনি। তবে তার ব্যাটিং অর্ডারে খানিকটা পরিবর্তন এসেছে। সাম্প্রতিক সময়ে বেশিরভাগ সময়ে ৫ নম্বরে ব্যাট করেছেন। শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান সিরিজে পুরোটা সময় তাকে ৫ নম্বরে ব্যাটিং করানো হচ্ছে। এখন পর্যন্ত এই পজিশনে ব্যাট করেই অবশ্য বেশি সফল তিনি। ৫ নম্বরে ব্যাট করে ১১ ইনিংসে ১৩৭ স্ট্রাইক রেট ও ৩৭ গড়ে করেছেন ৩০২ রান। তাকে ৫ নম্বরে নাকি ৭ নম্বরে ব্যাটিং করানো হবে সেটা নিয়েও আছে প্রশ্ন।

অধিনায়ক লিটনের অফফর্ম

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের শেষ দুই টি-টোয়েন্টিতে লিটন দাসের ব্যাটে আসে ৭৬ ও ৩২ রান। তবে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে সেই পুরোনো রূপে ফিরেছেন তিনি। তিন ম্যাচে তার ব্যাটে এসেছে মোটে ১৭ রান। এশিয়া কাপের আগে দলের অধিনায়কের এমন অফফর্ম খানিকটা চিন্তার কারণ হতে পারে বাংলাদেশ দলের জন্য। হুটহাট পারফর্ম করা লিটন দাস ক্যারিয়ারজুড়ে সবসময়ই সমালোচনার শিকার হয়েছে নিজের এই অফফর্মের কারণে। এরই মধ্যে তার কাঁধে উঠেছে এমন অধিনায়কত্বের আর্মব্যান্ড। অধিনায়ক হওয়ার পর তার এমন হুট করে রান করাটা হয়তো বিবেচিত হবে ‘ওয়ান ম্যাচ ওয়ান্ডার’ হিসেবে।

রোটেশন পলিসি

পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টিতে ৫ পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামে বাংলাদেশ। মূলত সাইডবেঞ্চ শক্তি পরীক্ষার জন্যই এমন সিদ্ধান্ত নেয়। তবে এই সিদ্ধান্তের পর জয় নিশ্চিত করতে পারেনি লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এশিয়া কাপের আগে ৫ পরিবর্তনের পর ম্যাচ হার বাংলাদেশকে খানিকটা ব্যাকফুটে রাখবে। এছাড়া শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান সিরিজে মোস্তাফিজুর রহমান ও তাসকিন আহমেদকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে খেলায় বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট। তাদেরকে এভাবে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে খেলানোটাও বড় প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। কারণ- তারা দুজনই বাংলাদেশের সেরা বোলার। এছাড়া একাদশের বাইরে থাকা ক্রিকেটাররা এখনও নিজেদের সেরাটা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত নন- সেটাও প্রমাণ করে বাংলাদেশ দলের এই রোটেশন পলিসি।

ফিল্ডিং ব্যর্থতা

পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ও দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে বেশ কয়েকটি সহজ ক্যাচ মিস করেছে বাংলাদেশ দল। গ্রাউন্ড ফিল্ডিংয়েও বেশ ক্রিকেটারদের বেশকিছু ভুল ছিল স্পষ্ট। তবে বেশ কিছু দারুণ রান আউটের দেখা মিলেছিল। ফিল্ডিং কোচ জেমস প্যামেন্টের সঙ্গে ফিল্ডিং নিয়ে কাজ করছেন ক্রিকেটাররা। পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা সিরিজে বৃষ্টির কারণে বল ভেজা থাকায় ফিল্ডিংয়ের দূর্বলতা বেশি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এশিয়া কাপের আগে লম্বা সময়ের বিরতিতে ফিল্ডিং নিয়ে উন্নতি করতে হবে বাংলাদেশকে। না হলে বড় মঞ্চে বেশ বেগ পেতে হবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন