বাজে ব্যাটিংয়ে শুরু করলেও শেষ দিকে এসে দাপুটে ব্যাটিং উপহার দিয়েছিল শ্রীলঙ্কা। ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজের ফাইনালেও দুর্বার ব্যাটিংয়ের সেই ছন্দটা ধরে রাখার আভাস দিয়েছিল তারা। কিন্তু শেষ দিকে ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়ে যায় শ্রীলঙ্কা। কামিল মিশারার দারুণ ব্যাটিং নৈপুণ্যের পরও ১১৪ রানে গুটিয়ে যায় দাসুন শানাকার দল। তাতে পাকিস্তান পেয়েছে অনায়াস জয়। লঙ্কানদের ৬ উইকেটে উড়িয়ে সিরিজ শিরোপা জিতে নিয়েছে স্বাগতিকরা। এবং সেটা ৮ বল হাতে রেখেই।
জবাবে ব্যাট হাতে নেমে ৪ উইকেট হারিয়েই লক্ষ্য টপকে ১১৮ রান তুলে জয়ের বন্দরে পা রাখে পাকিস্তান। ৩৭ রানে অপরাজিত থেকে যান বাবর আজম। আর ৩৬ রান আসে সাইম আইয়ুবের ব্যাট থেকে। সাহিবজাদা ফারহান এনে দেন ২৩ রান।
রাওয়ালপিন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে মাঠে নামতেই শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং লাইনআপে আঘাত হানে পাকিস্তান। ওপেনার পাথুম নিসাঙ্কাকে ফিরিয়ে দেন শাহিন শাহ আফ্রিদি। দলীয় স্কোর তখন ছিল ২০ রান। তবে অন্য উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান মিশারার দৃঢ় ব্যাটিংয়ে বিপদ দ্রুত কাটিয়ে উঠার চেষ্টা করে লঙ্কানরা। ৪৭ রানে উপহার দেন ৫৯ রানের দারুণ এক ইনিংস। মিশারার ইনিংসটি সাজান ২ বাউন্ডারি ও ৪ ছক্কায়। ২ উইকেট হারিয়ে তারা তুলে ফেলে ৯৮ রান।
এরপরই লঙ্কান ব্যাটিং-অর্ডারে মড়ক লেগে যায়। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়তে থাকে। শুরু হয়ে যায় ব্যাটসম্যানদের আসা-যাওয়ার মিছিল। মাত্র ১৬ রানের ব্যবধানে তাসের ঘরের মতো উড়ে যায় অতিথিদের বাকি ৮ উইকেট। দুই অঙ্ক স্পর্শ করেছে কেবল নিসাঙ্কা (১১) ও কুশল মেন্ডিস (১৪)। বাকি ব্যাটসম্যানরা সন্তুষ্ট থেকে যান সিঙ্গেল ডিজিটে। শ্রীলঙ্কা গুটিয়ে যায় মাত্র ১১৪ রানে।
পাকিস্তানের জার্সিতে তিনটি করে উইকেট নেন শাহিন শাহ আফ্রিদি ও মোহাম্মদ নাওয়াজ। দুটি উইকেট নেন আবরার আহমেদ।
হার দিয়েই অবশ্য ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু করেছিল শ্রীলঙ্কা। প্রথম ম্যাচেই হার মেনেছিল তারা জিম্বাবুয়ের কাছে। পরে ধরাশায়ী হয় পাকিস্তানের কাছে। টানা হারে সিরিজ থেকে ছিটকে যাওয়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল লঙ্কানরা। কিন্তু শেষ দিকে প্রত্যাবর্তনের গল্প লেখে। টানা হারের মধুর প্রতিশোধ নিয়ে জিম্বাবুয়ে ও পাকিস্তানকে হারিয়ে শেষে শ্রীলঙ্কা নাম লেখে ফাইনালে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
শ্রীলঙ্কা : ১১৪/১০, ১৯.১ ওভার (মিশারা ৫৯, কুশল ১৪, নিসাঙ্কা ১১; আফ্রিদি ৩/১৮, আবরার ২/১৮ ও নাওয়াজ ৩/১৭)।
পাকিস্তান: ১১৮/৪. ১৮.৪ ওভার (বাবর ৩৭*, সাইম ৩৬, সাহিবজাদা ২৩; পবন ২/১১)।
ফল: পাকিস্তান ৬ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচসেরা : মোহাম্মদ নাওয়াজ।
সিরিজ সেরা: মোহাম্মদ নাওয়াজ।

