দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তৃতীয় বিভাগ বাছাই ক্রিকেট লিগ নিয়ে হওয়া তদন্তে গত এক দশকে প্রায় অটোপ্রমোশন পাওয়া ১৪ ক্লাব নিয়ে আছে বিস্তর অভিযোগ। বিসিবিতে তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেটে হওয়া অনিয়ম নিয়ে ঢাকার ক্রিকেটে সুযোগ পাওয়া ক্লাবগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশও আছে দুদকের প্রতিবেদনে। তবে ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটের সংগঠকরা ক্লাবগুলোর বিপক্ষে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে নন। বরং ক্লাবগুলোর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে তারা। গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটের একাধিক সংগঠক।
মাস সাত-আটেক আগে গজিয়ে ওঠা ঢাকার ক্রিকেট ক্লাব অরগানাইজার্স অ্যাসোসিয়েশনের ব্যানারে গতকাল সংবাদ সম্মেলন করেন সংগঠকরা। মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এই সংবাদ সম্মেলনে সংগঠকরা আসন্ন বিসিবি নির্বাচন ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে কথা বলেন। নির্বাচন প্রসঙ্গেই ওঠে দুদকের তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসা ১৪ ক্লাবের অনিয়মের ব্যাপারটি। এ ব্যাপারে ঢাকার ক্রিকেটের প্রবীণ সংগঠক রফিকুল ইসলাম বাবু বলেন, ‘ক্লাবের কোনো দোষ নেই। যারা ভুল করেছে, তাদের দোষ। ক্লাবগুলোর এখন কমিটি আছে। এখন সঠিকভাবে চলছে।’ এমনকি ক্লাবগুলোর হয়ে ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটে খেলা ক্রিকেটাররা তাদের পারিশ্রমিকও বুঝে পেয়েছে বলে তার দাবি।
কেন ক্লাবগুলোকে নিষিদ্ধ কিংবা সরিয়ে দেওয়ার পক্ষে ননÑসে ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তিনি। তার কথায়, ক্লাবগুলোর হয়ে প্রায় ২৫০-৩০০ ক্রিকেটার খেলেছে। ক্লাবগুলো নিষিদ্ধ বা সরিয়ে দেওয়া হলে অনেক ক্রিকেটারের রুটি-রুজি বন্ধ হয়ে যাবে। খেলোয়াড়রা নিজেদের প্রমাণ ও পারফর্ম করার সুযোগ হারাবে বলেও জানান তিনি। এসব বিবেচনায় নিয়ে তার দাবি, ক্লাবগুলোর বিপক্ষে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে অন্যায় উপায়ে ওপরে ওঠানো ব্যক্তিদের শাস্তি দিন। পাশাপাশি তিনি জানান, দুদকের তদন্তে নাম আসা ১৪ ক্লাব নিয়মমাফিকভাবেই আছে।
এই সংবাদ সম্মেলনে ঢাকার ক্লাব সংগঠকদের দাবি, একটি চক্র নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে। কীভাবে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছেÑএমন প্রশ্নের জবাবে রফিকুল ইসলাম বাবু বলেন, অ্যাডহক কমিটি করে নির্ধারিত সময়ের পর নির্বাচন আয়োজনের চেষ্টা চলছে। তিনি জানান, বর্তমানে অ্যাডহক কমিটির হাতে বিসিবির দায়িত্ব তুলে দেওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। নির্ধারিত সময়ে নির্বাচনের দাবি তোলা ঢাকার ক্লাব ক্রিকেট সংগঠকদের ভাষ্য, বিসিবির বর্তমান গঠনতন্ত্র মেনেই নির্বাচন দিতে হবে। কেন নতুন গঠনতন্ত্র তৈরি করা সম্ভব নয়Ñসে ব্যাখ্যায় তারা বলেন, এখন গঠনতন্ত্র সংস্কার বা পরিমার্জনের জন্য যে সময়ের প্রয়োজন, সেটা পর্যাপ্ত নয়। আর বিসিবির এজিএম ও বোর্ড সভায় পাস করাতে হবে নতুন গঠনতন্ত্র, যা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। সে কারণে বর্তমান গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচনের দাবি তাদের। গঠনতন্ত্রের ব্যাপারে রফিকুল ইসলাম বাবু বলেন, নির্বাচনের পর দায়িত্ব নিয়ে নতুন বোর্ড গঠনতন্ত্র পরিবর্তনে কাজ করতে পারবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

