মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ব্রাদার্স ইউনিয়নের বিপক্ষে ৪২২ রান তুলে রেকর্ড গড়ে প্রাইম ব্যাংক। একই মাঠে পরের দুই ম্যাচে আগে ব্যাট করা দুই দলের সংগ্রহ ছিল যথাক্রমেÑ ৬৯ ও ১০০। প্রাইম ব্যাংকের রান উৎসবের পর মিরপুরের মাঠে ব্যাটারদের ব্যর্থতা খানিকটা প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে ৪২২ রান কি ফ্লুক ছিল? পরিসংখ্যানের দিকে চোখ বুলালে অন্তত তেমনটাই মনে হতে পারে। কারণ, এবারের ডিপিএলে যে ব্যাটাররা রান করতেই ভুলে গেছেন। আবার যারা রান করছেন সবাই ঘরোয়া ক্রিকেটের পরীক্ষিত ও পুরোনো মুখ। নতুন বোলাররাও যে প্রচণ্ড দাপুটে পারফরম করছেন সেটাও নয়। সেখানেও শুধুই পরীক্ষিত আর পুরোনো মুখদের জয়জয়কার।
ডিপিএলের প্রথম চার রাউন্ডে হয়েছে মোট ২৪ ম্যাচ। ৪৮ ইনিংসে মাত্র পাঁচবার দলীয় সংগ্রহ ৩০০-এর কোটা পেরিয়েছে। ৪৮ ইনিংসের মধ্যে ৯ বার দলগুলোর ইনিংস শেষ হয়েছে ১৫০ রানের নিচে। এই পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট এবারের ডিপিএলে ব্যাটারদের ব্যাটে আসছে না। ব্যাপারটি আরেকটু পরিষ্কার হবে আরেকটি পরিসংখ্যানে।
ডিপিএলে মাঠে গড়ানো ২৪ ম্যাচের ৪৮ ইনিংসে মোট ১০ হাজার ৩৬৯ রান হয়েছে। গড়ে প্রতি ইনিংসে দলগুলোর সংগ্রহ ছিল ২১৬ রান। আরেকটু বিস্তারিত বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, উইকেটপ্রতি মাত্র ৩১ রান এসেছে এখন পর্যন্ত। ব্যাটারদের রান তুলতে না পারার ব্যর্থতার প্রভাব আছে হাফ সেঞ্চুরি ও সেঞ্চুরি সংখ্যায়। ডিপিএলে ২৪ ম্যাচে ৫১ হাফ সেঞ্চুরির বিপরীতে সেঞ্চুরি হয়েছে মোটে ৯টি। যার মধ্যে কি না অভিজ্ঞ তামিম ইকবালের ব্যাটেই এসেছে দুটি। তরুণদের মধ্যে সেঞ্চুরি করেছেন ইফতেখার হোসেন ইফতি। গুলশান ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে খেলা এই তরুণ সেঞ্চুরি করেন ডিপিএলের শুরুর দিনে। আর কোনো তরুণ কিংবা খানিকটা কম পরিচিত ক্রিকেটারের ব্যাটে এখন পর্যন্ত হয়নি বড় কোনো স্কোর। তাতে খানিকটা স্পষ্ট এবারের ডিপিএলে কমেছে ব্যাটারদের দাপট।
ডিপিএল মাঠে গড়ানোর দিনে অগ্রণী ব্যাংকের কাছে হেরে হোঁচটের শিকার হয় ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আবাহনী। ম্যাচ শেষে আবাহনীর এক কোচ আমার দেশকে বলেন, ‘সকালে যে উইকেট ছিল তাতে ব্যাটিং করা কঠিন। এমন উইকেট হলে রান হবে না আর ব্যাটারদের প্রস্তুতিও হবে না ঠিকঠাক।’ ডিপিএলের চার রাউন্ড শেষে তার কথার ওই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে পরিসংখ্যানের পাতায়। টুর্নামেন্টে রান না হওয়ার কারণ হিসেবে অনেকে বাড়তি গরমকে দায় দিচ্ছেন। এ ছাড়া রমজান মাস হওয়ায় ক্রিকেটাররা খেলায় শতভাগ মনোযোগ দিতে পারছেন না বলেও মনে করেন অনেকে।
ডিপিএল খেলা এক ক্রিকেটার আমার দেশকে বলেন, ডিপিএলে এবার রান না হওয়ার মূল কারণ পুরোনো উইকেটে খেলা হচ্ছে। সাধারণত ডিপিএল দিয়ে শেষ হয় ঢাকার ক্রিকেট মৌসুম। সেপ্টেম্বরে তৃতীয় বিভাগ দিয়ে শুরু হয়ে দ্বিতীয় বিভাগ, প্রথম বিভাগ শেষে মাঠে গড়ায় প্রিমিয়ার লিগ। সবকটি লিগের খেলার জন্য নির্দিষ্ট কয়েকটি মাঠের ওপর নির্ভর থাকতে হয় ঢাকার ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিসিডিএমকে। ফলে মাঠগুলোর ওপর থাকে বাড়তি চাপ। সবার শেষে ডিপিএল মাঠে গড়ানোয় এই টুর্নামেন্ট হয় পুরোনো উইকেটে। এটাকেই ডিপিএলে রান কম হওয়ার মূল কারণ মনে করেন ক্রিকেটাররা।
আমার দেশকে বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার জানান, ‘ডিপিএল সবার শেষে হচ্ছে। অন্যবার প্রথম বিভাগ, দ্বিতীয় বিভাগ একটা লিগ থেকে আরেকটা লিগ শুরুর আগে উইকেটগুলো পর্যাপ্ত বিশ্রাম দিতে পারত সিসিডিএম। কিন্তু এবার তো সেটা সম্ভব হয়নি। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে নির্ধারিত সময় ঘরোয়া মৌসুম শুরু হয়নি। সে কারণেই উইকেটগুলো ঠিকঠাক বিশ্রাম পায়নি। আমাদের পুরোনো উইকেটে খেলতে হচ্ছে। আর বল ঠিকঠাক ব্যাটে আসছে না। সে কারণে রান করাটাই কঠিন হচ্ছে আমাদের জন্য।’
শুধু যে রান করা কঠিন হয়ে উঠেছে, তেমনটা মানতে নারাজ ওই ক্রিকেটার। পেসারদের জন্যও এই ধরনের উইকেটে ভালো করা কঠিন বলে দাবি তার। তিনি বলেন, ‘পুরোনো উইকেট বলে এবার শুধুই স্পিনাররা সাফল্য পাচ্ছে। পেসারদের জন্য এখানে বোলিং করা কঠিন হয়ে উঠেছে।’ পুরোনো উইকেটে বারবার ডিপিএল আয়োজন না করার অনুরোধ ছিল ওই ক্রিকেটারের। তার কথায়, ‘আমরা সারা বছর ডিপিএলের অপেক্ষায় থাকি। এখানে যদি এমন উইকেটে খেলা হয়, তাহলে নিজেদের প্রমাণ করতে পারব না। নতুন উইকেটে খেলা দিলে সেটা আমাদের জন্য ভালো হতো। আশা করি, এই চিন্তা করে মাঠ আর উইকেট বাড়াবে।’
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

