এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে প্রতিপক্ষ

কাবরেরার টার্গেট পূর্ণ তিন পয়েন্ট

কাবরেরার টার্গেট পূর্ণ তিন পয়েন্ট

মতিঝিলস্থ বাাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনে (বাফুফে) গেলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাড়তি ব্যস্ততা চোখে পড়বে। সংবাদমাধ্যম কর্মীদেরও ব্যস্ততা বেড়ে গেছে অনেক। কোচ, সংগঠক, সাংবাদিকসহ সবার পদচারণে ফুটবল অঙ্গনে বইছে এক উৎসবের আমেজ। মূলত আগামী ১০ জুন সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে এএফসি এশিয়ান কাপের বাছাই পর্বের ম্যাচকে ঘিরেই সব আকর্ষণ।

বিজ্ঞাপন

জাতীয় দলের প্রধান কোচ হ্যাভিয়ের কাবরেরাও দল নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। গত সপ্তাহে ছুটি কাটিয়ে স্পেন থেকে ঢাকায় ফিরে ঘরোয়া ফুটবলে নজর দেন এই কোচ। প্রবাসী ফুটবলারদের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলেন। নানা দিক বিচার-বিশ্লেষণ করে শেষ পর্যন্ত সিঙ্গাপুর ও ভুটান ম্যাচের জন্য ২৬ সদস্যের প্রাথমিক দল বাছাই করেছেন স্প্যানিশ কোচ কাবরেরা।

তার দলে তেমন কোনো চমক নেই। অনুমিতভাবেই দলে আছেন ত্রয়ী প্রবাসী- দেওয়ান হামজা চৌধুরী, শমিত সোম ও ফাহামিদুল ইসলাম। এর মধ্যে গত মার্চে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশ দলে অভিষেক হয়েছে হামজার। তবে ঘরের মাঠে এখনো কোনো ম্যাচ খেলেননি ইংলিশ লিগে খেলা এই ফুটবলার। ২ জুন ইংল্যান্ড থেকে ঢাকায় আসার কথা রয়েছে তার।

অন্যদিকে, কানাডা প্রবাসী শমিত সোম প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের জার্সি চেপে খেলার জন্য বাংলাদেশে আসছেন। আগামী ৩ জুন বাংলাদেশের বিমান ধরার কথা তার। অপরদিকে, ভারতের বিপক্ষে গত ম্যাচে বাংলাদেশ দলের ক্যাম্পে ডাক পেয়েছিলেন ফাহামিদুল ইসলাম। কিন্তু সৌদি আরবে হওয়া সেই ক্যাম্পে শেষ পর্যন্ত কোচ কাবরেরার মনঃপূত না হওয়ায় ইতালি ফিরে যান ফাহামিদুল।

তাকে চূড়ান্ত দল থেকে বাদ দেওয়ায় আন্দোলন-বিক্ষোভ করেন ফুটবল সমর্থকরা। বাফুফের কয়েকজন কর্তাও চাইছিলেন ফাহামিদুল চূড়ান্ত দলে থাকুক, ভারতের বিপক্ষে খেলুক। ফাহামিদুলের দল থেকে বাদ পড়ায় বাফুফে সভাপতিকেও কথা বলতে হয়েছে। প্রচণ্ড সমালোচনার মুখে পড়েন কোচ কাবরেরা।

প্রতিবাদী ফুটবল সমর্থকদের দেওয়া বাফুফের প্রধানের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আবার ফাহামিদুলকে দলে ডাকা হয়েছে। দীর্ঘদিন পর কাবরেরা দলে ফিরেছেন ফরোয়ার্ড সুমন রেজা। তবে দল থেকে চন্দন রায় বাদ পড়ে গেছেন। ২৬ ফুটবলারকে নিয়ে আগামীকাল ৩০ মে ক্যাম্প শুরু করবেন কাবরেরা। এই স্প্যানিশ কোচ জানান, ক্যাম্পে আট থেকে দশটি ট্রেনিং সেশন করবেন তারা।

অতীত ফাহামিদুলকে বাদ দিয়ে আবার দলে ডাকার প্রসঙ্গে কাবরেরা জানান, ‘আমি ফাহামিদুলের ব্যাপারে খোঁজখবর রাখছিলাম। গত মার্চ থেকে তার সঙ্গে ও ক্লাব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছিলাম। দলের যেটা প্রয়োজন, আমার বিশ্বাস সেটা মেটানোর সামর্থ্য তার আছে।’

হামজা চৌধুরী সঙ্গে মিডফিল্ডার শমিত সোম খেলবেন। এতে বাংলাদেশের মিডফিল্ড আরো শক্ত হবে। দক্ষিণ এশিয়ার দলগুলোর মধ্যে শক্তিতে বাংলাদেশের মিডফিল্ডই সেরা মনে করেন কি না? কোচ কাবরেরা জানান, দক্ষিণ এশিয়ায় তার দল মাঝমাঠে অবশ্যই শক্তিশালী। তিনি বলেন, ‘যদি সেরা নাও হই, সম্ভবত খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ মাঝমাঠ আমাদের। শমিতের মান আছে, কিন্তু তার ব্যাপারে আমাদের ধৈর্য্য ধরতে হবে। কেননা, মানিয়ে নেওয়ার জন্য সে খুবই অল্প সময় পাচ্ছে। কানাডা থেকে লম্বা ভ্রমণ করে আসছে। এখানকার কন্ডিশন ভিন্ন। তবে আমরা তাকে নিয়ে ইতিবাচক আছি।’

আরেক ইংল্যান্ড প্রবাসী কিউবা মিচেল খেলানোর চেষ্টায় রয়েছে বাংলাদেশ। সিঙ্গাপুর ম্যাচে কিউবা মিচেলকে পাওয়া যাবে কি না? বাংলাদেশ কোচ কাবরেরা বলেন, ‘ন্যাশনাল টিমস কমিটি এটা বলতে পারবে। এ ব্যাপারে তারাই ভালো বলতে পারে। অবশ্যই তার সম্ভাবনা আছে। আমরা তরুণ ও সম্ভাবনাময়দের ডাকব।’

সম্প্রতি ঘরোয়া ফুটবলে নিষেধাজ্ঞা পড়া সাদ উদ্দিনকে জাতীয় দলে জায়গা পেয়েছেন। সাদউদ্দিনের প্রতি আস্থা রাখছেন কাবরেরাও। তিনি বলেন, ‘সে ফিট আছে, আমার কাছে সে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। অবশ্যই সে একটা ভুল করেছে, শাস্তি পেয়েছে। শেখ মোরসালিন কালও (মঙ্গলবার) গোল করেছে, এর আগের রাউন্ডেও গোল করেছে। আমি বিশ্বাস করি, সেরা পর্যায়ে থেকে সে দলে আসছে।’

যে প্রাথমিক দল গঠন করেছেন কোচ কাবরেরা, এ দলটি ঘিরে বেশ আত্মবিশ্বাসী তিনি। আসন্ন সিঙ্গাপুর ম্যাচ পূর্ণ তিন পয়েন্ট অর্জন করার লক্ষ্য তার। কাবরেরা বলেন, ‘আমাদের নিজেদের প্রতি পূর্ণ আস্থা আছে। ভারতের আমরা দারুণ একটা ম্যাচ খেলেছি। আরও ফল হতে পারত। জিততেও পারতাম। যদি কমপক্ষে একই মানের খেলা সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে খেলতে পারি, তাহলে আমরা ভালো ফল পেতে পারি। তিন পয়েন্ট পেতে পারি।’

চূড়ান্ত নির্বাচন করার ক্ষেত্রে প্রাথমিক দল থেকে বাদ পড়বেন তিন জন। ক্যাম্প ও প্রীতি ম্যাচ খেলার পর ২৩ সদস্যের চূড়ান্ত দল নির্বাচন করা হবে।

বাংলাদেশ প্রাথমিক ফুটবল দল

গোলরক্ষক: মিতুল মারমা, সুজন হোসেন, মেহেদি হাসান শ্রাবণ;

রক্ষণভাগ: শাকিল আহাদ তপু, জাহিদ হাসান শান্ত, রহমত মিয়া, ঈসা ফয়সাল, তাজ উদ্দিন, তারিক কাজী, তপু বর্মণ, সাদ উদ্দিন;

মধ্যভাগ: মোহাম্মদ হৃদয়, সৈয়দ শাহ কাজেম কিরমানি, সোহেল রানা, মুজিবুর রহমান জনি, শেখ মোরসালিন, জামাল ভূঁইয়া, হামজা চৌধুরী, শমিত সোম;

আক্রমণভাগ: ফাহামিদুল ইসলাম, ফয়সাল আহমেদ ফাহিম, রাকিব হোসেন, ইমন শাহরিয়ার, মোহাম্মদ ইব্রাহিম, আল আমিন সুমন রেজা।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন