জয়ে সাফ মিশন শুরু বাংলাদেশের

জয়ে সাফ মিশন শুরু বাংলাদেশের

হামজা চৌধুরী অনুপস্থিত। শেষ মুহূর্তে চোট পেলেন তপু বর্মণও। তাই বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে ছাড়াই সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভুটানের বিপক্ষে খেলতে নামে বাংলাদেশ। তবে এই ম্যাচে দাপট দেখিয়েই জিতল কোচ টমাস ডুলির দল। ভুটানকে ১-০ গোলে হারিয়ে সাফের মিশন শুরু হলো বাংলাদেশের। অনেক অপেক্ষার পর ৬৯ মিনিটে বদলি হিসেবে গোলে করেন মোহাম্মদ ইব্রাহিম। শেষ পর্যন্ত তার গোলেই জয়ের হাসি নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ। ভুটানের বিপক্ষে জিতে টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালের পথে এক ধাপ এগিয়ে গেল স্বাগতিকরা। আগামী ১১ নভেম্বর গ্রুপ পর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ শ্রীলংকা।

জাতীয় স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ-ভুটান ম্যাচের সময় দর্শকের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। ম্যাচের ফাঁকে জায়ান্ট স্ক্রিনে দেখানো দল, ২২ হাজার দর্শক ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন জাতীয় স্টেডিয়ামে দর্শকের উপস্থিতি প্রায় ১৩ হাজারের মতো। এই দর্শকদের হতাশ করেনি বাংলাদেশ। প্রত্যাশিত জয় উপহার দিলেন ইব্রাহিমরা। তবে ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যেভাবে খেলল বাংলাদেশ, ভুটানের বিপক্ষে আরো অনেক বড় ব্যবধানে জিততে পারত তারা। সেই ফিনিশিংয়ের দুর্বলতাই দেখা গেল বাংলাদেশের। গোলমুখে গিয়ে খেলোয়াড়দের তালগোল পাকানোর দৃশ্যটা আবার প্রদর্শন হয়েছে। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমাত্মক ফুটবলের পসরা সাজায় কোচ টমাস ডুলির দল। বাংলাদেশের একের পর এক আক্রমণে তঠস্থ হয়ে পড়ে ভুটান দল। স্বাগতিকদের আক্রমণ ঠেকানোই যেন দায় হয়ে পড়ে তাদের। কিন্তু আধিপত্য বিস্তার করে খেললেও বিরতির আগে গোলের মুখ খুলতে পারল না বাংলাদেশ। গোল না পাওয়ার আক্ষেপ নিয়ে ম্যাচের প্রথমার্ধের খেলা শেষ করে তারা।

বিজ্ঞাপন

গোলের অনেক সুযোগ তৈরি করেছিলেন রাকিব, জামাল, বিশ্বনাথরা। কিন্তু সফল হয়নি তারা। ৫ মিনিটে ডান দিক থেকে রাকিব ক্রস বাড়িয়েছিলেন বিশ্বনাথের দিকে। কিন্তু ভুটানের রক্ষণভাগের বাধায় বল ধরে রাখতে পারেননি বিশ্বনাথ। অবশ্য বক্সের মধ্যে বল পেয়ে জোড়ালো শট নিলেও গোল পাননি জামাল। ১৭ মিনিটে গোলের আরেকটি সম্ভাবনা তৈরি হয়। রাকিবের ক্রসে হেড নিয়েছিলেন বিশ্বনাথ। কিন্তু বল চলে যায় পোস্টের বাইরে দিয়ে। ২২ মিনিটে জামালের লক্ষ্যভ্রষ্ট শটে বল গোলপোস্টের উপর দিয়ে উড়ে যায়। ২৬ মিনিটে কর্নার থেকে ভুটানের গোলমুখে আতঙ্ক ছাড়ান। ৩৯ মিনিটে ডানদিক থেকে বক্সের মধ্যে বল পেয়ে গিয়েছিলেন বিশ্বনাথ। কিন্তু শট নিলেও বল লক্ষ্যে রাখতে পারেননি এই ডিফেন্ডার। এরপর ডানদিক থেকে রাকিব পাস দিয়েছিলেন। কিন্তু এ যাত্রায় গোলরক্ষকের দক্ষতায় বেঁচে যায় ভুটান। সব মিলে প্রথমার্ধে গোল না পাওয়ার আফসোস নিয়েই বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।

দ্বিতীয়ার্ধে খেলতে নেমে আক্রমণের গতি ধরে রাখলেও গোল পাচ্ছিল না বাংলাদেশ। যে কারণে একাদশে পরিবর্তন আনেন কোচ ডুলি। ৬৫ মিনিটে মাঠে নামলেন ইব্রাহিম। প্রথমার্ধে আলো ছড়ানো বিশ্বনাথ ঘোষকে তুলে নেওয়া হলো। মাঠে নামার চার মিনিটের মধ্যেই বাংলাদেশকে আনন্দের উপলক্ষ্য এনে দিলেন ইব্রাহিম। বক্সের মধ্যে শমিত সোমের হেডে বল পেয়েই গোল করেন এই বদলি খেলোয়াড়। এরপর আরো সুযোগ তৈরি হলেও গোল পায়নি বাংলাদেশ। ফলে ইব্রাহিমের গোলটি ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে দিল।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...