জাপান থেকে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল গলায় পদক নিয়ে দেশে ফিরবে, নাকি শূন্য হাতেই শেষ হবে তাদের এশিয়ান গেমস অভিযান। আজ সকাল সকালই আপনি এই তথ্য জেনে যাচ্ছেন। স্বর্ণ-রুপার দরজা বন্ধ হয়ে গেছে ভারতের কাছে হারে। সামনে এখন শুধু ব্রোঞ্জের শেষ লড়াই। সেই লড়াইয়ে প্রতিপক্ষ পাকিস্তান।
আইচি-নাগোয়ার কোরোগি অ্যাথলেটিক্স পার্কে আজ তাই বাংলাদেশের মেয়েদের চোখ শুধু স্কোরবোর্ডে নয়, পদকের দিকেও। বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টায় শুরু হবে পাকিস্তানের বিপক্ষে ব্রোঞ্জ পদকের এই লড়াই।
অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্ব ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। পাকিস্তানের বিপক্ষে আজকের ম্যাচটিই এই ফরম্যাটে অধিনায়ক হিসেবে তার শেষ ম্যাচ। নেতৃত্বের শেষ অধ্যায়টি একটি পদক দিয়ে শেষ করতে পারলে সেটি জ্যোতির জন্য যেমন স্মরণীয় হবে, বাংলাদেশের জন্যও হবে স্বস্তির। সতীর্থরা নিশ্চয়ই অধিনায়কের শেষটা সাফল্যের আলোতে রাঙাতে চাইবেন?
তবে ম্যাচের আগে জ্যোতি নিজের শেষ ম্যাচের আবেগকে খুব একটা সামনে আনছেন না। তার কাছে এটি আরেকটি ম্যাচ। এই প্রসঙ্গে তার মন্তব্যটা—‘অত গভীরভাবে চিন্তা করছি না, এটা আরেকটা ম্যাচ। ডেফিনেটলি আমাদের ভালো কিছু করার সুযোগ আছে।’
ভারতের কাছে ১১৪ রানের হারের হতাশা নিয়েই মাঠে নামবে বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে ৮১ রানে গুটিয়ে যাওয়ার ব্যাটিং ব্যর্থতা আজ কাটিয়ে উঠতে হবে। ফাইনালের স্বপ্ন পূরণ হয়নি, কিন্তু পদকের সুযোগ এখনো আছে। তাই ভারতের ম্যাচের ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে নতুন করে শুরু করতে চাইবে বাংলাদেশ।
পাকিস্তানের অবস্থাও অবশ্য একই। শ্রীলঙ্কার কাছে আট উইকেটে হেরে তাদের স্বর্ণের লড়াই শেষ। ব্রোঞ্জ তাই তাদের কাছেও শেষ সুযোগ। কোরোগির এই সবুজ মাঠে আজ দুদলই নামবে হতাশা কাটিয়ে একটি পদক নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে।
বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাসের জায়গা অবশ্য আছে। চলতি বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেই পাকিস্তানকে হারিয়েছিল তারা। জুনে সাউদাম্পটনের সেই ম্যাচে বাংলাদেশ ৬ উইকেটে ১২৩ রান করার পর পাকিস্তানকে ১০০ রানে আটকে দিয়েছিল। স্বর্ণা আক্তারের ২২ বলে অপরাজিত ৩৯ রান এবং নাহিদা আক্তার ও সানজিদা আক্তার মেঘলার তিনটি করে উইকেট এনে দিয়েছিল ২৩ রানের জয়।
সেই ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ছিল পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের স্পিনের কার্যকারিতা। নাহিদা, রাবেয়া খান ও সানজিদা মেঘলা মাঝের ওভারগুলোতে চাপ তৈরি করতে পারলে আজও পাকিস্তানের ব্যাটিং সমস্যায় পড়তে পারে। বিশ্বকাপের ম্যাচে ৪৯ রানে বিনা উইকেটে থাকা পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের স্পিনে ৬ উইকেটে ৭৭ রানে নেমে গিয়েছিল।
তবে আজ বোলারদের পাশাপাশি ব্যাটারদেরও বড় দায়িত্ব নিতে হবে। ভারতের বিপক্ষে মাত্র ৮১ রানে অলআউট হওয়ার পর পাওয়ার প্লেতে উইকেট ধরে রাখা জরুরি। জ্যোতি, স্বর্ণা, সোবহানা মোস্তারি ও দিলারা আক্তারদের ব্যাটে বড় ভূমিকা রাখতে হবে। মাঝের ওভারগুলোতে দায়িত্বশীল ব্যাটিং প্রয়োজন।
পরিসংখ্যানের পাতায় পাকিস্তান অবশ্য এগিয়ে। দুই দল ২১টি নারী টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে। পাকিস্তান জিতেছে ১৬টি, বাংলাদেশ পাঁচটি। এশিয়ান গেমসের হিসাবও বাংলাদেশের পক্ষে নয়। এই প্রতিযোগিতায় আগের তিন সাক্ষাতেই জয় পেয়েছে পাকিস্তান। ২০১০ ও ২০১৪ সালে তারা বাংলাদেশকে হারিয়ে স্বর্ণ জিতেছিল। ২০২৩ সালের হাংঝু গেমসেও তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে বাংলাদেশকে ৯ উইকেটে হারিয়েছিল পাকিস্তান।
তবে খাতায় লেখা পরিসংখ্যান মাঠের ম্যাচ জেতায় না। পুরোনো হিসাবের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ২২ গজের ক্রিকেট। চলতি বছরের বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে হারানোর আত্মবিশ্বাস বাংলাদেশের আছে। সেই আত্মবিশ্বাসকে মাঠের পারফরম্যান্সে রূপ দিতে পারলেই বদলে যেতে পারে আগের সব হিসাব।
কোরোগি অ্যাথলেটিক্স পার্কে ম্যাচ শুরুর অপেক্ষা এখন। চারপাশের সবুজের মধ্যে ধীরে ধীরে বাড়ছে ক্রিকেটের উত্তাপ। বাংলাদেশ দল জানে, আজই শেষ সুযোগ। এই ম্যাচ জিতলেই গলায় উঠবে ব্রোঞ্জ। হারলে শেষ হবে পদকহীন অভিযান।
জ্যোতির জন্যও আজ একটি অধ্যায়ের শেষ। দীর্ঘদিনের টি-টোয়েন্টি নেতৃত্বের শেষ ম্যাচে অপেক্ষায় আছে একটি পদক। শেষটাকে স্মরণীয় করার জন্য এর চেয়ে বড় মঞ্চ হয়তো আর হতে পারে না।
এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে পাকিস্তানের কাছে তিন তিনবার হারের পর এবার বাংলাদেশ কি পারবে অন্তত প্রথম জয়টি তুলে নিয়ে পদক গলায় ঝোলাতে? উত্তরটা সম্ভবত এতক্ষণে আপনি পেয়ে গেছেন?
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


