বিপিএলের পুরোনো ইমেজ ফেরানোর দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইএমজির

বিপিএলের পুরোনো ইমেজ ফেরানোর দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইএমজির

দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি শুরুর ঘণ্টা চারেক আগে সিলেটে বিসিবির বোর্ডসভা। পাঁচ পরিচালকের উপস্থিতিতে হওয়া এই বোর্ডসভায় গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা বলতে বিসিবির আসন্ন নির্বাচন ও বিপিএল ইস্যু। শেষ পর্যন্ত বিসিবির এই সভায় নির্ধারিত হয়েছে আসন্ন নির্বাচনের ভাগ্য।

বিজ্ঞাপন

অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে বিসিবির নির্বাচন। ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, বিপিএল সংক্রান্ত বিষয়েও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে এবারের বোর্ডসভায়। বিপিএলের পুরোনো ইমেজ ফেরাতে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইএমজিকে দেওয়া হয়েছে দায়িত্ব।

এছাড়া বিপিএলের ফিক্সিংয়ের ব্যাপারটি নিয়ে বিসিবির করণীয় কী সেটা জানতে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বিপিএল ঘিরে তৈরি হওয়া ফিক্সিং ইস্যুতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল বিসিবি। মূলত ফিক্সিং ইস্যুতে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিংয়ের দায়িত্ব থাকা ওই কমিটি ইতোমধ্যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। সেখানে বিভিন্ন অভিযোগের সত্যতার পাশাপাশি তদন্ত কমিটি কিছু সুপারিশও করেছে। সেই প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে বিসিবি কী সিদ্ধান্ত নেবে এবং ভবিষ্যতে কী করণীয় তা জানতে একটি বিশেষ কমিটি করেছে।

চার সদস্যের ওই কমিটি আগামী ৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিসিবিকে করণীয় সম্পর্কে জানাবে। ওই সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করেই ফিক্সিং ইস্যুতে ভবিষ্যৎ কার্যক্রম চালাবে বিসিবি। এমনকি ওই কমিটির সুপারিশের ওপর ভিত্তি করেই আসন্ন ঘরোয়া লিগে অভিযুক্ত ক্রিকেটাররা খেলবেন কি না সেটা জানা যাবে।


এই ব্যাপারে বিসিবি পরিচালক নাজমুল আবেদীন ফাহিম সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘বিপিএল সংক্রান্ত ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি করা হয়েছে, তারা তাদের রিপোর্ট দিয়েছে। এটা আমরা দেখেছি, পেয়েছি— চার সদস্য বিশিষ্ট একটা কমিটি করা হয়েছে, যারা এটা রিভিউ করবে। বিসিবির এখন করণীয় কী, এখানে যে পরামর্শ আছে বা যে বিষয়গুলো উঠে এসেছে সে পরিপ্রেক্ষিতে বিসিবির করণীয় কী সেটা জানাবে। এখানে অবশ্যই লিগ্যাল সাইডের লোকজনই থাকবে, যারা মুখ্য ভূমিকা পালন করবে। তারা আমাদের জানাবে বিসিবির করণীয় কী।’


রিভিউ কমিটির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কোনো ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হবে কি না, সেই প্রশ্নের জবাবে নাজমুল আবেদিন ফাহিম ইঙ্গিত দিয়েছেন, ফিক্সিংয়ের অভিযোগ তদন্তের পর ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হতে পারে।
অন্যদিকে আগামী অক্টোবরে নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠিত হবে বিসিবির নির্বাচন। এই ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে বিসিবির বোর্ডসভায়। এজন্য ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিসিবি। এই ব্যাপারে নাজমুল আবেদিন ফাহিম জানান, নির্বাচন কমিশন গঠনের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের কাঁধে। এই নির্বাচনের আগে বিসিবির গঠনতন্ত্র সংস্কারের কথা থাকলেও আপাতত সেটা হচ্ছে না।

ফলে ২০২৪ সালের গঠনতন্ত্র অনুযায়ীই হবে বিসিবির আসন্ন নির্বাচন। এই দিকে বিসিবির কাউন্সিলর হিসেবে ভোট দেওয়ার সুযোগ পান প্রতিটি জেলা ও বিভাগ থেকে একজন করে।
তবে জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থায় এখনো হয়নি পূর্ণাঙ্গ কমিটি। অ্যাডহক কমিটির মাধ্যমে চলা ক্রীড়া সংস্থাগুলো থেকে কীভাবে কাউন্সিলর নেওয়া হবে, সেই প্রশ্নও উঠেছে।

এই ব্যাপারে নাজমুল আবেদিন ফাহিম জানান, বর্তমান গঠনতন্ত্রে যেভাবে নির্দেশনা আছে সেভাবেই কাউন্সিলর নেওয়া হবে।
বিসিবি নির্বাচন ও ফিক্সিং ইস্যুর পাশাপাশি বিপিএলের ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইএমজিকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে। তিন বছরের জন্য তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাদের সঙ্গে আলোচনা করে আগামী ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে বিপিএল আয়োজনের সব কার্যক্রম সম্পন্ন করবে বিসিবি। এমনটাই জানানো হয়েছে বিসিবির সভা শেষে।

পাশাপাশি কোচদের জন্য ২০০৯ সালের পর প্রথমবারের মতো লেভেল থ্রি কোচিং কোর্স করানো হচ্ছে। ব্যাটিং কোচদের উন্নতির জন্য তিন দিনের বিশেষ কোর্স আয়োজনের ঘোষণাও দিয়েছে বিসিবি। আর আম্পায়ার, ম্যাচ রেফারিসহ ম্যাচ অফিসিয়ালদের মান উন্নত করতে সাইমন টোফেলের নিয়োগ সম্পন্ন করেছে বিসিবি। আগামী দুই বছরের জন্য তিনি বিসিবির সঙ্গে কাজ করবেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন