ব্রাজিল পারবে ২৪ বছরের দুঃখ ঘুচাতে?

স্পোর্টস ডেস্ক

ব্রাজিল পারবে ২৪ বছরের দুঃখ ঘুচাতে?

বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল দল ব্রাজিল। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা কখনও বিশ্বকাপ মিস করেনি। তবুও সময়টা যেন দীর্ঘ অপেক্ষার। সবশেষ ২০০২ সালে শিরোপা জয়ের পর কেটে গেছে ২৪ বছর। এরপর বারবার আশা জাগিয়েও হতাশ করেছে সেলেসাওরা। এবার যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার বিশ্বকাপে সেই আক্ষেপ ঘোচানোর স্বপ্ন দেখছে তারা।

ব্রাজিলের সাম্প্রতিক বিশ্বকাপ স্মৃতিগুলো সুখকর নয়। ২০১৪ সালে ঘরের মাঠে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের ঐতিহাসিক হার এখনও তাড়া করে ফেরে দলটিকে। আর ২০২২ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নেয় তারা।

তবে এবার ব্রাজিলকে ঘিরে প্রত্যাশা কিছুটা ভিন্ন। আগের মতো অতিরিক্ত চাপ নেই, নেই অপ্রতিরোধ্য ফেভারিট তকমাও। বরং অনেকেই তাদের আন্ডারডগ হিসেবেই দেখছেন। আর সেটিই হয়তো দলটিকে বাড়তি স্বাধীনতা দিতে পারে।

এই মিশনের নেতৃত্বে আছেন অভিজ্ঞ ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলে অসাধারণ সফল এই কোচই এখন ব্রাজিলের নতুন আশার প্রতীক। রিয়াল মাদ্রিদ ও এসি মিলানের হয়ে পাঁচটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতা আনচেলত্তির কাঁধে এখন সেলেসাওদের দীর্ঘ অপেক্ষা ঘোচানোর দায়িত্ব।

যদিও আন্তর্জাতিক ফুটবলে এখনও পুরোপুরি পরীক্ষিত নন তিনি। তার অধীনে ব্রাজিলের শুরুটাও ছিল মিশ্র। প্রীতি ম্যাচে কলম্বিয়া ও চিলিকে হারালেও ফ্রান্সের কাছে হেরেছে তারা।

দলের সবচেয়ে বড় ভরসা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। রিয়াল মাদ্রিদ তারকার গতি, ড্রিবলিং ও গোল করার ক্ষমতা প্রতিপক্ষের জন্য ভয়ংকর। তবে জাতীয় দলের জার্সিতে এখনও ক্লাবের মতো ধারাবাহিক নন তিনি। আনচেলত্তি তাকে বাম প্রান্ত থেকে সরিয়ে কেন্দ্রীয় আক্রমণে খেলানোর পরিকল্পনা করছেন।

এদিকে চোট ও বিতর্কের মাঝেও বিশ্বকাপ দলে জায়গা পেয়েছেন নেইমার। ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা দীর্ঘ ইনজুরি কাটিয়ে ফিরেছেন। ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডকে নিয়ে ঝুঁকি নিয়েছেন আনচেলত্তি। অনেকের মতে, ২০০২ সালে রোনালদোর মতো প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখতে পারেন নেইমারও।

তবে শুধু ভিনিসিয়ুস বা নেইমার নন, ব্রাজিলের শক্তি তাদের গভীর স্কোয়াডেও। রাফিনিয়া, গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি, এন্দ্রিক, মাতেউস কুনিয়া, ব্রুনো গিমারায়েস, কাসেমিরো, মারকিনিয়োস ও অ্যালিসনের মতো তারকায় ভরপুর দলটি।

গ্রুপ পর্বে ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হতে পারে মরক্কো। ২০২২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্টরা প্রথম ম্যাচেই কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পারে সেলেসাওদের। এছাড়া গ্রুপে আছে স্কটল্যান্ড ও হাইতি।

মজার ব্যাপার হলো, ১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে বিশ্বকাপ জিতে ২৪ বছরের শিরোপা খরা কাটিয়েছিল ব্রাজিল। এবারও ঠিক ২৪ বছর পর উত্তর আমেরিকার বিশ্বকাপে মাঠে নামছে তারা। ইতিহাস কি আবারও নিজেদের পক্ষে কথা বলবে? সেই উত্তর মিলবে আগামী কয়েক সপ্তাহেই।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন