বলা হচ্ছে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ৯ম আসর রান উৎসবের হতে পারে। এমন আলোচনার কারণ শুধু উইকেট নয়। সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাটারদের ফর্মও বলে দিচ্ছে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে থাকতে পারে ব্যাটারদের দাপট। ব্যাট হাতে কারা কারা আলো ছড়াতে পারে সেটা নিয়েও হচ্ছে নানান আলোচনা। যে পাঁচ ব্যাটার এগিয়ে আছেন এ তালিকায়, সেটাই তুলে ধরা হলো এই প্রতিবেদনে।
ফখর জামান (পাকিস্তান)
২০১৭ চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনালের কথা মনে আছে? ফাইনালে ভারতকে হারানোর ম্যাচে ১১৪ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন ফখর জামান। আরেকটি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আগে ইনজুরি কাটিয়ে মাঠে ফিরে নিজেকে দারুণভাবে প্রমাণ করেছেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। লম্বা সময় পর পাকিস্তানের জার্সিতে মাঠে ফেরা ফখর ত্রিদেশীয় সিরিজে তিন ম্যাচে ব্যাট হাতে করেছেন ১৩৫ রান। ব্যাট হাতে ওপেনিংয়ে বিধ্বংসী রূপ ধারণ করার সামর্থ্য রাখা ফখর জামানের ওয়ানডে ক্যারিয়ারও বেশ ঝলমলে। ৮৫ ম্যাচে ৪৬.৫০ গড়ে করেছেন ৩ হাজার ৬২৭ রান। ১১ সেঞ্চুরির পাশাপাশি তার নামের পাশে আছে ১৭ হাফ সেঞ্চুরি।
ড্যারিল মিচেল (নিউজিল্যান্ড)
সবশেষ ওয়ানডে বিশ্বকাপে ড্যারিল মিচেল প্রমাণ করেছেন উপমহাদেশের কন্ডিশনে কতটা কার্যকরী হতে পারেন তিনি। ভারতে হওয়া ২০২৩ বিশ্বকাপে ৬৯ গড়ে করেন ৫৫২ রান। এবারও উপমহাদেশের মাটিতে খেলা বলে তার ওপর নির্ভর করবে কিউইদের ব্যাটিং লাইনআপ কেমন হবে। ৩৩ বছর বয়সি এই ডানহাতি ব্যাটার ৪৫ ওয়ানডেতে ৫০.৪২ গড়ে করেছেন ১৭৬৫ রান। এ সময়ে তার ব্যাটে এসেছে ৬ সেঞ্চুরি ও ৭ হাফ সেঞ্চুরি। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আগে সবশেষ ত্রিদেশীয় সিরিজে দুই হাফ সেঞ্চুরিতে এসেছে ১৮৫ রান। তার পারফরম্যান্সই চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে স্বপ্ন দেখাচ্ছে তাসমান সাগরপাড়ের দেশটিকে।
হেনরিক ক্লাসেন (দক্ষিণ আফ্রিকা)
মিডল অর্ডারে বোলারদের জন্য ভীতিকর হয়ে উঠতে পারেন হেনরিক ক্লাসেন। নিজের দিনে যে কোনো প্রতিপক্ষকে একাই গুঁড়িয়ে দেওয়ার সক্ষমতা রাখতে পারেন। ২০২৩ বিশ্বকাপে তার ৬১ বলে করা ওই সেঞ্চুরিই প্রমাণ করে কতটা বিধ্বংসী হয়ে উঠতে পারেন তিনি। ওয়ানডেতে অন্তত ৫০০ বল খেলেছেন এমন ব্যাটারদের মধ্যে তৃতীয় সেরা স্ট্রাইক রেটের মালিক ক্লাসেন (১১৭.৪৪)। এবারও মিডল অর্ডারে তার ওপর ভরসা রাখছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ৩৩ বছর বয়সি এই ডানহাতি ব্যাটার ৫৮ ওয়ানডেতে ৪৪.১২ গড়ে করেছেন ২০৭৪ রান। এ সময় ৪ সেঞ্চুরির পাশাপাশি করেছেন ১০ হাফ সেঞ্চুরি।
শ্রেয়াস আইয়ার (ভারত)
ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডকে ৩-০ ব্যবধানে হারানোর পর ভারতের কোচ গৌতম গম্ভীর জানান, শ্রেয়াস আইয়ার দলের জন্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মিডল অর্ডারে দলের প্রয়োজনে দায়িত্ব নিয়ে যে কোনোভাবে নিজের ইনিংস সাজাতে পারেন। ধীরগতি কিংবা ঝড়ো দলের প্রয়োজন বুঝে ব্যাটিং করতে পারাটাই আইয়ারের বড় গুণ। যার প্রমাণ ইংলিশদের বিপক্ষে ১২৩.১২ স্ট্রাইক রেটে তার ব্যাটে এসেছে ১৮১ রান। ৩০ বছর বয়সি এই ডানহাতি ব্যাটার এখন পর্যন্ত ৬৫ ওয়ানডে খেলে ৪৮.১৮ গড়ে করেছেন ২৬০২ রান।
বেন ডাকেট (ইংল্যান্ড)
ফিল সল্টের সঙ্গে মিলে ডানহাতি-বাঁহাতি কম্বিনেশনে ইংল্যান্ডকে ঝড়ো শুরু এনে দেওয়ার সামর্থ্য রাখেন বেন ডাকেট। পাশাপাশি উপমহাদেশের উইকেটে দারুণ ব্যাটিংয়েও নিজেকে বেশ কবার প্রমাণ করেছেন এই ইংলিশ ব্যাটার। তার ওপরই তাই নির্ভর করছে ইংলিশদের ইনিংসের শুরুটা কেমন হবে। ওয়ানডেতে মাত্র ১৯ ম্যাচ খেলা এই ওপেনার ৪৬.১৬ গড়ে করেছেন ৮০১ রান। মাত্র ১৯ ম্যাচের ছোট ক্যারিয়ারে ২ সেঞ্চুরির পাশাপাশি তার ব্যাটে এসেছে ৬ হাফ সেঞ্চুরি। এবার চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে কেমন করেন সেটাই দেখার অপেক্ষা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

