১৯১-এর পর এবার কত বাংলাদেশ?

১৯১-এর পর এবার কত বাংলাদেশ?

ওপেনার সাদমান ইসলাম আরেকবার শুরুতেই মাথা নিচু করে ফিরলেন। আরেক ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয় অপরাজিত ২৮ রানের জন্য ভাগ্যকে ধন্যবাদ দিতে পারেন। তার ক্যাচ ফেলে দেন জিম্বাবুয়ের উইকেটকিপার; তখন তার রান মাত্র ৬। মুমিনুল হককে আত্মবিশ্বাসী দেখাচ্ছে দ্বিতীয় ইনিংসেও। তবে এখনো জিম্বাবুয়ের রান থেকে ২৫ রান দূরে বাংলাদেশ। ৫৭ রানে ১ উইকেট বাংলাদেশ।

এ তো গেল দ্বিতীয় ইনিংসের সারসংক্ষেপ। প্রথম ইনিংসের বোলিংয়ে আলো ছড়ালেন মেহেদি হাসান মিরাজ। ২০.২ ওভারে ৫২ রান খরচে শিকার তার ৫ উইকেট। টেস্টে এক ইনিংসে এটি তার ১১ বারের মতো পাঁচ বা তারচেয়ে বেশি উইকেট শিকারের মাইলস্টোন। পেসার নাহিদ রানাও প্রথম দিনের সমস্যাকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় দিন বল হাতে জ্বলে উঠলেন। ৭৪ রানে তার শিকার ৩ উইকেট। খালেদ আহমেদ ও হাসান মাহমুদ একটি করে উইকেট পেলেন; কিন্তু দাপুটে রইলেন ঠিকই। বিশেষ করে খালেদের ১৫ ওভারের পুরোটা সময় জিম্বাবুয়ে বেশ সমীহ দেখায়। ১৫ ওভারে ৫ মেডেনসহ মাত্র ৩০ রানে ১ উইকেট তারই প্রমাণ রাখছে।

বিজ্ঞাপন

সিলেটে দ্বিতীয় দিনের সকালের সেশনটা ছিল বাংলাদেশের। আরেকটু সুনির্দিষ্ট করে বললে দুই পেসার নাহিদ রানা ও হাসান মাহমুদের। নাহিদ এই সেশনে জিম্বাবুয়ের দুই ওপেনারকে ফেরান। হাসান মাহমুদ তার ট্রেডমার্ক ইনসুইংয়ে ওয়ানডাউন ব্যাটার নিক ওয়ালেচের স্টাম্প উপড়ে দিলেন। সকালের সেশনের সবচেয়ে ‘ভয়ঙ্করতম সুন্দর’ ডেলিভারি ওটাই! ৮৮ রানে শুরুর ৩ উইকেট হারানো জিম্বাবুয়ের ইনিংসকে সামনে টেনে নিলেন শন উইলিয়ামস। মিডল অর্ডারে তার সঙ্গী হলেন প্রথমে ওয়েসলি মাধেভেরে এবং পরে নয়াশা মায়াভো। ৩৩ বলে ২৪ রান তুলে মাধেভারে ফিরে গেলেন। আর শন উইলিয়ামস প্রথম ইনিংসে জিম্বাবুয়েকে লিড এনে দিয়ে আরো খানিকটা অ্যাডভেঞ্চার খুঁজতে গিয়ে উইকেট দিয়ে ফিরলেন। মেহেদি মিরাজকে ডাউন দ্য উইকেটে এসে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে উইলিয়ামস বাউন্ডারি লাইনে ক্যাচ দিলেন। ১০৮ বলে তার ৫৯ রানের ইনিংস প্রথম দফায় জিম্বাবুয়ের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ।

৬ উইকেটে ১৯৩ রান তোলা জিম্বাবুয়ের ইনিংসকে আরো অনেক দূরে নিয়ে গেলেন লেজের সারির ব্যাটাররা। যে কায়দায় ৯ ও ১০-এ ব্যাট করা রিচার্ড এনগারাভা এবং ব্লেসিং মুজারাবানি শেষের দিকে ব্যাট করলেন আর তা জানান দিলÑ এই জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং লাইনআপ বেশ লম্বা-চওড়া বটে। শেষের তিন উইকেটে জিম্বাবুয়ে আরো ৫৫ রান যোগ করে।

প্রথম ইনিংসে ৮২ রানের লিড পায় জিম্বাবুয়ে। শেষ সেশনে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করতে নামা বাংলাদেশ ১৩ ওভার ব্যাট করে ওপেনার সাদমানকে হারিয়ে তুলেছে ৫৭ রান।

আজ তৃতীয় দিনের সকালে বাংলাদেশের ব্যাটিংই সম্ভবত এই ম্যাচের গতি-প্রকৃতি ঠিক করবে। সিলেটের উইকেটে আপাতত কোনো বিষবাষ্প নেই। প্রথম ইনিংসে উভয় দলের লো স্কোর এবং মাত্র একটি করে হাফ সেঞ্চুরি স্রেফ দলীয় ব্যর্থতা ছাড়া আর কিছু নয়।

চতুর্থ ইনিংসে জিম্বাবুয়েকে বড় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে হলে বাংলাদেশকে অবশ্যই ৩০০ প্লাস রানের একটা টার্গেট দাঁড় করাতে হবে। সেই রান কি জোগাড় করতে পারবে বাংলাদেশ?

মুমিনুল, শান্ত বা মুশফিকের ব্যাটে একটা বড় ইনিংসই দলের সেই চাহিদা পূরণ করতে পারে।

প্রশ্ন হলো, তারা কি সেটা পারবেন?

সংক্ষপ্তি স্কোর

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস : ১৯১/১০ (৬১ ওভার); মমিনুল ৫৬, শান্ত ৪০, জাকের ২৮, হাসান ১৯, জয় ১৪; মাদাকাদজা ৩/২১, মাজারাবানি ৩/৫০ ও দ্বিতীয় ইনিংস : ৫৭/১ (১৩ ওভার); জয় ২৮, মুমিনুল ১৫; মুজারাবানি ১/২১।

জিম্বাবুয়ে প্রথম ইনিংস : ২৭৩/১০ (৮০.২ ওভার); উইলিয়ামস ৫৯, বেনেট ৫৭, মায়াভো ৩৫; মিরাজ ৫/৫২, রানা ৩/৭৪।

দ্বিতীয় দিন শেষে : বাংলাদেশ ২৫ রানে পিছিয়ে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন