অভিষেক শর্মার বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের পর ভারতের বোলারদের দাপটে তিন ম্যাচ সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে একতরফা জয় পেল ভারত। নয়াদিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে আফগানিস্তানকে ১২৭ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ৩-০ ব্যবধানে জিতে নিয়েছে স্বাগতিকরা।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই আফগান বোলারদের ওপর চড়াও হন অভিষেক। মাত্র ১৬ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। ক্যারিয়ারে ষষ্ঠবারের মতো ২০ বলের কম সময়ে অর্ধশতকের দেখা পেলেন তিনি। ভারতের ব্যাটারদের মধ্যে ১৬ বলে করা এই ফিফটি যৌথভাবে চতুর্থ দ্রুততম।
ফিফটির পর থামেননি অভিষেক। পরের ৫০ রান করতে তার লাগে মাত্র ১৪ বল। ১০ ছক্কায় মাত্র ৩০ বলেই তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছে যান তিনি। টেস্ট খেলুড়ে কোনো দেশের ব্যাটারের এটাই দ্রুততম টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি। সব দেশের ব্যাটার মিলিয়ে এটি তৃতীয় দ্রুততম শতক।
শেষ পর্যন্ত ৩০ বলে ১০৮ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন অভিষেক। তার ইনিংসে ছিল ৯টি চার ও ১১টি ছক্কা। সঞ্জু স্যামসনের সঙ্গে গড়েন ১৪২ রানের জুটি। পাওয়ারপ্লেতেই দুজন মিলে তুলে নেন ১০০ রান, পুরুষদের টি-টোয়েন্টিতে যা পাওয়ারপ্লেতে ষষ্ঠ দ্রুততম শতরান। স্যামসন করেন ৩৫ বলে ৫০ রান।
অভিষেক ফিরে যাওয়ার পর ভারতের রান কিছুটা ধীর হয়ে আসে। শ্রেয়াস আইয়ার ২০ বলে ২৯, শিবম দুবে ১০ বলে ১৪ এবং ইশান কিষান ৮ বলে ১০ রান করেন। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ২২১ রান সংগ্রহ করে ভারত।
রান তাড়ায় শুরু থেকেই বিপর্যয়ে পড়ে আফগানিস্তান। অধিনায়ক ইব্রাহিম জাদরান ১৬ বলে ২৫ এবং আজমতউল্লাহ ওমরজাই ১৩ বলে ১৭ রান করলেও কেউই ইনিংস বড় করতে পারেননি। মাত্র ১৪.১ ওভারে ৯৪ রানে অলআউট হয় সফরকারীরা।
ভারতের হয়ে নীতিশ কুমার রেড্ডি ও রবি বিষ্ণোই নেন তিনটি করে উইকেট। নীতিশ ২৫ এবং বিষ্ণোই ২৬ রান দিয়ে তিনটি করে উইকেট পান। অক্ষর প্যাটেলের শিকার দুটি উইকেট।
১২৭ রানের এই পরাজয় টি-টোয়েন্টিতে আফগানিস্তানের সবচেয়ে বড় হার। এর আগে ২০১২ সালে কলম্বোয় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১১৬ রানে হেরেছিল তারা। ভারতের বিপক্ষে ৯৪ রানে অলআউট হয়ে নিজেদের সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহের রেকর্ডও গড়েছে আফগানিস্তান। অন্যদিকে টি-টোয়েন্টিতে ১০০ বা তার বেশি রানে জয়ের সংখ্যা ১০-এ নিয়ে কানাডার সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ এমন জয় এখন ভারতের।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

