স্বস্তি আছে লিড পাওয়ার। চট্টগ্রাম টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে জিম্বাবুয়ের চেয়ে ৬৪ রানে এগিয়ে বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের ২২৭ রানের জবাবে বাংলাদেশের স্কোর ৭ উইকেটে ২৯১। প্রথম ইনিংসে রানে কিছুটা এগিয়ে থাকার সুখ ও স্বস্তি নিয়ে দ্বিতীয় দিন শেষ করল বাংলাদেশ।
স্বস্তি আরেকটা আছে। ওপেনিং জুটিতে শতরানের আনন্দ। ২০২২ পর ৩২ ইনিংস শেষে আবার বাংলাদেশ ওপেনিংয়ে সেঞ্চুরি রানের জুটি গড়ল। ওপেনার সাদমান ইসলাম তার ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি পেলেন।
এ দুই স্বস্তির দিনে শেষদিকে বাংলাদেশের বাড়তি কয়েকটি উইকেট পতনের আফসোসও ঠিকই রইল। মুমিনুল, অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত, মুশফিকুর রহিম তিনজনই উইকেটে সেট হয়েও নিজেদের ইনিংসটা বড় করতে পারলেন না। মুশফিক যেভাবে খেলছিলেন, মনে হচ্ছিল পেছনের ১২ ইনিংসে বড় রান না পাওয়ার ব্যর্থতা বোধ করি এবার ঘুচল। কিন্তু রান আউটের ফাঁদে পড়ে দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটার ফিরলেন ৪০ রানে। নিজের ভুলেই রান আউট হন মুশফিক।
দ্বিতীয় দিনের শুরুটা হয়েছিল বাংলাদেশের চমকপ্রদ সাফল্যে। দিনের প্রথম বলেই জিম্বাবুয়ের শেষ জুটি ভাঙে। ইনিংসে তাইজুল ইসলামের শিকার সংখ্যা দাঁড়ায় ৬-এ।
সকালে সাদমান ইসলাম ও এনামুল হক বিজয়ের নতুন ওপেনিং জুটিতে সাফল্যের সঙ্গে সামনে বাড়ে বাংলাদেশ। লাঞ্চে যায় কোনো উইকেট না হারিয়ে ১০৫ রান তুলে। ওপেনার সাদমান ৭৮ বলে হাফ সেঞ্চুরি পুরো করেন। দীর্ঘদিন পর টেস্টে ফেরা এনামুল হক বিজয় কিছুটা রক্ষণাত্মক কায়দায় ব্যাটিং করেন। সময়ের প্রয়োজন মেটাতেই মূলত এই কৌশল তার। লাঞ্চের পরপরই এনামুল ফেরেন ৮০ বলে ৩৯ রান করে। ব্লেসিং মুজারাবানির পেসে পরাস্ত হয়ে প্যাডে বল লাগে তার। আম্পায়ার রয় ইলিংওয়ার্থ আঙ্গুল তুলে জানান এলবিডব্লু! এনামুল আম্পায়ারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানান। রিভিউ নেন; কিন্তু রক্ষা পাননি। ওয়ান ডাউনে মুমিনুলের জন্য চট্টগ্রামের মাটি তো তার ঘাঁটি হিসেবেই পরিচিত। বড় রানের সম্ভাবনা জাগিয়েছিল তার ব্যাটও। তবে সেই সম্ভাবনার মৃত্যু ঘটিয়ে মুমিনুল ফেরেন ৩৩ রানে। অধিনায়ক নাজমুল শান্তও তাই। আর দিনের শেষ সেশনে মুশফিকুর রহিম রান আউটের ফাঁদে পড়ে আউট হলে বাংলাদেশের সামনে বাড়া থমকে যায়। জাকের আলী অনিকও লেগস্পিনার মাসেকেসার শিকার হন। প্রতিপক্ষ শিবিরে কোনো লেগস্পিনার থাকলেই বাংলাদেশের ব্যাটারদের হৃৎকম্প যেন শুরু হয়ে যায়! মাসেকেসা দিনের শেষভাগে তার শেষ স্পেলে দারুণ বোলিং করে জিম্বাবুয়ের মুখে হাসি ফোটান। ১৪ ওভারে ৪৪ রানে ৩ উইকেট পান জিম্বাবুয়ের এই লেগস্পিনার।
৩ উইকেটে ২৫৯ রান নিয়ে খেলতে থাকা বাংলাদেশ পরের ২০ রানের মধ্যে ৪ উইকেট হারায়। দিন শেষে স্বাগতিকদের লিড দাঁড়ায় ৬৪ রান। ‘শিক্ষিত’ ব্যাটার বলতে গেলে মাত্র একজনই অবশিষ্ট এখন; তিনি মেহেদি হাসান মিরাজ। দলের লেজের সারির ব্যাটারদের নিয়ে মেহেদি ৬৪ রানের আগের দিনের লিডকে তৃতীয় দিনে যেন আরো অনেক দূরে নিয়ে যান, সেই অপেক্ষায় এখন বাংলাদেশ। আর নতুন বল হাতে নিয়ে জিম্বাবুয়ে দ্রুত বাংলাদেশের বাকি ৩ উইকেট তুলে নেওয়ার প্রতীক্ষায়।
সংক্ষিপ্ত স্কোর (দ্বিতীয় দিন শেষে) : জিম্বাবুয়ে প্রথম ইনিংস : ২২৭/১০ (৯০.১ ওভারে, বেনেট ২১, কারেন ২১, ওয়েলেচ ৫৪, উইলিয়ামস ৬৭, আরভিন ৫, মাধেভেরে ১৫, সিগা ১৮, তাইজুল ৬/৬০, নাইম ২/৪২, তানজিম সাকিব ১/৪৯, মেহেদি ০/৪৪)।
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস : ২৯১/৭ (৮৭ ওভারে, সাদমান ১২০, এনামুল ৩৯, মুমিনুল ৩৩, নাজমুল ২৩, মুশফিকুর ৪০, জাকের আলী ৫, মেহেদি ১৬*, নাঈম ৩, তাইজুল ৫*, মাসেকেসা ৩/৪৪)।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

