ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

প্রথমবার মুখোমুখি পর্তুগাল ও কঙ্গো

স্পোর্টস রিপোর্টার

প্রথমবার মুখোমুখি পর্তুগাল ও কঙ্গো

ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ ধরা দিয়েছে আগেই। এখন পর্তুগালের অপূর্ণতা কেবল বিশ্বকাপ ট্রফির। বর্ণিল ক্যারিয়ারের সায়াহ্নে পৌঁছে যাওয়া প্রিয় সতীর্থ ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে বিশ্ব শিরোপা উপহার দিতে মরিয়া পুরো পর্তুগিজ টিম। তার সঙ্গে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সাবেক তারকা ফুটবলার ডিয়েগো জোটার অনুপ্রেরণাও সঙ্গী হয়েছে তাদের। বিশ্বকাপের সেই সোনালি ট্রফির খোঁজে নামছে আজ পর্তুগাল। আজ বুধবার রাত ১১টায় পর্তুগিজরা ২০২৬ বিশ্বকাপ মিশন শুরু করতে যাচ্ছে। গ্রুপ ‘কে’-এর উদ্বোধনী ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ আফ্রিকার পরাশক্তি ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (কঙ্গো ডিআর)। যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে হতে যাওয়া এ ম্যাচটি ফুটবল ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে; কারণ আন্তর্জাতিক ফুটবল মঞ্চে এই প্রথমবার দল দুটি একে অপরের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে।
কাগজে-কলমে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল এ ম্যাচে নিরঙ্কুশ ফেভারিট। যদি কঙ্গো ডিআর কোনো অঘটন ঘটিয়ে বসে, তবে তা হবে এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম বড় চমক।
‘সেলেসাও দাস কুনাস’খ্যাত পর্তুগাল দলে তারকার অভাব নেই। স্কোয়াডের গভীরতা ও খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত দক্ষতার কারণে এবারের গ্রীষ্মে অনেকেই তাদের ট্রফি জয়ের অন্যতম দাবিদার ভাবছেন। তবে বিশ্বকাপে পর্তুগালের ইতিহাস খুব একটা মসৃণ নয়। ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপে তৃতীয় হওয়াটাই এখন পর্যন্ত তাদের সেরা সাফল্য। এরপর ২০০৬ সালে তারা চতুর্থ স্থান অর্জন করে এবং সর্বশেষ কাতার বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই তাদের বিদায় নিতে হয়েছিল। ২০১৬ সালে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ জিতলেও বিশ্বকাপের এই অধরা ট্রফিটি উঁচিয়ে ধরতে মরিয়া হয়ে আছেন দলটির মহানায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।
রবার্তো মার্টিনেজের অধীনে পর্তুগাল দারুণ ফর্মে রয়েছে। বাছাই পর্বে আর্মেনিয়াকে ৯-১ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি সাম্প্রতিক প্রীতি ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্র, চিলি ও নাইজেরিয়াকে হারিয়ে টানা তিন জয়ে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে আছে তারা। তবে গত বছরের নভেম্বরের মাঝামাঝি রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ডের কাছে পরাজয় দলটির রক্ষণভাগ ও বড় মঞ্চে চাপ সামলানোর ক্ষমতা নিয়ে কিছুটা প্রশ্ন রেখে গেছে।
অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর জন্য এ ম্যাচটি এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। দীর্ঘ ৫২ বছর পর তারা বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। গত মার্চ মাসে মেক্সিকোতে আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফ ফাইনালে আক্সেল তুয়ানজেবের অতিরিক্ত সময়ের গোলে জ্যামাইকাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে রূপকথার মতো এক টিকিট কাটে সেবাস্টিয়ান দেসাব্রের দল।
সাম্প্রতিক সময়ে কঙ্গো ডিআর বেশ গোছানো ফুটবল খেলছে। আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের শেষ ১৬তে পৌঁছানো দলটি তাদের শেষ চার ম্যাচের দুটিতে জিতেছে এবং মাত্র একটিতে হেরেছে। জুনের শুরুতে প্রীতি ম্যাচে তারা শক্তিশালী ডেনমার্ককে গোলশূন্য ড্রয়ে রুখে দিয়ে নিজেদের শক্তিমত্তার জানান দিয়েছে, যদিও শেষ ম্যাচে চিলির কাছে ২-১ ব্যবধানে হারতে হয়েছে তাদের।
পর্তুগাল এবং কঙ্গো ডিআর ছাড়াও এই গ্রুপে রয়েছে কলম্বিয়া ও উজবেকিস্তান। বর্ধিত দল নিয়ে আয়োজিত এবারের বিশ্বকাপে কঙ্গো ডিআরের মতো দলগুলোর নকআউট পর্বে যাওয়ার সুযোগ অনেক বেড়ে গেছে। গ্রুপে অন্তত একটি জয় পেলেও তৃতীয় স্থান অধিকারী সেরা দল হিসেবে পরের রাউন্ডে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।
পর্তুগাল নিশ্চিতভাবেই গ্রুপ ‘কে’-এর সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষ। তাই কঙ্গোর নকআউট পর্বে যাওয়ার আসল লড়াইটি হবে আগামী ২৮ জুন ভোরে উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে। তবে তার আগে আজ বুধবার হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়ামে বিশ্বের অন্যতম সেরা আক্রমণভাগের সামনে কঙ্গোর রক্ষণভাগ কতটা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...