মেসিদের সামনে ‘মরুর শিয়াল’

স্পোর্টস রিপোর্টার

মেসিদের সামনে ‘মরুর শিয়াল’

আগামীকাল বুধবার থেকে পুরোদমে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ। কেননা, এদিন মাঠে নামছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। বাংলাদেশের ফুটবল অনুরাগীদের বড় অংশই হলো আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের সমর্থক। এরই মধ্যে ব্রাজিল এক ম্যাচ খেলেছে। এবার আর্জেন্টিনার অপেক্ষা। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যানসান সিটিতে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ আলজেরিয়া। বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৭টায় দুদলের ম্যাচটি শুরু হবে। এ ম্যাচ দিয়ে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ ট্রফি ধরে রাখার মিশনে নামবে লিওনেল মেসিং অ্যান্ড কোং।

বিজ্ঞাপন

ইতিহাসে ব্রাজিল ও ইতালির টানা দুবার বিশ্বকাপ জয়ের রেকর্ড আছে। আর্জেন্টিনার সামনে তৃতীয় দল হিসেবে টানা বিশ্বকাপ জয়ের হাতছানি। রেকর্ড গড়ার পথে আছেন আর্জেন্টিনার ফুটবল মহাতারকা লিওনেল মেসিও। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নামবেন এই ফুটবল জাদুকর। আর বিশ্বকাপে ২৭তম ম্যাচ। শুধু তা-ই নয়, প্রথম ফুটবলার হিসেবে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলবেন মেসি। মেসির পায়ের জাদু দেখার শেষ সুযোগ এ বিশ্বকাপেই।

বিশ্বকাপ ধরে রাখার অভিযানের শুরুতেই আর্জেন্টিনার সামনে লড়াকু দল আলজেরিয়া। এ পর্যন্ত মাত্র একবারই প্রীতি ম্যাচে আলজেরিয়ার মুখোমুখি হয়েছিল আলবিলেসেস্তেরা। ২০০৭ সালের ওই ম্যাচে ৪-৩ গোলে জিতেছিল আর্জেন্টিনা। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটিতেই আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রথম গোলের খাতা খুলেছিলেন লিওনেল মেসি। সময়ের পরিক্রমায় বিশ্বমঞ্চে আর্জেন্টিনার সামনে আফ্রিকান দলটি। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ভালো চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে আলজেরিয়া। এ দলটি ঘিরে বেশি সতর্ক থাকছেন আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি। কেননা, ১৯৮২ সালের বিশ্বকাপে চমক দিয়েছিল দলটি। গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ওই সময়ের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন পশ্চিম জার্মানিকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্ববাসীকে স্তব্ধ করে দেয় আলজেরিয়া।

২০২২ কাতার বিশ্বকাপে শিরোপা পুনরুদ্ধারের পর থেকে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের ছন্দ ধরে রেখেছে আর্জেন্টিনা। কোচ স্কালোনির অধীনে দলটি এখন আরো বেশি পরিপক্ব, সুশৃঙ্খল ও গোছানো। যেকোনো পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্ষম দলটি। কোচের পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন লিওনেল মেসি। মাঝ মাঠ আর আক্রমণভাগের দারুণ রসায়নই আর্জেন্টিনা দলের মূল চালিকাশক্তি। আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগ এখন শুধু মেসি-নির্ভর নয়। তরুণ ও অভিজ্ঞদের মিশেলে এক বিশ্বসেরা আক্রমণভাগ।

মাঠে গতি, ড্রিবলিং আর নিখুঁত পাসের পসরা সাজায় আর্জেন্টাইনরা। বল পজিশন ধরে রাখা, প্রতিপক্ষের আক্রমণ নস্যাৎ করে দেওয়া এবং কাউন্টার অ্যাটাকে দ্রুত বল বাড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে আর্জেন্টিনা মিডফিল্ডের অনেক সুনাম। সব মিলে দলটির মধ্যে জয়ের মানসিকতা প্রবল। আর তাতেই বিশ্বকাপ ধরে রাখার মিশনে আত্মবিশ্বাসী আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে থেকেই খেলার টিকিট নিশ্চিত করে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এ যাত্রায় সফল নায়ক মেসি।

এছাড়া ঘরের মাঠ বুয়েন্স এইরেসে ব্রাজিলের বিপক্ষে ৪-১ গোলের স্মরণীয় জয় আর্জেন্টিনাকে অন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। বিশ্বকাপের আগ মুহূর্তে প্রীতি ম্যাচের জয়ও তাদের জন্য আত্মবিশ্বাসের জ্বালানি হিসেবে কাজ করছে। তারকা গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজের খেলা নিয়ে শঙ্কা কেটে গেছে। গত ইউরোপা লিগের ফাইনালের আগে আঙুল ভেঙে যাওয়া মার্টিনেজ খেলার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। পেশি সমস্যা কাটিয়ে উঠেছেন লিওনার্দো পেরেদেস ও নিকো গঞ্জালেসও। তবে নিকোলাস তাগলিয়াফিকো ইনজুরির কারণে বিশ্বকাপের শুরুতে খেলতে পারছেন না।

এদিকে প্রথম ম্যাচে বড় প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা হলেও আত্মবিশ্বাসী আলজেরিয়া। দলটিকে বলা হয় ‘লে ফেনেক্স’ বা ‘মরুর শিয়াল’। নামের সঙ্গে তাদের কাজেরও দারুণ মিল রয়েছে। মাঠে চতুরতা, গতি ও অবিশ্বাস্য শারীরিক শক্তিই দলটির প্রধান অস্ত্র। রক্ষণ জমাট রেখে দ্রুত প্রতি-আক্রমণে যাওয়াই আলজেরিয়ার খেলার ধরন। প্রথম মিনিট থেকে ৯০ মিনিট পর্যন্ত একই গতিতে হাই-প্রেসিং ফুটবল খেলতে পারে তারা। আর্জেন্টিনার টেকনিক্যাল ও পাসিং ফুটবলকে রুখে দিতেই মাঠে নামবে আফ্রিকানরা। মাঝমাঠ থেকে তাদের কড়া ট্যাকল ও প্রেসিং ফুটবল মেসিদের জন্য অস্বস্তির কারণ হতে পারে।

সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সও দারুণ আলজেরিয়ার। টানা চার ম্যাচে অপরাজিত দলটি। এর মধ্যে উরুগুয়ের বিপক্ষে ড্র এবং নেদারল্যান্ডসকে ১-০ গোলে হারিয়েছে তারা। সর্বশেষ প্রীতি ম্যাচে বলিভিয়াকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দেয় আফ্রিকার দলটি। আর্জেন্টিনাকেও হারানোর আত্মবিশ্বাস আলজেরিয়া শিবিরে। সবচেয়ে বেশি আলোচনায় তাদের তরুণ অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার ইব্রাহিম মাজা। সব মিলে শেষে এটাই বলা যায়- আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়া ম্যাচে লাতিন আমেরিকার শৈল্পিক ফুটবল বনাম আফ্রিকার পাওয়ার ফুটবলের এক ক্লাসিক দ্বৈরথ দেখা যেতে পারে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...