বাংলাদেশ-ভারত, বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচ সব সময়ে হাইলাইটেড ম্যাচ, হাইভোল্টেজ ম্যাচ। এই দলগুলোর মাঠের লড়াই জমে বেশ। মানছি যে মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যানে ভারত অনেক এগিয়ে আছে আমাদের সঙ্গে। তবে আজকের ম্যাচটা ভিন্ন রূপ নিয়েছে মূলত হামজা চৌধুরীর জন্য। হামজা ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ খেলে এবং সে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন টিমের খেলোয়াড়। এটা আমাদের বড় শক্তির একটা জায়গা। আমরা অনেকেই বলি ফুটবল একজনের খেলা না। ফুটবল দলীয় খেলা। তারপরও আমি বলব যখন আপনার দলে ওই মানের একজন খেলোয়াড় থাকবে তখন দলের শক্তি এমনিতেই বাড়বে। অন্য খেলোয়াড়রা মোটিভেট হবে। এই যে ম্যাচটি নিয়ে আনন্দ, সবার উন্মাদনা, আমরা জিতব এমন বিষয়গুলো কাকে ঘিরে, হামজাকে ঘিরেই। তাকেই ঘিরেই আমাদের নতুন স্বপ্নের জাগরণ। এটা আমাদের জন্য ভালো দিক। এটা ভালো দিক কারণ আমরা খেলার আগে জিততে চাচ্ছি। এই ধরনের ফিফটি ফিফটি ম্যাচ মাঠে গিয়ে যে দল বেস্ট পারফরম্যান্স করবে তারাই ম্যাচ জেতে। খুব কম দলই আছে যে সেরা ফুটবল না খেলে জেতে। তেমন কিছু করে জিতলে সেটাকে গুডলাক বলে। এই ম্যাচটিকে ভারত সবদিক থেকেই আমাদের থেকে এগিয়ে থাকবে। কারণ তাদের হোম গ্রাউন্ড, শেষ কয়েকটা ম্যাচেও তারা এগিয়ে। একই সঙ্গে চাপেও তারা থাকবে। আমাদের কোনো চাপ থাকবে না। তাদের হোমগ্রাউন্ডে খেলা। এটা তাদের সুবিধা। আমাদের উচিত তাদের মাঠে তাদের হারানো।
এশিয়া কাপের এই গ্রুপ ম্যাচে খুব কাজে দেবে। বিদেশের অনেক খেলোয়াড় এখন বাংলাদেশ জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন দেখছে। সেই চেষ্টা তারা করছে। এমন প্রায় ৩০ জনের একটা তালিকা তৈরি হয়েছে। ওখান থেকে যদি কিছু ভালো খেলোয়াড় পাই আমরা, তাহলে আমাদের স্ট্যান্ডার্ড খেলোয়াড় বাড়বে। দলে মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়বে। তখন প্রতিটি পজিশনের জন্য দুই-তিনটা খেলোয়াড় পাওয়া যাবে। ইনহাউস কম্পিটিশিন তৈরি হবে। তখন আপনার জন্য একটা টিম করতে সহজ হবে। একটা পজিশনের জন্য যখন তিনটা খেলোয়াড় থাকবে তখন এটা আপনার জন্য চ্যালেঞ্জ। দল গড়ায় তখন অনেক নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে। কারণ আপনি ব্যাকআপ পাচ্ছেন। যেটা অন্য কোনো সময় ছিল না। যেমন আমাদের নাম্বার নাইনে কোনো ব্যাকআপ নেই। এই পজিশনে তো খেলোয়াড়ই নেই। যখন এই পজিশনে দুই-তিনজন খেলোয়াড় চলে আসবে তখন ব্যাকআপও রেডি হয়ে যাবে। তখন কম্পিটিশনের মধ্যে দলের একটা স্ট্যান্ডার্ড বাড়বে। আমি বলব না যে একদিনে সবকিছু বদলে যাবে। আপনাকে সময় দিতে হবে। আমরা সবাই চিন্তা করতেছি এই ম্যাচ নিয়ে। আমার মনে হয় যে হামজাকে নিয়ে আরো অনেক চিন্তা করতে হবে। এশিয়া কাপ বাছাই, বিশ্বকাপ কোয়ালিফাই বাছাই থাকবে, সাফ ফুটবল আছে, সবকিছু মিলিয়ে আপনি রেজাল্টটা পাবেন চার, পাঁচ, ছয় ম্যাচ পর বা দশ ম্যাচ পর ভালো দিকগুলো আপনার চোখে পড়বে।
এই ম্যাচে জিততে হলে বাংলাদেশ দলকে সব পজিশনে সেরা পারফর্ম করতে হবে। সর্বপ্রথম হলো হামজাকে সাপোর্ট করতে হবে। ও যে লেভেলের ফুটবল খেলবে আমরা সেভাবে খেলতে পারব না। কিন্তু আমাদের কাছাকাছি তো যেতে পারব। ওতটুকু সাপোর্ট, সবগুলো পজিশনে সবাই যদি নিজেদের সেরা ফুটবল খেলে, আমরা যদি সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারি তাহলে আমি মনে করি ম্যাচ আমাদের দিকে আসবে।
মামুনুল ইসলাম: জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

