শ্রীলঙ্কার স্পিনেই বাংলাদেশ ধরা

শ্রীলঙ্কার স্পিনেই বাংলাদেশ ধরা

২০২২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট সিরিজে দুই স্পিনার কেশব মহারাজ ও সাইমন হার্মারের বিপক্ষে একরকম অসহায় আত্মসমর্পণ করে বাংলাদেশি ব্যাটাররা। স্পিনারদের বিপক্ষে এমন বাজে খেলার পর মমিনুল হক বলেছিলেন, ‘উঁচু মানের স্পিন বোলিংয়েরে বিপক্ষে আমরা ভালো খেলি না। আমাদের দু-একজন ছাড়া আর কেউ স্পিন খুব ভালো খেলে না।’ পরে আরো বড় অভিযোগ তোলেন সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। তিনি বলেন, ‘(স্পিন দুর্বলতা) সব সময়ই ছিল। আমরা কখনো স্পিন ভালো খেলতাম না।’ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে স্পিনারদের বিপক্ষে বাংলাদেশি ব্যাটারদের অসহায় আত্মসমর্পণের পর পুরোনো কথাগুলো ফের ঘুরেফিরে আসছে।

তখনো ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা ও কামিন্দু মেন্ডিস বোলিংয়ে আসেননি। এর আগেই আরেক স্পিনার মহেশ থিকসানা উইকেট থেকে দারুণ সুবিধা আদায় করে নিচ্ছিলেন। তাই তো ১৭ ও ১৮ ওভারে দুই প্রান্ত থেকে যথাক্রমে হাসারাঙ্গা ও কামিন্দুকে বোলিংয়ে আনেন লঙ্কান অধিনায়ক চারিথ আসালাঙ্কা। তাতেই কেল্লাফতে, ৬ রানের ব্যবধানে ৭ উইকেট হারিয়ে হাতের মুঠোয় থাকা ম্যাচ হারের দ্বারপ্রান্তে চলে যায় বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ৭৭ রানের বড় ব্যবধানে ম্যাচ হেরে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশের টপ ও মিডল অর্ডারের ধসে পড়ে লঙ্কার স্পিন দাপটে। লেগ স্পিনার ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার গুগলি বুঝতে না পেরে লেগ বিফোরের শিকার হন লিটন দাস। একই ওভারে দুই বল পর হাসারাঙ্গার শিকারে পরিণত হন ওপেনার তানজিদ তামিম। অফ স্টাম্পের একদম বাইরে পড়া বলটা তামিম জায়গায় দাঁড়িয়ে উড়িয়ে মারেন। ধীরগতিতে থাকা বলটা মিডঅফে দারুণ এক ড্রাইভে তালুবন্দি করেন জানিথ লিয়ানাগে। একই ওভারে তামিম-লিটনের বিদায়ের পর তাওহিদ হৃদয় আউট কামিন্দু মেন্ডিসের বলে। আর্মার ডেলিভারিটা বুঝতে পারেননি। তাতে ব্যাট-প্যাড ফাঁক দিয়ে বল স্টাম্পে লাগলে আউট হন হৃদয়। পরের ওভারে ফের গুগলিতে পরাস্ত বাংলাদেশি ব্যাটাররা। এবার আউট হন মেহেদি হাসান মিরাজ। এভাবে একে একে ফেরেন তানজিম সাকিব ও তাসকিন আহমেদ। এর আগে তানজিদ তামিমের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে রানআউট হন নাজমুল হোসেন শান্ত। সেখানেও বোলার ছিলেন স্পিনার মহেশ থিকসানা।

৬ রানের ব্যবধানে প্যাভিলিয়নে ফেরা ৭ ব্যাটারের মধ্যে ৬ জনই আউট হয়েছেন বল বুঝতে না পেরে। লিটন-হৃদয় থেকে মিরাজ সবাই কলম্বোতে আশায় ছিলেন উইকেটে থাকবে টার্ন। কিন্তু সেই টার্নের ছিটেফোঁটাও ছিল না উইকেটে। বরং, লঙ্কান স্পিনাররা টার্ন না করিয়ে আর্ম ও গুগলিতে ভাঙে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপের মেরুদণ্ড। ব্যাটারদের এই স্পিন দুর্বলতা নিয়ে সাবেক ক্রিকেটার ও কোচ তালহা জুবায়ের আমার দেশকে জানান, আমাদের দেশের এই উইকেটের কারণেই স্পিন খেলার অভ্যাস নেই ক্রিকেটারদের। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের উইকেটের প্রকৃতিই এমন যে, স্পিনারদের বাড়তি কিছু করতে হয় না। সহজেই সাফল্য পেয়ে যায়। তাতে আমাদের কোয়ালিটি স্পিনার বের হয় না। আর ব্যাটারদের বাড়তি কোনো চ্যালেঞ্জ ফেস করতে হয় না। এখানে উন্নতি না করা পর্যন্ত আমাদের ব্যাটাররা স্পিনে কখনোই ভালো করবে না।’

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন