আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

হেড কোচ সিমন্স থাকছেন, ২০২৭ পর্যন্ত

এম. এম. কায়সার

হেড কোচ সিমন্স থাকছেন, ২০২৭ পর্যন্ত
ফিল সিমন্স

চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে বাংলাদেশ অধ্যায় শেষ। বৈশ্বিক এই টুর্নামেন্টে জাতীয় দলের কয়েকজন সিনিয়র ক্রিকেটারের ব্যর্থতা একটা বার্তা জানিয়ে গেল, পরিবর্তন প্রয়োজন। এক-দেড় দশক ধরে জাতীয় দলে খেলার পরও যখন সিনিয়ররা মাঠের খেলায় নবিসের মতো পারফর্ম করেন, তখন শুধু অভিজ্ঞতার নামে তাদের আর প্রয়োজনীয়তা আছে কি না- সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার সময় চলে এসেছে। আগামী সোমবার দুপুরের বিসিবির বোর্ড সভায় এবারের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে বাংলাদেশ দলের পারফরম্যান্সের খাতা নিয়ে আলোচনা হবে।

বিজ্ঞাপন

এই টুর্নামেন্টে ঠিক কোথায় ভুল হলো তা নিয়ে সোল সার্চিং করবে বিসিবি। শুধু ক্রিকেটারদের নয়, দলের কোচিং প্যানেলের কয়েকজন কোচের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সিদ্ধান্তও নিতে চলেছে বিসিবি। আর এই তালিকায় বিসিবির সবচেয়ে গুডবুকে আছেন হেড কোচ ফিল সিমন্স। ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান এই কোচের সঙ্গে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের চুক্তির মেয়াদ ছিল চ্যাম্পিয়নস ট্রফি পর্যন্ত। সিমন্সের সঙ্গে চুক্তি এবং সম্পর্ক দীর্ঘমেয়াদি করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বিসিবি। তার এই সংক্ষিপ্ত মেয়াদকালে তিনটি দ্বিপক্ষীয় সিরিজ এবং চ্যাম্পিয়নস ট্রফির মতো বৈশ্বিক আসরে অংশ নেয় বাংলাদেশ দল। এই সংক্ষিপ্ত সময়ে সাফল্য বলতে গেলে কেবল ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়। তা ছাড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজে টেস্ট সিরিজও ১-১ এ ড্র হয়েছিল। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ, আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ এবং সর্বশেষ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে বড় ব্যর্থতা নিয়েই ফিরে বাংলাদেশ।

তবে এই মেয়াদকালে হেড কোচ সিমন্সের দল পরিচালনা, পরিষ্কার চিন্তা-ভাবনা, শৃঙ্খলা, কাউকে নিয়ে আলাদাভাবে বাড়তি তোষামোদিতে না যাওয়া, সংবাদ মাধ্যমে নিজের প্রকাশভঙ্গি এবং পুরো দলের ওপর নিজের প্রভাব-এসব অনুষঙ্গকে যোগ করে বিসিবি তার নামের পাশে টিক মার্ক দিয়েছে। এবং তার সবুজ কালিতেই। আর তাই কোচকে রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি। তাতে সায় আছে বিসিবির শীর্ষকর্তাদের।

সিমন্সের সঙ্গে সম্পর্ক দ্বিতীয় মেয়াদে একটু লম্বা করার পক্ষেই বিসিবি। এই প্রসঙ্গে বিসিবির এক শীর্ষকর্তা আমার দেশকে জানান, হেড কোচ সিমন্সের সঙ্গে নতুন চুক্তির মেয়াদ হতে পারে আড়াই বছরের মতো। অর্থাৎ ২০২৭ সালের জুলাই-আগস্ট পর্যন্ত কোচ ফিল সিমন্সকে রেখে দিতে চাইছে বিসিবি।

ফিল সিমন্সকে বিসিবি কোচের পদে নিয়োগ দিয়েছে গত বছরের ১৫ অক্টোবর। শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণ দেখিয়ে চন্ডিকা হাথুরুসিংহেকে বরখাস্ত করার পর ফিল সিমন্সকে দলের হেড কোচ হিসেবে বেছে নেয় ফারুক আহমেদের নেতৃত্বাধীন বিসিবি। সিমন্সের সঙ্গে বিসিবি স্বল্পমেয়াদি চুক্তি করে।

গত বছরের ২১ অক্টোবর ঢাকায় দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ দিয়ে বাংলাদেশ দলের সঙ্গে তার কোচিং যাত্রা শুরু হয়। সেই সিরিজে দুটো টেস্টই হারে বাংলাদেশ। সিমন্সের পরের মিশন ছিল আরব আমিরাতে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজ। তিন ম্যাচের সেই ওয়ানডে সিরিজ বাংলাদেশ হারে। ব্যবধান ছিল ২-১। ২০২৪ এর নভেম্বরে তার কোচিংয়ে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ক্রিকেট সিরিজ খেলতে গেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেই সিরিজের প্রথম টেস্ট ম্যাচে হারে বাংলাদেশ। কিন্তু দারুণ দক্ষতায় দ্বিতীয় টেস্টে ঘুরে দাঁড়ায়। সেই টেস্ট জিতে। সিরিজ ড্র হয় ১-১ এ। সফরে ওয়ানডে সিরিজ বাংলাদেশ ৩-০ তে হারে। আবার টি-টোয়েন্টি সিরিজে হিসাবটা চুকিয়ে দেয় ৩-০ তে জিতে।

ভালো-মন্দ মিলিয়েই এই তিন দ্বিপক্ষীয় সিরিজে কোচ ফিল সিমন্সের সময়টা কেটেছে। কোচ হিসেবে এই সময় তিনি গোটা দলে খুব বড় কোনো বদল আনতে পেরেছেন- বিষয়টা আবার তেমন কিছুও নয়। তবে ড্রেসিংরুম নির্ঝঞ্জাট রাখা, মাঠের পারফরম্যান্সকেই সবচেয়ে বেশি মূল্যায়ন করা, কোনো এককের কৃতিত্বের অপেক্ষায় চেয়ে থাকার বদলে পুরো দল বা ইউনিটকে শক্তিমান করার চেষ্টা এবং সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের সঙ্গে বোঝাপড়া, সক্রিয়তা-তার এসব কিছুকে বিসিবি প্লাস পয়েন্ট হিসেবে বিবেচনা করেছে। আর তাই হেড কোচ হিসেবে সিমন্সের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ আরেকটু দীর্ঘায়িত করার বিসিবির সিদ্ধান্তের ফাইল চূড়ান্ত।

হেড কোচ ফিল সিমন্সের কাজে বিসিবির বর্তমান প্রশাসনের সন্তোষ থাকলেও পেস বোলিং কোচ আন্দ্রে অ্যাডামসের ব্যাপারে কিছুটা ভিন্নমত রয়েছে। নিউজিল্যান্ডের সাবেক এই ক্রিকেটারের সঙ্গে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিসিবির চুক্তির মেয়াদ রয়েছে। অবাক হওয়ার কিছু নেই যদি সেই চুক্তি আগেভাগেই রদ হয়ে যায়!

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন