বাংলাদেশ ফুটবলে আসলে অনেক দিন আমি এমন এক্সাইটমেন্ট দেখিনি। এটা সত্যি কথা হামজা আসার পর দেশের ফুটবলকে ঘিরে দারুণ একটা এক্সাইটমেন্ট তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষের কেন্দ্রবিন্দুতে এখন একটাই টপিক, আর তা হলো ফুটবল এবং হামজা। কোনো সন্দেহ নেই আমাদের সামনে এখন অনেক বড় একটা সুযোগ এসেছে। এই এক্সাইটমেন্টকে কাজে লাগিয়ে আমরা যেন ফুটবলের উন্নতিকে এগিয়ে নিতে পারি। সেই লক্ষ্যই এখন আমাদের স্থির করতে হবে। সব প্রসেস আমরা যদি ঠিক রাখতে পারি তাহলে আমার মনে হয় যে ফুটবলে মানুষের একটা ভালোবাসা তৈরি হয়ে গেছে তা আমাদের আরো অনেক দূর এগিয়ে নিতে যাবে। হামজার আগমনে আমাদের খেলোয়াড়রাও বুস্টআপ হয়েছে, সঙ্গে সঙ্গে আরো আমাদের বাংলাদেশি খেলোয়াড় যারা বাইরে রয়েছেন তারাও যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করছে এবং বাংলাদেশের হয়ে খেলার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করছে। এটা কিন্তু বড় একটা আশার ব্যাপার। প্রবাসী খেলোয়াড়দের অন্তর্ভুক্তিতে বাংলাদেশ যদি আন্তর্জাতিক ফুটবলে ভালো সাফল্য পায় তাহলে এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কিছু হতে পারে না। আমি আশা করি এই যাত্রাটা অব্যাহত থাকবে এবং আমরা এই প্রসেসে উন্নতির ধাপে আরো এগিয়ে যাব।
দেশের ফুটবলকে ঘিরে এখন সবাই নতুন করে স্বপ্ন বুনছে। তরুণরা ফুটবলের জন্য আগেও আগ্রহী ছিল। আমি নিশ্চিত এখন তাদের সেই আগ্রহের মাত্রা আরো বাড়বে। তবে মনে রাখতে হবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টা হলো মাঠের পারফরম্যান্স। একজন খেলোয়াড় তো আসলে পুরো একটা দলকে একাই রোজ রোজ সাফল্য এনে দিতে পারবে না। ফুটবল টিমগেম। পুরো দলের একসঙ্গে জ্বলে ওঠার ওপরই নির্ভর করছে ম্যাচের পারফরম্যান্স কেমন হবে। হামজাকে আমরা পাচ্ছি একেবারে তৈরি একজন খেলোয়াড় হিসেবে।
সৌভাগ্যের বিষয় হলো আমাদের স্থানীয় খেলোয়াড়রাও সৌদি আরবে প্রায় দুই সপ্তাহের একটা ট্রেনিং ক্যাম্প করেছে। হামজা তাদের সতীর্থ হচ্ছে এই সংবাদে পুরো দল মানসিকভাবে বাড়তি শক্তি পাচ্ছে। দলে যখন হামজার মতো একজন ওয়ার্ল্ড ক্লাস এবং ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের খেলোয়াড় থাকবে, এফএ কাপ উইনার থাকবে, লিডার থাকবে, উইনিং খেলোয়াড় থাকবে, একজন বিনয়ী ব্যক্তিত্ব থাকবে তখন পুরো দলের মানসিকতায় বাড়তি মনোবল তৈরি হবে। অনেক খেলোয়াড়ের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ট্যাটাস দেখে এবং তাদের সঙ্গে কথাবার্তা বলে মনে হচ্ছে, হামজার আগমনে তারাও শক্তিমান হয়েছে।
হামজা না আসলে যেটা হতো, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের আগে হয়তো আমরা ব্যাকফুটে থাকতাম। এখন যেহেতু হামজা চলে এসেছে তাই আমার মনে হয়েছে ভারত আমাদের থেকে কিছুটা হলেও পিছিয়ে রয়েছে, আমার এগিয়ে রয়েছি। এই কারণেই বললাম, ওই যে খেলোয়াড়রা হামজা আসার কারণে মোরালি যে বুস্টআপ হয়েছে এজন্য কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্সে ইমপ্যাক্ট রাখবে। আমি নিশ্চিত সেটা আপনি এটা ২৫ মার্চের ম্যাচেই দেখতে পাবেন। হামজা আসার পর তার প্রথম সাক্ষাৎকারেই বলেছে যে সে ম্যাচটা জিততে চায়। এই ধরনের চ্যাম্পিয়ন খেলোয়াড়রা যখন আপনার দলে থাকবে অন্য খেলোয়াড়রা বুস্টআপ হবেই। তবে আসল কথা হলো মাঠে পারফর্ম করতে হবে এবং সেটা হামজাকে সঙ্গে নিয়েই। হামজা যে প্যাটার্নে ফুটবল খেলে এবং ম্যাচের আগে যে চার-পাঁচটা সেশন করবে, তার সঙ্গে খেলোয়াড়রা যত তাড়াতাড়ি মানিয়ে নিতে পারবে তাতেই মঙ্গল।
তবে আবার বলছি হামজা এখন এই দলের বড় তারকা। কিন্তু তাই বলে পুরো ম্যাচের সব প্ল্যান শুধু তাকে ঘিরেই হবে-এমন নয় কিন্তু। কোচ এখন পুরো দল এবং তাকে নিয়ে কী পরিকল্পনা করছেন, সেটা কোচের ব্যাপার।
এতদিন যেহেতু হামজা ছিল না তাই ওকে ছাড়াই প্ল্যান সাজিয়েছেন কোচ। এখন হামজা এসেছে। আজ পুরো দলের সঙ্গে প্রথম ট্রেনিং সেশনে জয়েন করবে এবং তারপর থেকে পুরো দল একত্রিত হয়েই একটা প্ল্যানিংয়ে যাবে। সবাইকে ঘিরেই কিন্তু কোচ প্ল্যানিং করবে। হামজা হয়তো প্ল্যানের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে। বাট আমার কাছে মনে হয় এখানে বাকিদের মন খারাপ করার কিছু নেই। একটা দলে যখন এমন একটা খেলোয়াড় থাকে তখন তার ভূমিকাটা ভিন্ন থাকে এবং আমার কাছে মনে হয় অন্য খেলোয়াড়রা তাকে ওই সাপোর্টটা দেওয়ার চেষ্টা করবে।
হামজা ভার্সেটাইল প্লেয়ার। সে মূলত খেলে সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার পজিশনে। তবে সে রাইট ব্যাকেও খেলতে পারে। এখন আপনি যদি আমাকে একজন কোচ হিসেবে বলেন, হামজা যে মানের প্লেয়ার, সে সেন্ট্রাল ব্যাকেও খেলতে পারে। তার যে হাইট, প্রতিপক্ষের কাছ থেকে তার যে বল কেড়ে নেওয়ার ক্ষমতা, এগুলো আমার কাছে মনে হয় বিশ্ব ফুটবলে যদি এমন দুই-তিনজন ফুটবলার বলেন তাদের মধ্যে হামজা থাকবে। ফুটবলে সবচেয়ে কঠিন কাজ হলো প্রতিপক্ষের কাছ থেকে কীভাবে বলটা নেবেন। সেটা হামজা খুব ভালোভাবে করতে পারে। যখন বল হারাবেন তখন সে কিন্তু খুব দ্রুত বলের পেছনে চলে আসতে পারে। এই ধরনের গুণের খেলোয়াড় আপনার দলে থাকলে তখন অন্য খেলোয়াড়রা মোটিভেটেড হয়। আমাদের দলে যেহেতু লেফট ব্যাক রাইট ব্যাকে প্রোপার খেলোয়াড় রয়েছে তাই হামজা মিডফিল্ডে খেললে ভালো হবে। সেক্ষেত্রে সে অ্যাটাকেও যেতে পারবে, মিডফিল্ডকেও সহায়তা করতে পারবে এবং রক্ষণভাগের খেলোয়াড়রাও তার কাছ থেকে সাহায্য পাবে। তাই আমার কাছে মনে হয় হামজাকে মিডফিল্ডে কেন্দ্র করেই কোচ প্ল্যান সাজাবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

