চলমান এশিয়ান গেমসের পর বাংলাদেশ নারী দলের টি-টোয়েন্টি অধিনায়কের দায়িত্ব ছাড়ছেন নিগার সুলতানা জ্যোতি। মঙ্গলবার বিসিবির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন তিনি। তার পরিবর্তে অধিনায়ক হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন নাহিদা আক্তার এবং সোবহানা মোস্তারি।
ব্যাটিংয়ে আরও মনোযোগী হতে টি-টোয়েন্টি অধিনায়কের দায়িত্ব থেকে অব্যহতি চেয়েছেন জ্যোতি। অধিনায়ক এবং ব্যাটার হিসেবে সময়টা ভালো কাটছিল না, অন্যদিকে মাঠের বাইরের নানা বিতর্কেও নাম জড়িয়ে পড়ছিল; এশিয়া কাপ শেষের পর নারী বিভাগের চেয়ারম্যান জানালেন, ম্যানেজমেন্টের পর্যবেক্ষণে আছেন জ্যোতি। সব চাপ থেকে মুক্ত হতে শেষমেশ অধিনায়কত্বই ছেড়ে দিলেন তর্কসাপেক্ষে দলের সেরা ব্যাটার।
জ্যোতিকে নেতৃত্ব থেকে সরানোর ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বিসিবি। এশিয়ান গেমস থেকে দল দেশে ফেরার পরই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করবে বোর্ড। বিসিবির সূত্র জানাচ্ছে, সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় অধিনায়কত্ব ছাড়ার বিষয়ে জ্যোতির সিদ্ধান্তকে গ্রহণ করেছে বিসিবি। তবে পরবর্তী অধিনায়ক নির্বাচনের বিষয়ে কোনো আলোচনা এখনও হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই একটি কৌতুহল তৈরি হয়েছে, কার হাতে উঠতে যাচ্ছে অধিনায়কত্বের আর্মব্যান্ড।
বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নারী দলের টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্বের দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন নাহিদা আক্তার এবং সোবহানা মোস্তারি। মূলত পারফরম্যান্স এবং অভিজ্ঞতা এগিয়ে রাখছে এই দুজনকে।
চলতি বছরে বাংলাদেশের হয়ে ২৩টি টি-টোয়েন্টি খেলে ২৮ গড়ে ৫৬৮ রান করেছেন সোবহানা, যা দলীয় সর্বোচ্চ। অন্যদিকে, চলতি বছরে ১৭টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেকে ২২ উইকেট পেয়ে দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী নাহিদা আক্তার। সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী মারুফার চেয়ে ৩ ম্যাচ কম খেলে ২ উইকেট কম পেয়েছেন। তবে গড় এবং ইকোনমিতে মারুফার চেয়েও এগিয়ে আছেন এই স্পিনার।
অভিজ্ঞতার বিচারে অবশ্য নাহিদা মোস্তারিকে ছাড়িয়ে গেছেন। নিগার সুলতানার পর দেশের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ টি-টোয়েন্টি খেলা ক্রিকেটার নাহিদা। দেশের জার্সিতে ১১১টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। সোবহানা ৭০টি ম্যাচ খেললেও বর্তমান টি-টোয়েন্টি দলের নিয়মিত সদস্য তিনি।
অভিজ্ঞতার বিচারে ফাহিমা খাতুন এবং রিতু মনিও আসতে পারেন আলোচনায়। তবে এই দুজনের ক্ষেত্রেই বয়সটা বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। দুজনেরই বয়স ৩৩ বছর। নিগারের বিদায়ে অন্তর্বর্তীকালীন অধিনায়ক হিসেবে বিসিবি কাউকে চাইলে, অভিজ্ঞতার বিচারে সেটা পেতে পারেন ফাহিমা এবং রিতু। তবে লম্বা সময়ের জন্য অধিনায়ক বিবেচনা করলে এই দুজনের তেমন সুযোগ থাকবে না।
অপরদিকে, তরুণদের মধ্যে স্বর্ণ আক্তার এবং রাবেয়া খানরাও উঠতি পারফর্মার। দুজনেই টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডের নিয়মিত অংশ। আছে ৫০টির বেশি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতাও। ফলে তাদেরকেও বিবেচনায় রাখতে পারে বিসিবি।
পরবর্তী অধিনায়ক হিসেবে কে আসতে পারেন, এ বিষয়ে নিজের মতামত দিতে গিয়ে নারী দলের প্রধান নির্বাচক সাজ্জাদ আহমেদ শিপন বলেন, 'এখানে আলোচনার বিষয় আছে। আপদকালীন কাউকে আনা হবে নাকি লম্বা সময়ের জন্য, বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে এই ব্যাপারে। বোর্ড যদি পরিকল্পনা করে সামনের ১ বছর বা বিশ্বকাপ পর্যন্ত কাউকে রাখতে চায়, সেটা একরকম হবে; সিনিয়র খেলোয়াড়রা আসবে সেক্ষেত্রে। লম্বা সময়ের জন্য ভাবলে আরেক রকম হবে, সেক্ষেত্রে একটু অভিজ্ঞ কিন্তু ইয়াং খেলোয়াড় আসতে পারে। সিনিয়র খেলোয়াড় বলতে নাহিদা, সোবহানা, ফাহিমা, ঋতু এরা আছে। আবার একেবারে ইয়াং হিসেবে রাবেয়া-স্বর্ণা এরা আছে। এদের মধ্যে কেউ আসতে পারে। বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে লম্বা সময়ে জন্য হবে নাকি আপদকালীন।'
গত ৩ বছর ধরে বাংলাদেশ দলের সহ-অধিনায়ক হিসেবে কাজ করছেন নাহিদা আক্তার। তার অধিনায়ক হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে শিপন বলেন, 'সালমা যখন দায়িত্ব ছাড়ল, জ্যোতির নেতৃত্বে নাহিদা সহ-অধিনায়ক হলো। গত ৩ বছর ধরে সে সহ-অধিনায়ক হিসেবে কাজ করছে। ওই হিসেবে চিন্তা করলে নাহিদার সম্ভাবনা তো বেশিই থাকে। তবে এখনও এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। '
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

-c390ed-720x405.webp)