পাল্লেকেলেতে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয়ের পরও সেমিফাইনালে উঠতে কঠিন সমীকরণ ছিল পাকিস্তানের সামনে। সেমি নিশ্চিত করতে ১৪৭ রানে আটকে দেওয়ার দরকার ছিল পাকিস্তানের সামনে। তবে সে সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি পাকিস্তান। পাঁচ রানে ম্যাচ জিতলেও শেষ পর্যন্ত আর সেমিফাইনালে ওঠা হয়নি পাকিস্তানের। সেমিফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হওয়ায় দলের সমালোচনায় মুখর হয়ে উঠেছেন দেশটির সাবেক ক্রিকেটাররা।
পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার বাসিত আলী জানান, এই পাকিস্তান দলের সেমিফাইনালে খেলার যোগ্যতাই ছিল না। এ নিয়ে তার ভাষ্য, ‘হার নিয়ে আমি চিন্তিত নই। কারণ, আমাদের তো জেতার সামর্থ্যই নেই। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ফাহিম ছক্কা মেরেছিল বলে জিতেছিলাম আমরা। সবারই ব্যাটিং পজিশন ওপর-নিচ হয়, কিন্তু ফাহিম আশরাফকে ওপরে খেলানো হয় না; কারণ সে তো পছন্দ নয়। এটা মাইক হেসনের দল, পাকিস্তানের দল বলবেন না।’
তিনি আরো বলেন, ‘শেষ চার ওভারে ৩৬ রানের স্থলে যদি ৬৫ রান করতে পারত পাকিস্তান, তাহলেও তারা সেমিফাইনাল খেলার যোগ্য ছিল না। কারণ, নিউজিল্যান্ড তাদের চেয়ে অনেক ভালো। কিউইরা তাদের চেয়ে ভালো ক্রিকেট খেলেছে, পরিশ্রমও বেশি করেছে। যখন ক্রিকেট আসে, তখন নিউজিল্যান্ডের মানসিকতা দৃঢ় হয়ে যায়।’
দেশটির সাবেক অধিনায়ক সালমান বাট বলেন, ‘পুরো টুর্নামেন্ট যদি দেখেন, আমাকে যদি ছোট করে বলতে বলেন, আমরা পারফরম্যান্সের ধারেকাছেও ছিলাম না। আমাদের মিডল অর্ডার কখনো পারফর্ম করেনি এবং আমরা আমাদের রানের জন্য সাহিবজাদার (ফারহান) ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল ছিলাম।’
পাকিস্তান দলের চাপ নেওয়ার সামর্থ্য নেই বলেও মন্তব্য করেন সালমান। তার কথায়, ‘যখন চাপ আসে, তখন কীভাবে আমরা আমাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ব্যাপারগুলোতে উন্নতি করতে পারি। আমরা যখন চাপে থাকি, আমাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ যতটা ভালো হওয়া উচিত, ততটা হয় না। এজন্যই আমরা এমন ফল দেখি।’
পাকিস্তানের সাবেক উইকেটরক্ষক ব্যাটার কামরান আকমল বলেন, ‘টি-টোয়েন্টির দাবির সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের পরিবর্তন করেছে দলগুলো। আর আমাদের খেলোয়াড় বা আমাদের টিম সে মানের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারছে না। মনে হচ্ছে যেন অন্য দলগুলো চাঁদে পৌঁছে গেছে, আর আমরা এই পৃথিবীতেই পড়ে রয়েছি। আমরা কেবল দুর্বল-লিলিপুট দেশকেই হারাতে পারি, আর কাউকে নয়।’
দেশটির সাবেক কিংবদন্তি পেসার শোয়েব আখতার শুধু পাকিস্তান দল নয়, পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভীর সমালোচনাও করেছেন। দলের সমালোচনায় তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানের ম্যানেজমেন্ট সম্পূর্ণ অসচেতনতা দেখাচ্ছে। গত ১৫ জনের দল বাছাই সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণিত হয়েছে। সঠিক খেলোয়াড়কে সঠিক দায়িত্বে খেলালে তারা ভালো খেলতে পারে।’
এ দায় পিসিবি চেয়ারম্যান এড়াতে পারেন না- এমন ইঙ্গিত করে শোয়েব আখতার বলেন, ‘আমার মহসিন নকভির বিরুদ্ধে কিছু বলার নেই। শুনেছি তিনি একজন ভালো মানুষ। পাকিস্তান ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী চেয়ারম্যানদের মধ্যে একজন। তার প্রভাব, সম্পদ ও ক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু যদি তিনি দৃঢ় ম্যানেজমেন্ট গঠন করতে না পারেন এবং দল চারটি ধারাবাহিক টুর্নামেন্টে সেমিফাইনালে যেতে ব্যর্থ হয়, তাহলে নিশ্চিতভাবেই বোর্ডের ভেতর সমস্যা আছে।’
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

