কোচদের লক্ষ্য বেঞ্চ শক্তিশালী করা

স্পোর্টস রিপোর্টার, চট্টগ্রাম থেকে

কোচদের লক্ষ্য বেঞ্চ শক্তিশালী করা

ওয়ানডে সিরিজ শেষে একদিন বিশ্রামে ছিল বাংলাদেশ দল। নিউজিল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে বেশ ফুরফুরে মেজাজে ছুটির দিনটা কাটিয়েছে বাংলাদেশ। এবার মিশন টি-টোয়েন্টি সিরিজ। অসহনীয় গরমে চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে সোমবার শুরু হবে এই সিরিজ। এর আগে আজ সংবাদ সম্মেলনে এসে কথা বলেন স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদ। তিনি জানান, এখন তাদের লক্ষ্য বেঞ্চ শক্তিশালী করা।

টি-টোয়েন্টি সিরিজের স্কোয়াডে চমক রেখেছিলেন নির্বাচকরা। অভিজ্ঞ তিন পেসার মোস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানাকে রাখেনি টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডে। মূলত ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট আর তরুণদের সুযোগ দেওয়ার কথা ভেবেই তাদের রাখা হয়নি। বদলি হিসেবে সুযোগ পান রিপন মন্ডল ও আব্দুল গাফফার সাকলাইন। তাদের ওপরই আস্থা রাখতে চান স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদ। এমনকি ওয়ানডেতে শক্তিশালী করতে স্কোয়াড গড়ার কাজ চলছে বলেও মনে করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

আজ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় শেষ তিনটা ওয়ানডে সিরিজ জিতেছি আমরা। এটা বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের জন্য ভালো খবর। আমরা এখন টি-টোয়েন্টি খেলতে এসেছি। এখানে দারুণ কিছু তরুণ তারকা আছে। নিজেদের প্রকাশ করতে এটা তাদের জন্য ভালো মঞ্চ। একই সময়ে আমরা বেঞ্চ শক্তিশালী করতে চাই।’

চট্টগ্রামে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডের উদাহরণ টেনে মুশতাক বলেন, ‘শেষ ওয়ানডে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ওই ম্যাচে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। তানভীর খেলেছে, রিশাদ খেলেনি। যখন আমরা বিশ্বকাপে যাব, বেঞ্চ শক্তি ও সবার প্রচুর ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা থাকবে। তাতে তারা জাতীয় দলের হয়ে খেলার জন্য প্রস্তুত থাকবে।’

বেঞ্চ শক্তিশালী করার লক্ষ্য রাখা মুশতাক জানান, ড্রেসিংরুমে ক্রিকেটাররা আছেন বেশ ফুরফুরে মেজাজে। ওয়ানডে সিরিজ জয়ের সুখস্মৃতি টি-টোয়েন্টিতে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাবে এমনটাই মনে করেন তিনি। মুশতাকের কথায়, ‘ছেলেরা মানসিকভাবে দারুণ আছে। যখন আপনি ম্যাচ জিতবেন, তখন এটা বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাবে।’

ক্রিকেটাররা বেশ চনমনে আছেন সেটা স্পষ্ট গতকালকে বাংলাদেশ দলের অনুশীলন দেখে। অনুশীলনে মনোযোগী থাকা ক্রিকেটারদের শরীরী ভাষায় স্পষ্ট ছিল কতটা প্রাণবন্ত ছিলেন তারা। ড্রেসিংরুমের পরিবেশ দারুণ হওয়ার পরও উন্নতির দিকে নজর রাখতে চান মুশতাক আহমেদ। তার কথায়, ‘এটা হাসিখুশি ড্রেসিংরুম। যখন আপনি জিতবেন, তখন অনেক কিছুই চোখে পড়বে না। কিন্তু কোচ হিসেবে আমরা চাই জয়ের পরও কিছু উন্নতি করতে। এখানে সব সময় এক শতাংশ হলেও জয়ের সুযোগ থাকে।’

এছাড়া ওয়ানডে কিংবা টি-টোয়েন্টি কোনো ফরম্যাটকেই আলাদা করে দেখতে চান না মুশতাক আহমেদ। তার মতে, টি-টোয়েন্টিতে ভালো করে আব্দুল গাফফার সাকলাইন-রিপন মণ্ডলরা ভালো করতে পারেন ওয়ানডে ক্রিকেটেও। তার কথায়, ‘সাদা বলের ক্রিকেট তরুণদের প্রচুর আত্মবিশ্বাস দেবে। টি-টোয়েন্টিতে সাকলাইন-রিপনের দারুণ কিছু ক্রিকেটার এসেছে। তারা নতুন। ম্যাচ জয়ের পাশাপাশি বেঞ্চ শক্তিশালী করাটাও জরুরি।’

এখন বাংলাদেশের ক্রিকেট সঠিক পথে চলছে জানিয়ে মুশতাকের ভাষ্য, ‘আল্লাহর রহমতে বাংলাদেশের ক্রিকেট এখন সঠিক পথে আছে। সামনে কোনো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নেই। ৫০ ওভারের জন্য উন্নতি করার সময় আছে। সাকলাইন ও অন্য তরুণ ক্রিকেটাররা জাতীয় দলে ডাক পেয়েছে। তারা এখানে ভালো করতে পারলে আশা করি, ৫০ ওভারের ক্রিকেটের জন্যও আত্মবিশ্বাস পাবে। এটা টি-টোয়েন্টি দল গঠনের দারুণ সুযোগ এবং শক্তিশালী বেঞ্চ বানানোর জন্যও।’

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন